শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে ইউপি নির্বাচনে প্রার্থীদের সাথে আচারণ বিধি সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ নভেম্বর, ২০২১, ৩:৫৬ পিএম
চাঁদপুরে ইউপি নির্বাচনে প্রার্থীদের সাথে আচারণ বিধি সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা
সজীব খান : চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সদর উপজেলার ইউপি নির্বাচন উপলক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সাথে আচারণ বিধি ও আইন শৃঙ্খলা সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
২ নভেম্বর বেলা ১১টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশের সভাপতিত্বে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা শাহনাজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ পিপিএম বার, স্থানীয় সরকারের উপ পরিচালক দাউদ হোসেন চৌধুরী,  জেলা নির্বাচন অফিসার তোফয়েল আহমেদ, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাছির উদ্দিন সারোয়ার,  এনামুল হাসান, সদর উপজেলাএসিল্যান্ড হেলাল চৌধুরী, সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, ডিডিএসএসআই শাহ আরমান,
সদর উপজেলা প্রকৌশলী এ,এসএম রাশেদুল রহমান, উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মুকবুল হোসেন প্রমুখ।
চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্য বক্তব্য রাখেন মৈশাদী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নৌকা মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ নুরুল ইসলাম পাটওয়ারী, মৈশাদী ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু জাফর সালে, চান্দ্রা ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী  আব্দুর রহমান বেপারী, বাগাদী ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী মানিক মিয়া, বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের হাতপাখার চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ ওয়াজি উল্লাহ, জিএম খোরশেদ আলম।
সংরক্ষিত সদস্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ৫নং রামপুর সংরক্ষিত মহিলা সদস্য সুলতানা বেগম, তরপুচন্ডী ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য সুরাইয়া বেগম, চান্দ্রা ইউনিয়নের সংরক্ষিত সদস্য রোকেয়া বেগম।
সাধারণ সদস্যদের মধ্য বক্তব্য রাখেন বালিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য  দেলোয়ার হোসেন দুলাল মৃধা, তরপুচন্ডী ইউনিয়নের সদস্য হারুন খান।
চাঁদপুর সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের নারী পুরুষ মিলে প্রায় ১লাখ ৮৪ হাজার মত ভোটার রয়েছে, কেন্দ্র ১ শত ৫টি। ১০টি ইউনিয়নে মোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রয়েছে ৪শত ১৪ জন, এর মধ্য চেয়ারম্যান ৩৪ জন,  সংরক্ষিত নারী সদস্য ৭৭জন, সাধারণ সদস্য ৩শত ৪ জন প্রার্থী রয়েছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেওলায়াত পাঠ করেন সদর উপজেলা জামে মসজিদের সহকারী ইমাম হাফেজ রায়হান, গীতাপাঠ করেন দৈনিক চাঁদপুর কন্ঠের চীফরিপোর্টার বিমল চন্দ্র।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’