শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে বিদ্যালয়ে ডায়েরির টাকা না আনায় শিক্ষার্থীকে মারধর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ৫:২৫ পিএম
শাহরাস্তিতে বিদ্যালয়ে ডায়েরির টাকা না আনায় শিক্ষার্থীকে মারধর

স্টাফ রিপোটার : শাহরাস্তির চিতোষী পশ্চিম ইউনিয়নের আয়নাতলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডায়রীর টাকা না আনায় প্রধান শিক্ষকের হাতে বেদম মারধরের শিকার হলেন ঐ বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী। এ বিষয়ে ঐ শিক্ষার্থীর চাচা মো: রফিকুল ইসলাম একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। লিখিত অভিযোগে জানায় আয়নাতলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেনীর ছাএী মারিয়া আক্তার মুক্তা (১১) ক্লাস রোল (২২) প্রতিদিনের ন্যায় ক্লাসে উপস্থিত হলে ডায়েরীর টাকা না আনার অজুহাতে প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন তাকে বেদম মারধর করেন। এছাড়াও একই ক্লাসের আরো ৩/৪ জনকে প্রধান শিক্ষকের জন্য খাওয়া ও অগ্রিম ডায়েরীর টাকা না আনায় মারধর করা হয়েছে বলে জানায়। এ সময় কয়েকজন শিক্ষক প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেনের কাছ থেকে শিক্ষার্থীদের ছুটাতে গেলে তিনি তাদের সাথে খারাপ আচরন করেন।

এ বিষয়ে ঐ শিক্ষার্থীর মা কুহিনুর আক্তার জানান, শিক্ষার্থী মারিয়া আক্তার মুক্তা অসুস্থ হয়ে বাড়িতে আসলে সে জানায় বিদ্যালয়ে ডায়েরীর টাকা না নেয়ায় প্রধান শিক্ষক তাকে বেদম করেছে। মারধরের বিষয়টি বাড়ীতে এসে কাউকে না বলে, সেজন্য কয়েকজন শিক্ষক তাকে নিষেধ করেছেন। পরবর্তীতে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়ীতে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন তার ২ জন বাচ্ছা এ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ে, ছেলে আবুবকর প্রথম শ্রেনীতে অধ্যায়নরত গত ১ সপ্তাহ পূর্বে ডায়েরীর জন্য অগ্রিম ৭০ টাকা দেয়া হলে ও অধ্যাবদি ডায়েরী হাতে পাওয়া যায়নি। মেয়ে মারিয়া আক্তার মুক্তা ৫ম শ্রেনীতে অধ্যায়নরত তাকে এর পূর্বে বেশ কয়েকবার ডাষ্টার দিয়ে মারধর করা হয়েছে, বিষয়টি বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকরা অবগত রয়েছেন।

এ বিষয়ে অভিযোগকারী চাচা রফিকুল ইসলাম জানান, মুক্তা অসুস্থ হয়ে বাড়ীতে আসলে এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেনকে বিষয়টি জিজ্ঞেস করলে তিনি ভালো ব্যবহার করেন নি। পূর্বে তিনি এ শিক্ষার্থীকে বেশ কয়েকবার মারধর করেছেন। এ প্রধান শিক্ষক দেরীতে বিদ্যালয়ে আসেন ও দ্রুত বিদ্যালয় বন্ধ করেন। গত বার্ষিক পরীক্ষায় শিক্ষাথীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত পরীক্ষার ফিস ও শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার জন্য কাগজ আনতে বাধ্য করেন। তিনি ও তার সহকারী শিক্ষক সাফায়েত যোগসাজশে স্কুল সময়ে ক্লাস ফাকি দিয়ে ভূমি খারিজের দালালি, ভূমি পরিমাপ, থানার দালালি, পাসপোর্ট, এনআইডি, জন্মনিবন্ধন কাজের দালালীর পরিচালনা করছেন। উপরোক্ত বিষয়গুলো পূর্বে ও সহকারী শিক্ষা অফিসার( উঘারিয়া ক্লাষ্টার) জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মো: জাকির হোসেন জানান, মারধরের যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সঠিক নয়। আমার সহকারী শিক্ষকরা বিষয়টি অবগত রয়েছেন। আমি সহকারী শিক্ষক সাফায়েত সহ ৪ জন শিক্ষক ঐ শিক্ষার্থীর বাড়ীতে গিয়ে তার অভিবাভকদের সাথে বিষয়টি সমাধান করেছি।

Model Hospital

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো: লূৎফুর রহমান জানান, শিক্ষার্থীকে মারধরের বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট ক্লাষ্টার সহকারী শিক্ষা অফিসারকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা বেরিয়ে আসলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’