শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মানবিকতার নজির গড়লেন নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান ফেরদাউস আলম সরকার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২১, ৮:৫৯ পিএম
মানবিকতার নজির গড়লেন নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান ফেরদাউস আলম সরকার
নিজস্ব প্রতিবেদক : মানবতার অনন্য নজির গড়লেন ষাটনল ইউনিয়নের নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান মো. ফেরদাউস আলম সরকার। ২ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার  সকাল ১০ ঘটিকায় রিনা নামে একজন মহিলা চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল ইউনিয়নের আবু মার্কেট সংলগ্ন টাওয়ারের কাছে মাতাল অবস্থায় দেখতে পায় স্থানীয় লোকজন। মাতাল অবস্থায় দুলতে দুলতে আবু মার্কেট সংলগ্ন বেরীবাঁধের উপর জৈনিক আনোয়ারের দোকানের সামনে এসে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
উপস্থিত লোকজন দেখে মহিলাটিকে প্রাথমিক সেবা দিয়ে নিয়ে তার বাড়িতে নিয়ে যায় । ক্ষণিক সময় অতিবাহিত হওয়ার পর মহিলাটি কিছুটা সুস্থ হয়। পরে মহিলা থেকে তথ্য নিয়ে জানা যায় তিনি মতলব উত্তর উপজেলার মিন্টু নামে এক ছেলের সাথে প্রেম করতেন। ৬ মাস যাবৎ সম্পর্কের জেড়ে গতকাল তারা পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে রুপগঞ্জের নিজ বাসা থেকে মতলব উত্তরের উদ্দেশ্য রওয়ানা দেন। ভবেরচর এসে মিন্টু রিনাকে চারটি টেবলেট খাওয়ান সেই থেকেই অচেতন রিনা আক্তার।
রিনা আক্তার আরও জানার তার সাথে ছিল নগদ একলক্ষ ষাট হাজার টাকা, দেড় ভরি স্বর্ণ, একটি স্মার্ট ফোন ও একটি ছোট মোবাইল। এগুলো সব নিয়ে তাকে অচেতন করে উদাও হয়েছে তার প্রেমিক। রিনা আক্তার এর বাড়ি রুপগঞ্জ উপজেলার কুলাদি গ্রামে। তার একটি মেয়ে আছে নাম তার স্মৃতি সে দুই সন্তামের জননী। রিনা আক্তার এর স্বামী নেই কাজ করতেন মানুষের বাড়িতে। ৪০ বছর বয়সী রিনা আক্তার ধীরে ধীরে অচেতন থেকে স্বাভাবিক হচ্ছেন এবং মিন্টুর সন্ধান চাচ্ছেন। মিন্টুর বোন এবং বোন জামাই রুপগঞ্জে রিনার পাশেই বসবাস করেন এবং তার পরিচিত।
এদিকে ষাটনল ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মো.ফেরদৌস আলম সরকার মানবিক দিক বিবেচনা করে অচেতন রিনা আক্তারের বিষয়টি জানেন এবং তার পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছেন। এদিকে রিনা আক্তারকে মতলব উত্তর থানা পুলিশের কাছে নিয়ে গেলে তারা গ্রহন করেনি এবং করনীয় কি সেজন্য কোন পদক্ষেপ নেয়নি বরং থানা পুলিশ জানিয়ে দিয়েছে এটি উপজেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তরের কাজ। অতপর নিয়ে যাওয়া হয় অচেতন রিনাকে উপজেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তরে, সেখানে সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা না থাকায় রিনাকে নিয়ে আসা হয় ষাটনল ইউনিয়ন পরিষদে।
বর্তমানে রিনা আক্তার ষাটনল পরিষদে গ্রাম পুলিশের পাহারায় আছে।  তার প্রাথমিক চিকিৎসা ও খাবার সহ যাবতীয় বিষয়ে দেখাশুনা করছেন অত্র ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ফেরদৌস আলম সরকার। এছাড়া রিনার তথ্যমতে রুপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করেও কোন সহযোগিতা মিলেনি।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’