শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

এই প্রজন্ম ডাক্তারি পাশ করার পর রাতারাতি কোটিপতি হতে চায় : ডিসি কামরুল হাসান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১২ মার্চ, ২০২৩, ৩:৫০ পিএম
এই প্রজন্ম ডাক্তারি পাশ করার পর রাতারাতি কোটিপতি হতে চায় : ডিসি কামরুল হাসান

নিজস্ব প্রতিনিধি : চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান বলেন আধুনিক ও উন্নত চিকিৎসার জন্য  চিকিৎসকদের সব সময় প্রচুর পড়াশোনা করতে হবে। প্রতিনিয়তই সারা বিশ্বে চিকিৎসা সেবা  আধুনিক থেকে আধুনিকতম হচ্ছে। তাই আধুনিক চিকিৎসা সম্পর্কে সকল চিকিৎসকদের জ্ঞান থাকতে হবে। প্রতিনিয়ত পড়াশোনার মধ্যে থাকতে হবে।

১১ মার্চ শনিবার দুপুরে চাঁদপুর বড় স্টেশন মোল হেডে আদর্শ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এর উদ্যোগে নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠান জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান প্রধান অতিথির  বক্তব্যে এ সকল কথা বলেন।

তিনি তার বক্তব্যে আরো বলেন আমাদের এই প্রজন্মে ডাক্তারি পাশ করার পর ডাক্তাররা রাতারাতি কোটিপতি হতে চায়। তারা রোগীর সেবার  দিকে না তাকিয়ে রোগীর পকেটের দিকে তাকায়। চিকিৎসকদের আন্তরিকতায় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা গৌরবোজ্জ্বল হবে।এ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসায় মিডিসিন তাড়াতারি কাজ করলেও এর প্বার্শপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে।হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় একটু সময় লাগলেও তা একসাথে অনেক রোগের কাজ করে। হোমিও চিকিৎসকদের অনেক বেশি আন্তরিক হতে হবে। ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ সবার আগে দেখতে হবে। আমি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে থাকাকালীন সময় অনেক বার দেখেছি হোমিও চিকিৎসার উন্নয়নের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ডের চেয়ারম্যান ডাঃ দিলীপ কুমার রায় অনেক দেন দরবার করতে।  তার আন্তরিকতায় হোমিওপ্যাথিক অনেকদূর এগিয়ে এসেছে । আমি এই জেলায় থাকাকালীন সময়ে কলেজ অবকাঠামো উন্নয়ন সহ সার্বিক উন্নয়নের জন্য আন্তরিকভাবে চেষ্টা করব।

উদ্বোধক এর বক্তব্যে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ডের চেয়ারম্যান ডাঃ দিলীপ কুমার রায় বলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য-সেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করে গিয়েছেন। তাঁর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চিকিৎসা সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে নিয়ে এসেছেন আমূল পরিবর্তন। সাধারণ জনগণের স্বাস্থ্য-সেবা নিশ্চিত করতে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। সাধারণ মানুষ আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার পাশাপাশি এই চিকিৎসা ব্যবস্থার সুফল ভোগ করছে। তবে এই চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রশিক্ষিত ডাক্তারদের মাধ্যমে চালু থাকতে হবে যাতে মানুষ ভুল চিকিৎসায় কোনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

Model Hospital

তিনি নবীন ও প্রবীণ দের উদ্দেশ্যে বলেন ১৯৭৭ সালে আমি একজন ছাত্র ছিলাম। তখনকার হোমিও প্যাথিক ও এখনকার হোমিওপ্যাথিক এক নয়।আজকের হোমিওপ্যাথিক হচ্ছে আধুনিক হোমিওপ্যাথিক। দেশে ১৪ টি  হোমিও কলেজ দ্বিতীয় তলা হয়েছে। হোমিও শিক্ষকরা সরকারি সুবিধা পাচ্ছে।খুব শীঘ্রই আইন হতে যাচ্ছে  যেখানে হোমিওপ্যাথিক ও এলোপ্যাথিক কোন পার্থক্য থাকবে না। এলোপ্যাথিকগন রোগীর পকেট কাটে, হোমিও চিকিৎসক নামমাত্র টাকা দিয়ে চিকিৎসা সেবা দেয়। হোমিও চিকিৎসার ব্যাপক উন্নয়নের জন্য  বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে আমরা খুব সহজেই একটি মহাসমাবেশ করব।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কলেজ গভর্নিং বডির  সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম,  পাটোয়ারী দুলাল, বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক বোর্ডের রেজিস্ট্রার কাম সেক্রেটারি ডাঃ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, বোর্ড সদস্য ডাঃ এ কে এম ফজলুল হক (সিদ্দিকী),সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তারিকুজ্জামান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) বশির আহমেদ,  এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রেশমা খাতুন, মোঃ জাকারিয়া হোসেন, চাঁদপুর আদর্শ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সাবেক অধ্যক্ষ ডাঃ মোজ্জামেল হক পাটোয়ারী, কুমিল্লা হ্যানিম্যান কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ মোঃ সাইফুল ইসলাম,নাঙ্গলকোট হোমিও কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল্লাহ প্রমখ।

কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) ডাঃ মোঃ আতাহার আলীর সভাপতিত্বে, প্রভাষক ডাঃ শেখ মহসীনের সঞ্চালনায় পবিত্র কোরআন ও গীতা পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে উদযাপন পরিষদ নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠানের আহবায়ক হারুন অর রশিদ হাওলাদার এর নেতৃত্বে শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ, মহিলাদের চেয়ার খেলা, ছেলেদের হাড়ি ভাঙ্গা খেলা সম্পূর্ণ হয়। এরপর রেফেল ড্র মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’