শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

বাংলাদেশ নারীর ক্ষমতায়নে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিশ্বের রোল মডেল : ড. মহীউদ্দীন খান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২০ মার্চ, ২০২৩, ৪:৫৬ পিএম
বাংলাদেশ নারীর ক্ষমতায়নে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিশ্বের রোল মডেল : ড. মহীউদ্দীন খান

নিজস্ব প্রতিনিধি, কচুয়া : সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড.মহীউদ্দিন খান আলমগীর এমপি বলেছেন,আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আমলে নারীর ক্ষমতায়ন,দক্ষতা বৃদ্ধি,মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বের রোল মডেল। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রশাসনসহ সর্বস্তরে নারীরা দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করছে। নারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি করে পুরুষের সমকক্ষ হয়ে নিজেদেরকে সর্বক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে ।

তিনি ২০ মার্চ সোমবার জাতীয় মহিলা সংস্থার তথ্য আপা কার্যালয়ের উদ্যোগে কচুয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ডিজাটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তথ্য ও প্রযুক্তির মাধ্যমে ক্ষমতায়ন প্রকল্প ২য় পর্যায়ে বিশেষ উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্তা কথা বলেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.নাজমুল হাসানের সভাপতিত্বে ও উপজেলা আইসিটি বিভাগের সহকারি প্রোগ্রামার মোশারফ হোসেনের পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো.শাহজাহান শিশির, প্যানেল চেয়ারম্যান সুলতানা খানম,পৌর মেয়র নাজমুল আলম স্বপন, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার একেএম আব্দুল মোতালেব,উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক সোহরাব হোসেন চৌধুরী সোহাগ,মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আলহাজ্ব জাবের মিয়া,কচুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মো.আলমগীর তালুকদার,উপজেলা তথ্যসেবা কর্মকর্তা রুবিয়ারা খাতুন প্রমূখ।

এসময় উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো.ইবনে আল জায়েদ হোসেন, জেলা পরিষদের সদস্য তৌহিদুল ইসলাম খোকা,পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আকতার হোসেন সোহেল ভূইয়া,কচুয়া প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক সুজন পোদ্দার,ইউপি চেয়ারম্যান মো.কবির হোসেন,আলমগীর হোসেন,সাবেক জেলা পরিষদের সদস্য রওনক আরা রত্না, কড়ইয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আবু বকর মিয়াজী,কেন্দ্রীয় বঙ্গমাতা সাংস্কৃতিক জোটের সাংগঠনিক সম্পাদক নাছির উদ্দিন প্রধান,উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সাধারন সম্পাদক শাহ জালাল প্রধান জালাল,উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারন সম্পাদক মোফাচ্ছেল হোসেন খান, উপজেলা তথ্যসেবা সহকারী আফরোজা আক্তার,নাদিয়া সুলতানা,উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সৈয়দ রবিউল ইসলাম রাসেল,ইঞ্জি.ইব্রাহিম খলিল বাদল,সাধারন সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন সবুজসহ উপজেলা বিভিন্ন দপ্তরের বিভাগী কর্মকর্ত ও আওয়ামী লীগের দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Model Hospital

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’