ঢাকা ০৭:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

তাহিরপুর সীমান্তে বেপরোয়া দুর্ধর্ষ চোরাচালানীচক্র

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা সীমান্তের চারাগাঁও বিওপি সংলগ্ন কলাগাঁও এলাকা দিয়ে কয়লা পাচারের অভিযোগে ৬ চোরাচালানীকে আটক করা হয়েছে। এসময় নৌকাভর্তি ৮ মেট্রিকটন কয়লা ও পরিবহনে ব্যবহৃত নৌকা জব্দ করা হয়। শুক্রবার (১৫ জুলাই) ভোররাতে টাঙ্গুয়ার হাওর সংলগ্ন পাটলাই নদীপথ দিয়ে ইঞ্জিনচালিত নৌকাযোগে কয়লা পাচারকালে জয়পুর এলাকা থেকে তাদের আটক করে পুলিশ। তাহিরপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ ইফতেখার হোসেন চোরাচালানী আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ধৃত চোরাচালানীরা হলেন- উপজেলার সীমান্ত লাগোয়া সোনাপুর গ্রামের মৃত জজ মিয়ার ছেলে হারুন মিয়া (১৯), ও তার সহোদর মামুন হোসেন (২২)। একই গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে
সাইদুল হক (২৪), এবং মো. উসমান মিয়ার ছেলে  আলমগীর হোসেন (২৪), কলাগাঁও গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে আতিকুল ইসলাম (২০), রতনপুর (কামনাপাড়া) গ্রামের মৃত হাতেম আলীর ছেলে মনির হোসেন (২৯)।
অপরদিকে, কলাগাঁও ট্রলার ঘাটে থাকা কিশোরগঞ্জ জেলার চামড়া ঘাটগামী যাত্রীবাহি ইঞ্জিন নৌকা থেকে ১৮ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ করে বিজিবি। শনিবার (১৫ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে মাদক জব্দ করলেও কাউকে আটক করতে পারেনি বিজিবি জোয়ানরা। চারাগাঁও বিওপি’র ক্যাম্প ইনচার্জ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল জানায়, বৃহস্পতিবার (১৩ জুলাই) মধ্যরাতে তাহিরপুর উপজেলার সীমান্ত লাগোয়া কলাগাঁও গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। অভিযানকালে দুলাল মিয়ার বসতবাড়ি থেকে ৮০৩ বস্তা কয়লা জব্দ শেষে তাকে আটক করা হয়। এসময়  পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে হাবিবুর রহমান ওরফে হাবিব সরদার (৫০) নামে অপর চোরাচালানী পালিয়ে যায়। ধৃত দুলাল কলাগাঁও (মাঝহাটি) গ্রামের মৃত আসমত আলীর ছেলে। পালিয়ে যাওয়া চোরাচালানী হাবিবুর রহমান কলাগাঁও (বাজার হাটি) গ্রামের মৃত ইন্তাজ আলীর ছেলে।
চোরাচালানের মাধ্যমে কয়লা পাচারের দায়ে ধৃত ও পলাতক আসামির বিরুদ্ধে তাহিরপুর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পলাতক আসামি গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ এহসান শাহ।
খবর অন্বেষণে জানা গেল, সীমান্তে অনুপ্রবেশ,আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে চলতি বছরের ২০মে উপজেলার বড়ছড়া সীমান্তে জনসচেতনতামূলক সভা হয়। এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চোরাচালান প্রতিরোধে কঠোর হুশিয়ারি দেন সুনামগঞ্জ বিজিবি ব্যাটালিয়ন-২৮ এর পরিচালক লে. কর্ণেল মাহবুবুর রহমান। প্রধান অতিথি ছিলেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ এহসান শাহ, তাহিরপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ ইফতেখার হোসেন প্রমুখ।
বিজিবি পরিচালকের এমন বক্তব্যের পর থেকে গাঁ ডাকা দেয় চোরাচালানকারী ও এর মুলহোতারা। প্রায় মাস ধরে সীমান্তজুড়ে সুনসান নিরবতা চলে। গেল জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে চারাগাঁও, কলাগাঁও, জঙ্গলবাড়ি, লালঘাট, লাকমা সীমান্ত দিয়ে কয়লা-মাদক পাচারে বেপরোয়া হয়ে ওঠে দুর্ধর্ষ এই চোরাচালানীরা। এলাকাবাসী বলছেন, চোরাচালানীদের হাতে জিম্মি এসব এলাকা। প্রশাসন আন্তরিক হলে চোরাচালানী ও হোতারা ধরাশায়ী হবে অচিরেই। তারা বলছেন, চোরাচালান প্রতিরোধে মাঠ পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের ভূমিকা “ঠাকুর ঘরে কে রে, আমি কলা খাই না” অবস্থা হওয়ায় চোরাচালানের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে গুটিকয়েক চোরাচালানী।
এদিকে, তাহিরপুর কয়লা আমদানিকারক গ্রপের দায়িত্বে নদীপথে থাকা বৈধ কয়লা-চুনাপাথরবাহী নৌকা পাহারায় নিয়োজিত পাহারাদারদের (সেন্ট্রি) ভূমিকা নিয়ে রয়েছে নানা গুঞ্জন। অভিযোগ রয়েছে প্রতি চোরাই নৌকা থেকে ৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন দায়িত্বরত পাহারাদারগণ। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শনিবার দুপুরে এক পাহারাদারকে ফোন দিলে সাংবাদিক পরিচয় জেনে সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেন। অপরদিকে, কয়লাবাহী নৌকা আটক করতে প্রশাসন নৌকা কিংবা স্পীডবোর্ড নিয়ে অাসার সময় চোরাচালানচক্রের কাছে খবর পৌঁছে দিতেও রাতজেগে পাহাড়া দেন হাওরপাড়ের গ্রামের এক ব্যক্তি। এমন দায়িত্বে প্রতিরাতে ২ হাজার টাকা নেন ওই সিন্ডিকেটের কাছ থেকে। না প্রকাশ না করার শর্তে এ প্রতিবেদককে তিনি বলেন, গত একমাস ধরে চোরাচালান চালু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৫ হাজার মেট্রিকটন কয়লা বিভিন্নপ্রান্তে পাচার হয়েছে।
এদিকে, গভীররাতে কয়লা পাচারের স্থিরচিত্র কিংবা ভিডিও চিত্র অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য ধারণ করার চেষ্টা থাকলেও হামলা-মামলার ভয়ে সাহস পাচ্ছেন না মূলধারার গণমাধ্যমকর্মীরা। অপরদিকে, গেল বছরের ন্যায় এবার নদীপথে চোরাই কয়লার নৌকা তাদের কব্জায় নিয়ে ইচ্ছেমতো চাঁদা আদায় করতে না পেরে বেকায়দায় রয়েছেন একাধিক সাংবাদিক পরিচয়ধারী। তবে, চোরাচালান বিষয়ে ইঙ্গিত করে ফেসবুকে ফুসফাস, তর্জন-গর্জন চালিয়ে মনের অমাবস্যা দূর করছেন এমন তথ্য উঠে এসেছে।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এসব এলাকা দিয়ে শুক্রবার দিনগত রাতে (১৫ জুলাই) নৌকাযোগে পাটলাই নদীপথ দিয়ে প্রায় ৩০টি কয়লা বোঝাই নৌকায় অন্তত ৫শ মেট্রিকটন কয়লা পাচারের অভিযোগ উঠেছে। এসব কয়লা পার্শ্ববর্তী নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা বাজারের জনসেবা নৌকাঘাট ও কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব বাজার এলাকায় চলে গেছে। তথ্যমতে, ৩০টি নৌকা থেকে আদায় হয়েছে প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। পুলিশ প্রশাসনের “লাইনম্যান” পরিচয়ধারী কলাগাঁও গ্রামের জনৈক ব্যক্তি অপরদিকে বিজিবি’র সোর্স পরিচয়ধারী দুধের আউটা গ্রামের জনৈক ব্যক্তি এসব টাকা গিলে নির্বিঘ্নে চোরাচালান পরিচালনা করে আসছেন এমন তথ্য এলাকাবাসীর।
অভিযোগ উঠেছে, সরকারের রাজস্ব ফাকিঁ দিয়ে প্রতি রাতের আধাঁরে পাচার হয় শত শত মেট্রিকটন কয়লা। চারাগাঁও বিওপি ক্যাম্প, বালিয়াঘাট বিওপি ক্যাম্প, তাহিরপুর থানা পুলিশ, একাধিক সাংবাদিকের নাম ভাঙিয়ে এসব টাকা লুটে নিচ্ছে জনৈক “লাইনম্যান-সোর্স”।
জানা যায়, গেল বছরের এমন সময়ে ১৫ মেট্রিকটন কয়লাবাহী নৌকা হতে ৩৭-৪৮ হাজার টাকা নিয়েছে জনৈক মূলহোতার অাশির্বাদপোষ্ট এসব “লাইনম্যান-সোর্স”। তবে, চলমান দ্রব্যমূল্যের চড়া বাজারেও বর্তমানে চাদাঁর হার কমে ২৫ হাজারে নেমে এসেছে। প্রতি নৌকায় এখন ২৫ হাজার টাকা করে নেন জনৈক দুই “লাইনম্যা-সোর্স”। লাইনম্যান পরিচয়ধারী ব্যক্তি কোথায় কত দেন সম্প্রতি কলাগাঁও বাজারে চোরাচালানীদের বৈঠকে জবাবদিহিতামূলক দেয়া বক্তব্যের ভিডিও বার্তা এ প্রতিবেদকের হাতে পৌছেঁছে। এমনকি পলাতক এক চোরাচালানী কোন কৌশলে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে মধ্যরাতে পালিয়ে যান, কয়লা পাচারে কত টাকা জনৈক “লাইনম্যান”কে দেয়ার পরেও কেন তার কয়লা জব্দ হয় এসব বিস্তর তথ্যের একটি অডিও রেকর্ডও সংরক্ষিত রয়েছে।
উল্লেখ্য, রাতের প্রথম প্রহরে ঘাঁপটি মেরে থাকা “লাইনম্যান-সোর্স” পরিচয়ধারী সরব হন রাত ১২টার পর। মোঠোফোনের মাধ্যমে চোরাচালানীদের অভয় দেখিয়ে উড়াধুড়া কয়লা-মাদক পাচারের মহোৎসব সেরে নেয় তখন। গভীররাতে কর্তাব্যক্তিদের বিরক্তবোধের বিষয়টি ভেবে যেন উপরমহলে কেউ ফোন না দেন এ কুটচালে চলছে চোরাচালান রাজত্ব।
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদপুরে রিমালে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান সুমন

তাহিরপুর সীমান্তে বেপরোয়া দুর্ধর্ষ চোরাচালানীচক্র

আপডেট সময় : ০৭:৩৯:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুলাই ২০২৩
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা সীমান্তের চারাগাঁও বিওপি সংলগ্ন কলাগাঁও এলাকা দিয়ে কয়লা পাচারের অভিযোগে ৬ চোরাচালানীকে আটক করা হয়েছে। এসময় নৌকাভর্তি ৮ মেট্রিকটন কয়লা ও পরিবহনে ব্যবহৃত নৌকা জব্দ করা হয়। শুক্রবার (১৫ জুলাই) ভোররাতে টাঙ্গুয়ার হাওর সংলগ্ন পাটলাই নদীপথ দিয়ে ইঞ্জিনচালিত নৌকাযোগে কয়লা পাচারকালে জয়পুর এলাকা থেকে তাদের আটক করে পুলিশ। তাহিরপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ ইফতেখার হোসেন চোরাচালানী আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ধৃত চোরাচালানীরা হলেন- উপজেলার সীমান্ত লাগোয়া সোনাপুর গ্রামের মৃত জজ মিয়ার ছেলে হারুন মিয়া (১৯), ও তার সহোদর মামুন হোসেন (২২)। একই গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে
সাইদুল হক (২৪), এবং মো. উসমান মিয়ার ছেলে  আলমগীর হোসেন (২৪), কলাগাঁও গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে আতিকুল ইসলাম (২০), রতনপুর (কামনাপাড়া) গ্রামের মৃত হাতেম আলীর ছেলে মনির হোসেন (২৯)।
অপরদিকে, কলাগাঁও ট্রলার ঘাটে থাকা কিশোরগঞ্জ জেলার চামড়া ঘাটগামী যাত্রীবাহি ইঞ্জিন নৌকা থেকে ১৮ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ করে বিজিবি। শনিবার (১৫ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে মাদক জব্দ করলেও কাউকে আটক করতে পারেনি বিজিবি জোয়ানরা। চারাগাঁও বিওপি’র ক্যাম্প ইনচার্জ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল জানায়, বৃহস্পতিবার (১৩ জুলাই) মধ্যরাতে তাহিরপুর উপজেলার সীমান্ত লাগোয়া কলাগাঁও গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। অভিযানকালে দুলাল মিয়ার বসতবাড়ি থেকে ৮০৩ বস্তা কয়লা জব্দ শেষে তাকে আটক করা হয়। এসময়  পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে হাবিবুর রহমান ওরফে হাবিব সরদার (৫০) নামে অপর চোরাচালানী পালিয়ে যায়। ধৃত দুলাল কলাগাঁও (মাঝহাটি) গ্রামের মৃত আসমত আলীর ছেলে। পালিয়ে যাওয়া চোরাচালানী হাবিবুর রহমান কলাগাঁও (বাজার হাটি) গ্রামের মৃত ইন্তাজ আলীর ছেলে।
চোরাচালানের মাধ্যমে কয়লা পাচারের দায়ে ধৃত ও পলাতক আসামির বিরুদ্ধে তাহিরপুর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পলাতক আসামি গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ এহসান শাহ।
খবর অন্বেষণে জানা গেল, সীমান্তে অনুপ্রবেশ,আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে চলতি বছরের ২০মে উপজেলার বড়ছড়া সীমান্তে জনসচেতনতামূলক সভা হয়। এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চোরাচালান প্রতিরোধে কঠোর হুশিয়ারি দেন সুনামগঞ্জ বিজিবি ব্যাটালিয়ন-২৮ এর পরিচালক লে. কর্ণেল মাহবুবুর রহমান। প্রধান অতিথি ছিলেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ এহসান শাহ, তাহিরপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ ইফতেখার হোসেন প্রমুখ।
বিজিবি পরিচালকের এমন বক্তব্যের পর থেকে গাঁ ডাকা দেয় চোরাচালানকারী ও এর মুলহোতারা। প্রায় মাস ধরে সীমান্তজুড়ে সুনসান নিরবতা চলে। গেল জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে চারাগাঁও, কলাগাঁও, জঙ্গলবাড়ি, লালঘাট, লাকমা সীমান্ত দিয়ে কয়লা-মাদক পাচারে বেপরোয়া হয়ে ওঠে দুর্ধর্ষ এই চোরাচালানীরা। এলাকাবাসী বলছেন, চোরাচালানীদের হাতে জিম্মি এসব এলাকা। প্রশাসন আন্তরিক হলে চোরাচালানী ও হোতারা ধরাশায়ী হবে অচিরেই। তারা বলছেন, চোরাচালান প্রতিরোধে মাঠ পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের ভূমিকা “ঠাকুর ঘরে কে রে, আমি কলা খাই না” অবস্থা হওয়ায় চোরাচালানের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে গুটিকয়েক চোরাচালানী।
এদিকে, তাহিরপুর কয়লা আমদানিকারক গ্রপের দায়িত্বে নদীপথে থাকা বৈধ কয়লা-চুনাপাথরবাহী নৌকা পাহারায় নিয়োজিত পাহারাদারদের (সেন্ট্রি) ভূমিকা নিয়ে রয়েছে নানা গুঞ্জন। অভিযোগ রয়েছে প্রতি চোরাই নৌকা থেকে ৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন দায়িত্বরত পাহারাদারগণ। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শনিবার দুপুরে এক পাহারাদারকে ফোন দিলে সাংবাদিক পরিচয় জেনে সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেন। অপরদিকে, কয়লাবাহী নৌকা আটক করতে প্রশাসন নৌকা কিংবা স্পীডবোর্ড নিয়ে অাসার সময় চোরাচালানচক্রের কাছে খবর পৌঁছে দিতেও রাতজেগে পাহাড়া দেন হাওরপাড়ের গ্রামের এক ব্যক্তি। এমন দায়িত্বে প্রতিরাতে ২ হাজার টাকা নেন ওই সিন্ডিকেটের কাছ থেকে। না প্রকাশ না করার শর্তে এ প্রতিবেদককে তিনি বলেন, গত একমাস ধরে চোরাচালান চালু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৫ হাজার মেট্রিকটন কয়লা বিভিন্নপ্রান্তে পাচার হয়েছে।
এদিকে, গভীররাতে কয়লা পাচারের স্থিরচিত্র কিংবা ভিডিও চিত্র অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য ধারণ করার চেষ্টা থাকলেও হামলা-মামলার ভয়ে সাহস পাচ্ছেন না মূলধারার গণমাধ্যমকর্মীরা। অপরদিকে, গেল বছরের ন্যায় এবার নদীপথে চোরাই কয়লার নৌকা তাদের কব্জায় নিয়ে ইচ্ছেমতো চাঁদা আদায় করতে না পেরে বেকায়দায় রয়েছেন একাধিক সাংবাদিক পরিচয়ধারী। তবে, চোরাচালান বিষয়ে ইঙ্গিত করে ফেসবুকে ফুসফাস, তর্জন-গর্জন চালিয়ে মনের অমাবস্যা দূর করছেন এমন তথ্য উঠে এসেছে।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এসব এলাকা দিয়ে শুক্রবার দিনগত রাতে (১৫ জুলাই) নৌকাযোগে পাটলাই নদীপথ দিয়ে প্রায় ৩০টি কয়লা বোঝাই নৌকায় অন্তত ৫শ মেট্রিকটন কয়লা পাচারের অভিযোগ উঠেছে। এসব কয়লা পার্শ্ববর্তী নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা বাজারের জনসেবা নৌকাঘাট ও কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব বাজার এলাকায় চলে গেছে। তথ্যমতে, ৩০টি নৌকা থেকে আদায় হয়েছে প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। পুলিশ প্রশাসনের “লাইনম্যান” পরিচয়ধারী কলাগাঁও গ্রামের জনৈক ব্যক্তি অপরদিকে বিজিবি’র সোর্স পরিচয়ধারী দুধের আউটা গ্রামের জনৈক ব্যক্তি এসব টাকা গিলে নির্বিঘ্নে চোরাচালান পরিচালনা করে আসছেন এমন তথ্য এলাকাবাসীর।
অভিযোগ উঠেছে, সরকারের রাজস্ব ফাকিঁ দিয়ে প্রতি রাতের আধাঁরে পাচার হয় শত শত মেট্রিকটন কয়লা। চারাগাঁও বিওপি ক্যাম্প, বালিয়াঘাট বিওপি ক্যাম্প, তাহিরপুর থানা পুলিশ, একাধিক সাংবাদিকের নাম ভাঙিয়ে এসব টাকা লুটে নিচ্ছে জনৈক “লাইনম্যান-সোর্স”।
জানা যায়, গেল বছরের এমন সময়ে ১৫ মেট্রিকটন কয়লাবাহী নৌকা হতে ৩৭-৪৮ হাজার টাকা নিয়েছে জনৈক মূলহোতার অাশির্বাদপোষ্ট এসব “লাইনম্যান-সোর্স”। তবে, চলমান দ্রব্যমূল্যের চড়া বাজারেও বর্তমানে চাদাঁর হার কমে ২৫ হাজারে নেমে এসেছে। প্রতি নৌকায় এখন ২৫ হাজার টাকা করে নেন জনৈক দুই “লাইনম্যা-সোর্স”। লাইনম্যান পরিচয়ধারী ব্যক্তি কোথায় কত দেন সম্প্রতি কলাগাঁও বাজারে চোরাচালানীদের বৈঠকে জবাবদিহিতামূলক দেয়া বক্তব্যের ভিডিও বার্তা এ প্রতিবেদকের হাতে পৌছেঁছে। এমনকি পলাতক এক চোরাচালানী কোন কৌশলে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে মধ্যরাতে পালিয়ে যান, কয়লা পাচারে কত টাকা জনৈক “লাইনম্যান”কে দেয়ার পরেও কেন তার কয়লা জব্দ হয় এসব বিস্তর তথ্যের একটি অডিও রেকর্ডও সংরক্ষিত রয়েছে।
উল্লেখ্য, রাতের প্রথম প্রহরে ঘাঁপটি মেরে থাকা “লাইনম্যান-সোর্স” পরিচয়ধারী সরব হন রাত ১২টার পর। মোঠোফোনের মাধ্যমে চোরাচালানীদের অভয় দেখিয়ে উড়াধুড়া কয়লা-মাদক পাচারের মহোৎসব সেরে নেয় তখন। গভীররাতে কর্তাব্যক্তিদের বিরক্তবোধের বিষয়টি ভেবে যেন উপরমহলে কেউ ফোন না দেন এ কুটচালে চলছে চোরাচালান রাজত্ব।