বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

ছেংগারচরে কৃতজ্ঞতা প্রকাশে ভোটারদের দ্বারে নবনির্বাচিত মেয়র

মনিরুল ইসলাম মনির প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ জুলাই, ২০২৩, ১১:৫৯ পিএম
ছেংগারচরে কৃতজ্ঞতা প্রকাশে ভোটারদের দ্বারে নবনির্বাচিত মেয়র
ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র আলহাজ্ব আরিফ উল্যাহ সরকার। ভোটের আগে যেভাবে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতিকে ভোট প্রার্থনা করেছেন, বিজয়ী হওয়ার পর ঠিক সেভাবেই ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। তাকে নির্বাচিত করায় কৃতজ্ঞতা জানানোর পাশাপাশি তিনি সবাইকে পাশে থাকার আহ্বান জানাচ্ছেন।
ভোটের পরদিন ১৮ জুলাই মাঠে নেমেছেন নবনির্বাচিত মেয়র আরিফ উল্যাহ সরকার। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর পাশাপাশি ছেংগারচর পৌর এলাকার ৯টি ওয়ার্ডের প্রতিটি ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন তিনি।
গত ১৭ জুলাই ছেংগারচর পৌর নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ থেকে মনোনীত আরিফ উল্যাহ সরকার নৌকা প্রতীক নিয়ে ১৩ হাজার ৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী নুরুল হক সরকার ৬ হাজার ৩৪৭ ভোট পেয়ে পরাজিত হন।
নির্বাচিত হওয়ার পর অনেক জনপ্রতিনিধি সাধারণত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাওয়া ভুলে যান। এক্ষেত্রে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের প্রতি এই প্রার্থীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশে অবাক ও খুশি পৌরবাসী। ছেংগারচর পৌর এলাকার পাঁচগাছিয়া গ্রামের ভোটার ওবায়ল্লাহ সিদ্দিকী কাজল বলেন, ‘সত্যিই অবাক হয়েছি। আরিফ উল্যাহ সরকার ভোটের আগে এসে ভোট চেয়েছেন, বিজয়ী হওয়ার পরও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন। চাইছেন সার্বিক সহযোগিতাও। এমন মেয়রই আমরা চেয়েছিলাম, যিনি সব সময় সুখে-দুঃখে আমাদের পাশে থাকবেন।
জীবগাও এলাকার ফুটপাতের চা দোকানী সালাম বলেন, ‘নবনির্বাচিত মেয়র আরিফ আমার কাছে এসে আমাকে কৃতজ্ঞতা জানান। ফুটপাতে বসে চাও খেয়েছেন। তিনি সবার সাথেই সমানভাবে মিশবেন।
পৌর এলাকার গ্রামের নুরু বলেন, ‘এমন মেয়র দেখে আমাদের ভালো লাগছে। আমরা তো গরিব মানুষ। আমাদের খোঁজখবর নেবার পাশাপাশি পৌরবাসীর উন্নয়ন করবে এটাই আমরা আশা করি।
নবনির্বাচিত মেয়র আরিফ উল্যাহ সরকার বলেন, ‘আমি ছেংগারচর পৌরসভার সর্বস্তরের মানুষের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সবার সহযোগিতায় আধুনিক ও মডেল পৌরসভা গড়তে চাই। নির্বাচনের আগে যেভাবে ভোটারদের কাছে গিয়ে ভোট চেয়েছিলাম, বিজয়ী হওয়ার পর আবারও তাদের কাছে যাচ্ছি কৃতজ্ঞতা জানাতে। সকল শ্রেণিপেশার মানুষের সাথে সবসময় আমার ভালবাসা ও যোগাযোগ থাকবে।
মঙ্গলবার দুপুর থেকে রাত অবধি ছেংগারচর বাজার, বোর্ডস্কুল, রোস্তম মার্কেট, পাঁচ গাছিয়া, জীবগাও, রুহিতারপাড়, চকবাজার, মরাদোন, তালতলী, ঝিনাইয়া, ওটারচর সহ বিভিন্ন এলাকায় যান।
এসময় ছেংগারচর পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান ঢালী, সাংগঠনিক সম্পাদক সরকার আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা যুবলীগের প্রচার সম্পাদক রেফায়েত উল্যাহ দর্জী জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি আল- মাহমুদ টিটু মোল্লা, জহিরুল ইসলাম চৌধুরী, আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিন প্রধান, পৌর যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল হোসেন ফরাজী, পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাকির হোসেন খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ৮নং ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত কাউন্সিলর শাহজাহান মোল্লা, ছেংগারচর বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ লস্কর, পৌর শ্রমিকলীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সরকার, পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ রাজিব মিয়া, সাবেক সভাপতি তোফায়েল আহমেদ সরকার, ৯নং ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত কাউন্সিলর বোরহান উদ্দিন, ৭নং ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন, ৫নং ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত কাউন্সিলর আব্দুল মান্নান বেপারী, ৬নং ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত কাউন্সিলর আমান উল্লাহ সরকার, ৭, ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডের মহিলা কাউন্সিলর নুরুন নাহার।

কচুয়ায় হত্যা মামলায় নিরপেক্ষ তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন, ঘুষ দাবি ও পক্ষপাতের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৬ পিএম
কচুয়ায় হত্যা মামলায় নিরপেক্ষ তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন, ঘুষ দাবি ও পক্ষপাতের অভিযোগ
কচুয়ায় একটি হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং একপেশে প্রতিবেদন দাখিলের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ন্যায়বিচার ও পুনরায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপিসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মামলার বাদী মোছা. আছমা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৪ মার্চ কচুয়া আমলি আদালতে ২৫৩/২০২৫ নম্বর মামলা হিসেবে হত্যা মামলাটি দায়ের করেন আছমা। পরে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান সিআইডি চাঁদপুরের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. গোলাম আজম।
বাদীর অভিযোগ, তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই ওই কর্মকর্তা ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। এর মধ্যে ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হলেও বাকি টাকা দেওয়ার জন্য তাকে চাপ ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য-প্রমাণ যথাযথভাবে যাচাই না করেই একপেশে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
গত ২৩ অক্টোবর ২০২৬ আইজিপির দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জমা দেন বাদী। এতে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা এবং অন্য কোনো নিরপেক্ষ কর্মকর্তার মাধ্যমে মামলাটির পুনঃতদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
বিবাদী আসমা আক্তার বলেন, আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। আমার সন্তানের হত্যাকারীর বিচারের জন্য মামলা দায়ের করলে, সরজমিনে তদন্ত জন্য আদালত নির্দেশ দেয়। পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. গোলাম আজম মামলা তদন্ত করতে আসলে আমাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে। আমরা টাকা দেওয়ার পরও বিবাদীর কাছ থেকে আরো অধিক সুবিধা নিয়ে  একতরফা তদন্ত রিপোর্ট দেয়। আমি ন্যায় বিচারের জন্য আদালত, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।