শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর-২ আসনে আ.লীগের মনোনয়ন পেলেন মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া

মনিরুল ইসলাম মনির প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২৩, ৭:০৫ পিএম
চাঁদপুর-২ আসনে আ.লীগের মনোনয়ন পেলেন মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন যুদ্ধে জয়ী হয়ে নৌকার মাঝি হলেন সাবেক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম।মতলব উত্তর ও দক্ষিণ উপজেলা নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের আসন চাঁদপুর-২ (জাতীয় সংসদের ২৬১নং আসন)।

এ আসন থেকে স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে অনেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রী হলেও তেমন কাংখিত উন্নয়ন হয়নি বলে স্থানীয়রা দাবি করলেও মায়া চৌধুরী সংসদ সদস্য ও ত্রাণমন্ত্রী থাকাকালীন দু’উপজেলার প্রতিটি ক্ষেত্রে উন্নয়নের জোয়ার বইয়ে দেন। রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, স্কুল-কলেজসহ প্রতিটি সেক্টরে তিনি নিজে এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে দেখভাল শুরু করেন।

এছাড়া তিনি নিজে সপ্তাহে অন্তঃত ৩/৪দিন মতলবে অবস্থান করে নানা উন্নয়নমূলক কাজের খোঁজ নেন । বিশেষ করে জনগণের স্বাস্থ্যসেবাসহ জনকল্যাণমূলক কাজগুলোর আরো কিভাবে উন্নত করা যায় সেজন্য কর্মকর্তাদের প্রতিনিয়ত দিকনির্দেশনা দেন তিনি। ফলে দু’উপজেলার উন্নয়নমূলক কাজগুলো এখন অনেকটা দৃশ্যমান ছিল। এর মধ্যে অন্যতম ‘মতলব সেতু’। যা’ প্রধানমন্ত্রীর চাঁদপুর সফরকালে উদ্বোধন করা হয়েছে।মাঠ পর্যায়ের রাজনীতির সমীকরণে চাঁদপুর-২ আসনটি আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী নির্ণয়ে কোন বেগ পেতে হয়নি।

স্থানীয় ভোটের জরিপে একমাত্র মায়া চৌধুরী এগিয়ে থাকায় নীতি-নির্ধারকরা তাঁকেই দলীয় মনোনয়ন দিয়েছেন। মনোনয়ন প্রত্যাশী অপরাপর প্রার্থীদের নৌকার পক্ষে কাজ করতে বলা হয়েছে।ভোটারদের মাঝে এখনও আধুনিক মতলবের রুপকার হিসেবে মোফাজ্জল হোসেন মায়া চৌধুরী জনপ্রিয়তার তুঙ্গে রয়েছেন।

Model Hospital

এ আসনের ভোটাররা দাবি করছে, বিগত সময়ে বছরে মায়া চৌধুরী মতলবের উন্নয়নে যে ভূমিকা রেখেছেন তা’ অতীতে বা কোন সংসদ সদস্য বা সর্বশেষ সংসদ সদস্যও করেননি। ফলে ভোটারদের আস্থা ও দলের সাংগঠনিক অবস্থাকে শক্তিশালী করায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আবারো মায়া চৌধুরীর উপর’ই আস্থা রেখে নৌকার মাঝি করলেন তাঁকে।এদিকে আওয়ামী লীগের ঐ সূত্রটি আরো নিশ্চিত করছে, হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে মায়া চৌধুরী যেমন নিজেকে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন ঠিক তেমনি সাংগঠনিক দক্ষতার পরিচয় দিতেও তিনি সফল হয়েছেন।

ঢাকা মহানগরীর সাবেক এই সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন মায়া চৌধুরী সাংগঠনিক দক্ষতার মাধ্যমে সু-সংগঠিত করতে সক্ষম হওয়ায় রাজধানী এখন আওয়ামী লীগের অবস্থান আগের যেকোন সময়ের তুলনায় অনেক ভাল। যার নেপথ্যে ছিলেন এই মায়া চৌধুরী।অপরদিকে চাঁদপুর-২ আসনে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী দৌঁড়-ঝাঁপ দিলেও অধিকাংশের’ই সাংগঠনিক অবস্থান তেমন নয়। কেবলমাত্র মায়া চৌধুরী মতলব উত্তর-দক্ষিণকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করেননি, তিনি প্রত্যেকটি নেতাকর্মীকে নিজ হাতে গড়ে তুলেছেন।আর এ কারণেই এবারের দ্বাদশ সংসদের প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একমাত্র ভরসা মোফাজ্জল হোসেন মায়া চৌধুরী।

আওয়ামী লীগ বিগত সময়ের সাংগঠনিক সফলতার উপহার হিসেবে মায়া চৌধুরীকে এবার দলীয় মনোনয়ন দিলেন। তৃণমূলের রাজনীতির বাইরে অবস্থান করে কেউ দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার যোগ্যতা রাখে না, যা আবারো প্রমাণিত হলো।এদিকে স্থানীয় ভোটাররা দাবি করছে, চাঁদপুর জেলার একমাত্র অবহেলিত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত ছিলো মতলব উত্তর-দক্ষিণ।

উপজেলা দুইটিকে আমূল পরিবর্তনে মায়া চৌধুরী যে অবদান রাখছেন ভোটাররা যেমন তা ভুলছে না, যা প্রতিদানে এবারের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে দিতেও তারা প্রস্তুত বলে ভোটাররা দাবি করছে।এছাড়া মায়া চৌধুরী ফের নির্বাচিত হলে মতলব উত্তর ও দক্ষিণে তার অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করলেই স্থানীয়দের ভোগান্তি লাঘব হবে ভোটাররা দাবি করছে। এখন শুধু মতলবের নদীকেন্দ্রিক পর্যটন ও শিল্পায়ন কিংবা অর্থনৈতিক জোন হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে বিশাল কর্মসংস্থানের দ্বার উম্মোচিত হবে বলে স্থানীয়রা জানান।

আর মায়া চৌধুরীর এবারের বিজয়ের মধ্যে দিয়ে তা করতে সক্ষম হবেন বলেও ভোটাররা বিশ্বাস রাখে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’