শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে প্রতীক নিয়ে মাঠে ৬৯৩ প্রার্থী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২১, ৩:০১ পিএম
ফরিদগঞ্জে প্রতীক নিয়ে মাঠে ৬৯৩ প্রার্থী

এস এম ইকবাল : সারা দেশের ন্যায় ৫ জানুয়ারী ২০২২ইং ৫ম ধাপে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৭৩ জন, সংরক্ষিত আসনের ১২৪ জন এবং সাধারণ আসনে ৪৯৬ জন প্রার্থীসহ মোট ৬৯৩ জন প্রার্থীর মাঝে প্রতিক বরাদ্ধ দিয়েছে উপজেলা নির্বাচন অফিস।

২০ ডিসেম্বর সোমবার সকাল থেকে উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে প্রার্থীদের পক্ষে সমর্থকদের শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীকে যারা নির্বাচন করছেন, তারা বিশাল বিশাল শো-ডাউন নিয়ে তাদের প্রতীক গ্রহণ করেছেন। প্রায় পুরোদিনই উপজেলা পরিষদ এলাকাটি ছিল নির্বাচনী আমেজে মুখরিত। উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রতীক প্রাপ্ত প্রার্থীরা হলেন,

১ নং বালিথুবা পশ্চিম ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাহাউদ্দিন বাহার (নৌকা), সাবেক চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন স্বপন (আনারস) ও ওয়ালি উল্ল্যাহ (হাতপাখা)। ২ নং বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নে চেয়ারম্য্যান পদে জি এম হাসান তাবাচ্চুম (নৌকা), বর্তমান চেয়ারম্যান মো: হারুন অর-রশিদ (আনারস), সাবেক চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন খান নয়ন (চশমা), মো: ইব্রাহিম (মটর সাইকেল) ও মাসুম বিল্লাহ (হাতপাখা)। ৩ নং সুবিদপুর পূর্ব ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান শারাফত উল্লা (নৌকা), সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হক মিয়াজী (মটর সাইকেল), মো: হামিদ (গোলাপ ফুল), হোসেন কাজী (টেলিফোন), কবির আহমেদ (হাতপাখা), আরমান হোসেন (ঘোড়া), বেলায়েত হোসেন (চশমা) ও জাকির হোসেন বাবু (আনারস)।

৪ নং সুবিদপুর পশ্চিম ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পারভেজ হোসাইন (নৌকা), এস. এম জসিম উদ্দিন আনসারী (চশমা), বর্তমান চেয়ারম্যান মহসীন হোসেন (আনারস), সিদ্দিক মিজি (গোলাপ ফুল) ও শফিক বেপারী (হাতপাখা)। ৫ নং গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল গনি পাটওয়ারী (নৌকা), সাবেক চেয়ারম্যান শাহজাহান পাটওয়ারী (চশমা), সাইমুন (হাতপাখা), মো. কবির আহাম্মেদ (মটর সাইকেল), মো. আবদুল মান্নান (আনারস), মো. মোস্তাফিজুর রহমান (ঘোড়া), মো. মহিউদ্দিন (টেবিল ফ্যান) ও মো. সিরাজুল ইসলাম(টেলিফোন)। ৬ নং গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে রফিকুল ইসলাম (নৌকা), বুলবুল আহাম্মেদ (আনারস), মো. মাসুদ রানা (হাতপাখা) ও মোঃ আব্বাছ (মটর সাইকেল)।

Model Hospital

৭ নং পাইকপাড়া উত্তর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে মো: আলাউদ্দিন পাটওয়ারী (নৌকা), সাইফুল ইসলাম সর্দার (আনারস), সাবেক চেয়ারম্যান আবু তাহের পাটওয়ারী (মটর সাইকেল), মো: মহসীন(ঘোড়া), মো: তোফায়েল ইসলাম আহম্মেদ(চশমা), ইব্রাহিম শেখ (হাতপাখা)। ৯ নং গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে বর্তমান চেয়ারম্যান সোহেল চৌধুরী (নৌকা), মো: শাহ আলম শেখ (চশমা), এমরান হোসেন (আনারস), মো: শাহ আলম গাজী (হাতপাখা) ও মাসুদ আলম (মটর সাইকেল)। ১০ নং গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আলাউদ্দিন আহমেদ (নৌকা), মো: হুমায়ুন কবির পাটওয়ারী (চশমা), মো: এমরান হোসেন (আনারস), হুমায়ুন কবির (হাতপাখা) ও আবু জাফর (মটর সাইকেল)।

১১ নং চরদুঃখিয়া পূর্ব ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে মাহমুদুল হাসান মিরাজ ( নৌকা), বর্তমান চেয়ারম্যান বাছির আহমেদ (আনারস), মামুনুর রশিদ সুমন হাওলাদার (রজনীগন্ধা), সাবেক চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ পাটওয়ারী (ঘোড়া), নুরুল আমিন পাটওয়ারী (টেবিল ফ্যান), হাসান আহমেদ সুমন (মটর সাইকেল), মোস্তফা কামাল পাটওয়ারী (অটোরিক্সা), আবুল হোসেন পাটওয়ারী (টেলিফোন), এস এম নুরুন্নবী (চশমা)) ও আমান উল্ল্যা (হাতপাখা)। ১২ নং চরদুঃখিয়া পশ্চিম ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে মোরশেদ আলম মুরাদ (নৌকা), বর্তমান চেয়ারম্যান হাসান আব্দুল হাই (চশমা), মো: শাহজাহান (আনারস), মিজানুর রহমান ভূঁইয়া (মটর সাইকেল) ও হাবিবুর রহমান (হাতপাখা)। ১৫ নং রূপসা উত্তর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে মো: ওমর ফারুক ফারুকী (নৌকা), নূরের রহমান পাটওয়ারী (আনারস), এস এম কাউসারুল আলম কামরুল (মটর সাইকেল) ও মো: কামাল (হাতপাখা)।

১৬ নং রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে মো: শরীফ হোসেন (নৌকা), সাবেক চেয়ারম্যান ওয়াহিদুর রহমান (চশমা), আ: কাদের খোকন (আনারস), ইউছুফ পাটওয়ারী (হাতপাখা) ও জহিরুল ইসলাম (মটর সাইকেল) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’