শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহমাহমুদপুরে নৌকার সমর্থনে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আলোচনা সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৩ নভেম্বর, ২০২১, ৪:৫০ পিএম
শাহমাহমুদপুরে নৌকার সমর্থনে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আলোচনা সভা
গাজী মোঃ মহসিন : আসন্ন ইউপি নির্বাচনে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মোঃ মাসুদুর রহমান নান্টুর নৌকা প্রতীকের বিজয়ের লক্ষে নির্বাচনী আলোচনা সভা করেছে শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগ।
বুধবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে জেলা-উপজেলা ও ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দের অংশ গ্রহনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, এবার নৌকার বিজয়ের বিকল্প নেই। কারন দলীয় আন্তঃকোন্দলের কারনে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সমর্থীত চেয়ারম্যান থেকে বঞ্চিত। শুধু তা-ই নয় ইউনিয়নটি বর্তমান সরকার দলীয় নেতা কর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় জোর গলায় কথা বলতে পারে নি। তাই এবার ভোটারদের কাছে গিয়ে ভোট চাওয়ার পাশাপাশি আগামী ১১ তারিখে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করে ভোট কেন্দ্র থেকে বাড়ী ফিরতে হবে।
ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ মামুন আল হাসানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ মেহেদী হাসান বেপারীর উপস্থাপনায় সকলের দোয়া ও সার্বিক সহযোগিতা চেয়ে বক্তব্য রাখেন নৌকা প্রতীকে মনোনীত প্রার্থী মোঃ মাসুদুর রহমান নান্টু পাটওয়ারী। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মানীত সদস্য মোঃ শরিফ হোসেন পাটওয়ারী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জহির উদ্দিন মিজি, সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন খান, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আখতারুজ্জামান পাটওয়ারী, সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামাল হাজী, সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এবিএম রেজওয়ান, সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন গাজী। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক আরিফুর রহমান সুজন, সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আল হেলাল ইনু, হাজীগঞ্জ পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান রাব্বি।
শাহমাহমুদপুরে নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত করতে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের নেতৃত্বে শুভেচ্ছা মিছিলে জেলা-উপজেলা আ’লীগ ও ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন  যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আরিফুল ইসলাম তুষার, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ইসমাইল হোসেন, ফজলে রাব্বি, মেহেদী পাটওয়ারী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী আশরাফ বেপারী, সদস্য শাখাওয়াত হাজী, নুরুজ্জামান পলাশ, পিয়াস মিজি এমরান, কামরুজ্জামান মানিকসহ ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।
জরুরী সভা শেষে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে এক মিছিল ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু হয়ে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়ক পদক্ষিণ করে মহামায়া পূর্ব বাজারে গিয়ে শেষ হয়। উক্ত নৌকার মিছিলে অংশগ্রহণ করেন চাঁদপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলী আরশাদ মিয়াজী, জেলা যুবলীগ নেতা কামাল হোসেন খান লালু, শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি শাহিদুল আলম মাহফুজ খন্দকার।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’