শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর-২

স্বতন্ত্র প্রার্থী ইসফাক আহসানের পিতাকে প্রচারণায় বাধাঃ প্রাননাশের হুমকি

মো. রাশেদুল ইসলাম প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৩, ১০:১১ পিএম
স্বতন্ত্র প্রার্থী ইসফাক আহসানের পিতাকে প্রচারণায় বাধাঃ প্রাননাশের হুমকি

প্রচারণার প্রস্তুতির সময় নৌকা প্রতিক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার সমর্থকরা স্বতন্ত্র প্রার্থী এম ইসফাক আহসানের ঈগল প্রতিকের পিতার পথরোধ করে প্রচারণায় বাধা ও হুমকির অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার দুপুরে ফরাজীকান্দি ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, চাঁদপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী এম ইসফাক আহসানের পিতা ইঞ্জি এএসএম কামরুল আহসান ২৩ ডিসেম্বর শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে উপজেলার ফরাজীকান্দি ইউনিয়নের রামদাশপুর এলাকায় ঈগল প্রতিকের পক্ষে লিফলেট বিতরণ ও প্রচারণার উদ্যেশ্যে প্রস্তুতি নেওয়ার সময় নৌকার প্রার্থী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার সমর্থক কাশেমের ছেলে নোমানের নেতৃত্বে ১৫/ ২০ জন নৌকার সমর্থক প্রচারণা না করার জন্য বাধা ও হুমকি দেন এবং সানাউল্লাহ সরকারকে ধরে টেনে হেছরে আনন্দ বাজারে নিয়ে যায় এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী এম ইসফাক আহসান ঈগল প্রতিকের পিতা ইঞ্জি এএসএম কামরুল আহসান স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, শুক্রবার দুপুরে ফরাজীকান্দি ইউনিয়নের আমাদের ইচ্ছা ছিল আনন্দ বাজারে গিয়ে ভোটের প্রচার করবো। কিন্তু মায়ার সমর্থকদেক হুমকি ও হামলার ভয়ে ওখান থেকে প্রচার না করেই চলে আসি। কিন্তু অতীব শংকার বিষয় যে, আমরা চলে আসার পর ১৫/২০ জন নৌকার কর্মী লাঠি সোটা নিয়ে আমার ভাগ্নি জামাই সানাউল্লাহ সরকার যার বাড়িতে গিয়েছিলাম তাকে ধরে বাজারে নিয়ে যায়।

সেখানে একজন প্রায় ৬৫ বছরের লোককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, হুমকি ধমকি, ভয়ভীতি দেখিয়ে তার নিজের বাড়ি ছাড়া করে ও শাসানি দেয় যেন সে নির্বাচনের আগে নিজের বাড়িতে না আসে। এই যদি অবস্থা হয় তাহলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রতিশ্রুতির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কি ভাবে সম্ভব৷ আমরা তো কোন প্রচারই করতে পারছি না।

Model Hospital

আমরা কোন ক্যাম্প করতে পারছি না, পোস্টার ঝুলাতে পারছি না, মিছিল করতে পারছি না যেখানে সমগ্র এলাকায় নৌকার সবকিছুই আছে। ভোটাররা ও কর্মিরা সবাই শংকিত। তাদের একটাই কথা ভোট দিতে পারবে তো৷ আমাদের কথা আমাদেরকে শংকা বিহীন ও নিরাপদ প্রচারের ব্যবস্থা করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীরসহ নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’