বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে নতুন বইয়ের ঘ্রাণে মাতোয়ারা শিক্ষার্থীরা

এস এম ইকবাল প্রকাশিত: সোমবার, ১ জানুয়ারি, ২০২৪, ৮:৪৮ পিএম
ফরিদগঞ্জে নতুন বইয়ের ঘ্রাণে মাতোয়ারা শিক্ষার্থীরা

নতুন বছরের প্রথম দিনে বিপুল উচ্ছ্বাস-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে বই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। বছরের প্রথম দিনে উপজেলার ১৯০টি প্রাক প্রাথমিক, ৬০ টি কিণ্ডার গার্টেন ও ৫০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নতুন বইয়ের ঘ্রাণে আর উল্লাসে মেতে উঠছে শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (১ জানুয়ারি) সকালে বছরের প্রথম দিনে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঘুরে নতুন পাঠ্যপুস্তক পেয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে এ উল্লাস দেখা গেছে।

ফরিদগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মৌলি মণ্ডল’র সভাপতিত্বে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজিত বই উৎসবের উদ্বোধন করেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) জিএস তসলিম আহমেদ।

অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) আজিজুন্নাহার, শিক্ষা কর্মকর্তা আজিজুল ইলসাম, সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক নুরুন্নবী নোমান, উপজেলা রিসোস সেন্টারের কর্মকর্তা তারেক নাথ মল্লিক, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা হাসিনা বেগম, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আমির হোসেন মাস্টার।

Model Hospital

এসময় উপস্থিত অতিথিরা বলেন, ছোট বেলায় আমরা নতুন ক্লাসে উঠার দুই-তিন মাস আগে বড় ভাই-বোনদের কাছে বই চেয়ে রাখতাম। ভাগ্যক্রমে কখনো কখনো অন্যের পুরানো দুই-একটা বই পাওয়া যেত। বর্তমান সময়ে শিক্ষা ক্ষেত্রে সরকারের আমূল পরিবর্তনের ফলে বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীরা নতুন বই পাচ্ছে। এখন আর শিক্ষার্থীদের পুরানো বই পড়া লাগে না।

পৌর এলাকার ভাটিরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শাহাপুর সোনালী বালিকা বিদ্যালয়ে বই উৎসবের উদ্বোধন করেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের পাটওয়ারী।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, শাহাপুর সোনালী বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান, ভাটিরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিলীপ রায়, প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রবীর চক্রবর্তী প্রমুখ।

একই ভাবে দক্ষিণ কাছিয়াড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বই উৎসবে বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. কামরুজ্জামান’র সভাপতিত্বে বই বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত)জিএস তসলিম আহমেদ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, প্রেসক্লাবের সভাপতি মামুনুর রশিদ পাঠান, সাবেক সভাপতি নুরুন্নবী নোমান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান প্রমুখ।

মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সিয়াম উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আবদুস সোবাহানের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে বাবা আবদুস সোবাহান তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ শনাক্ত হয়। এ সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে রওনা দেওয়ার আগেই রাত নয়টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

Model Hospital

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মামুন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা যায় তরুণের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার আগেই তার মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বাবা আবদুস সোবাহান বলেন, আমার পোলাডার এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর আছিল। ওরে কইছিলাম ডাক্তারের কাছে যাইতে, কিন্তু হুনল না। অবস্থা বেশি খারাপ হইলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনলাম। হাসপাতালে আনার পরই নাক-মুখ দিয়া রক্ত পড়া শুরু হয়। ঢাকা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ঠিক করছিলাম, কিন্তু তার আগেই আমার সব শ্যাষ অইয়া গেল।