ঢাকা ০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ২৯ চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

মতলব উত্তরে এস এস সি আমরা ৯৩ বন্ধুদের মিলন মেলা

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার এখলাছপুর ইউনিয়নের পশ্চিম এখলাছপুর মেঘনা নদীর পাড়ে ’’আমরা ৯৩ মতলব উত্তর এসএসসি বন্ধুদের পারিবারিক মিলন মেলা শুক্রবার (৮ মার্চ) অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে এখলাছপুর ইউনিয়নের পশ্চিম এখলাছপুর মেঘনা নদীর মোহনায় সকাল ৮টা থেকে শুরু করে সকাল ১০টার মধ্যে ’’আমরা ৯৩ মতলব উত্তর এসএসসি বন্ধুরা স্ত্রী,সন্তান ও প্রিয়জনকে সাথে নিয়ে হাজির হন।
অনুষ্ঠানে উপজেলার সকল বিদ্যালয়ের এসএসসি-৯৩ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা আমন্ত্রিত ছিল। এতে ৩ শাতাধিকের অধিক প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অংশ গ্রহণে মতলবের এখলাছপুর মেঘনা মোহনা মুখরিত হয়ে উঠে আগত বন্ধুদের এ পারিবারিক বন্ধু মিলন মেলায়। এসময় অনেকেই স্কুল জীবনের স্মৃতিচারণায় মেতে উঠেন। বহুদিন পরে প্রিয় বন্ধুকে কাছে পেয়ে বুকে জড়িয়ে নেয় অনেকেই। অনেকেই চিৎকার দিয়ে বলে দেয় ‘আরে তুই’। এভাবেই পুরো মেঘনার পাড় যেন একটা মিলনমেলায় পরিণত হয়।
সারাদিন গল্প, আড্ডা, ছবি তোলা ও আবেগঘন স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে শেষ হয় ‘আমরা ৯৩’ মতলব উত্তর এসএসসি বন্ধুদের পারিবারিক মিলন মেলার স্মৃতিময় দিনটি।দিনব্যাপি নানান আয়োজনের মধ্যে ছিলো প্রথমে পবিত্র কোরআন থেকে তেলোয়াত, ও পবিত্র গীতা পাঠ,এরপর প্রয়াত বন্ধুদের জন্য দোয়া,পরিচিতি পর্ব, মধ্যাহ্ন ভোজ,প্রীতি ফুটবল ম্যাচসহ অন্যান খেলাধুলা,স্কুল জীবনের স্মৃতিচারণ,সন্ধ্যায় ফানুস উড়ানো-আতশবাজি, ৯৩ বন্ধুদের এবং তাদের সন্তানদেরপরিবেশনায় কবিতা আবৃত্তি, গান,নৃত্য ও তাদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, র‌্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়। এরপর র‌্যাফেল ড্রসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে এবং অংশগ্রহণকারী ৯৩ বন্ধুদের সকলের উপহার বিতরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
’’আমরা ৯৩ মতলব উত্তর এসএসসি বন্ধুদের মিলন মেলার আয়োজক কমিটির সভাপতি মোঃ মিলন খানের সভাপতিত্বে ও ’’আমরা ৯৩ মতলব উত্তর এসএসসি সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল মান্নান সাগর এবং আমরা ৯৩ এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাড.জসিম উদ্দিন এর যৌথ সঞ্চালনায় এ মিলন মেলায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন,বক্তব্য রাখেন,“আমরা ৯৩ মতলব উত্তর” এর সাধারণ সম্পাদক হাজ্বী মোঃ আঃ হালিম, দৈনিক বাংলাদেশের আলো জাতীয় পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক লায়ন মফিজুর রহমান খান বাবু, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী “আমরা ৯৩ মতলব উত্তর” সদস্য মোঃ উজ্জল ফরাজী, সাংগঠনিক সম্পাদক সালাউদ্দিন মুকুল। এতে শুভেচ্ছাবক্তব্য রাখেন, এখলাছপুর ইউপির চেয়ারম্যান মফিজুর রহমান মুন্না ঢালী,“আমরা ৯৩ মতলব উত্তর” এর সদস্য উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শ্যামল কুমার বাড়ৈ, মোঃ মানিক খান, মোঃ নাজমুল খান, সিরাজ সিকদার , মোঃ শাহীন ঢালী, প্রভাসক শাহিন আলম, মোঃ সোহরাব হোসেন, মোঃ বাদশা মিয়া, ছানাউল্লাহ, মোঃ শাহাদাত হোসেন, আফরোজা মাসুদ ঝুনু,আশেক মাহমুদ সংগ্রাম,শফিকুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার আলমগীর হোসেন,জাকির হোসেন,ডা.বোরহান উদ্দিন, নান্নু হাওলাদার, স্বাপন মিয়া, রাসেল রতন, সাদেকুর রহমান সাদেক,কামরুজ্জামান, বিমল চন্দ্র দাস প্রমূখ।
স্কুল-কলেজ জীবনের হারিয়ে যাওয়া বাঁধভাঙা বন্ধুত্বের এক একটা পরিচ্ছেদকে আরেকবার ঝালিয়ে নেয়ার সুযোগ মেলে এই আয়োজনে। বন্ধুত্বের সীমানা ছাড়িয়ে যায় উপজেলার সব শিক্ষার্থী। এই দীর্ঘ ৩১ বছরে এসএসসি-৯৩ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বিভিন্নজন নানা পেশায় চলে গেছেন। এদের মধ্যে অনেকে ডাক্তার, প্রকৌশলী, আইনজীবী, ব্যাংকার, সাংবাদিক, সরকারি কর্মকর্তা, বড় রাজনীতিবিদ, সামরিক ও বেসামরিক অফিসার, কেউবা আবার শিক্ষক কিংবা ব্যবসায়ী,কেউ বা আবার প্রবাসী। কিন্তু পরিচয় সবার যেন একটা সেটা হলো আমরা স্কুল বন্ধু।
আয়োজকরা জানান,২০২২ সালে ‘আমরা ৯৩ মতলব উত্তর-এসএসসি’ শিরোনামে কয়েকজন বন্ধুদের নিয়ে একটি ফেসবুক পেইজ খোলা হয়। গ্রুপে উপজেলার বিভিন্ন স্কুল থেকে ১৯৯৩ সালে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে এমন বন্ধুদেরকেই শুধু যুক্ত করে আমরা ৯৩ মতলব উত্তর এসএসসি নামে অরাজনৈতিক ননামে একটি বন্ধু সংগঠন করা হয়। এই ব্যানারে ওই বছরই ২০২২ সালেই বর্ণাঢ্য ও জমকালো আয়োজনে সরকারি নিবন্ধিত আমরা ৯৩ ব্যাচ নামে বন্ধুদের প্রথম মিলন মেলা অনুষ্ঠিত হয়।
এরই ধারবাহিকতায় আজ ৮ মার্চ শুক্রবার ২০২৪ ’’আমরা ৯৩ মতলব উত্তর এসএসসি বন্ধুদের মিলন মেলার অনুষ্ঠান হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রায় ৩০০ বন্ধু উপস্থিত ছিলেন বলে আয়োজক সূত্রে জানা গেছে।’’আমরা ৯৩ মতলব উত্তর এসএসসি বন্ধুদের সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল মান্নান সাগর বলেন, পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর সম্পর্কের নাম হলো বন্ধুত্ব। এই চিরসত্য বাক্যটির গভীরতা কতটা তার তখনই বোঝা যায় যখন যাপিত জীবনে খুঁজে পাওয়া যায় সত্যিকারের বন্ধুদেরকে। আবার দুঃখের দিনেও তুমুল সাহস যোগায় এই বন্ধু।তিনি বলেন,সারাদিন গল্প আড্ডায় মেতে সময় পার করেন বন্ধু ও স্বজনেরা। দীর্ঘদিন পরে পূর্ব পরিচিত মুখ গুলো নতুন করেপ্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়। পড়ন্ত বিকেলের গোধূলির আলোয় চারদিক যখন কিঞ্চিত অন্ধকার তখন অনেকেই মলিন মুখে হাসতে হাসতে গান ধরে দেখা হবে বন্ধু দেখা হবে।
এভাবেই গল্প আড্ডা আর চিরচেনা শিল্পী বন্ধুদের গান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।আঃ মান্নান সাগর আরও বলেন,যারা আজ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা এবং অশেষ ধন্যবাদ। এক সময় আমরা একসঙ্গে পড়াশোনা করলেও, জীবিকার তাগিদে অনেকেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছি। কেউ ঢাকা, কেউ চট্রগ্রাম-জীবনের এমনই নিয়ম। এখন হয়তো কালভেদে সেসব বন্ধুর সঙ্গে দেখা হয়। ফলে আমরা চেয়েছিলাম মতলব উত্তর উপজেলার সকল বিদ্যালয়ের এসএসসি ব্যাচ ৯৩ বন্ধুরা একত্রিত হয়ে পারিবারিক মিলন মেলায় সবাই একত্রিত হতে। সবাইকে পেয়ে অসাধারণ এক অভিজ্ঞতা হলো।
’আমরা ৯৩ মতলব উত্তর এর সভাপতি মোঃ মিলন খান বলেন, ‘বন্ধুত্বের টানে, বন্ধুর পানে’ ’’সুখে-দুঃখে পাশে,বন্ধুর জন্য বন্ধ’’ু আমরা ৯৩ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ ৩০ বছর পর একত্রিত হয়েছি। এই আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।’ খুব ভালো লাগছে,বলঅর ভাষা প্রকাশ করা যায়না। যাদের সাথে দীর্ঘ ৩১ বছর আগে দেখা তাদের সাথে অঅজকে দেখা খুবই ভালো লাগতেছে।মিলন খান আরও বলেন,আমরা এসএসসি ব্যাচ -৯৩ মতলব উত্তর উপজেলা ভবিষ্যতে সামাজিক কার্যক্রমেও অংশ নিচ্ছি।
আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া বন্ধুদের সহায়তা, অসচ্ছল বন্ধুদের মেধাবী সন্তানদের লেখাপড়ার দায়িত্ব নেওয়া, বন্ধুদের যে কোনো বিপদে পাশে থাকাসহ দেশের যে কোনো দুর্যোগে মানবিক কর্মকাণ্ডে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছি।মিলন মেলার অন্যতম উদ্যোক্তা অ্যাড.জসিম উদ্দিন, তাদের এই পারিবারিক মিলন মেলার অনুভুতি প্রকাশ করে বলেন, ‘কৈশোরের বন্ধুত্ব কখনও হারায় না। কর্মব্যস্ততায় আমরা হয়তো ছেলেবেলার কথা ভুলে থাকি, কিন্তু ছেলেবেলা কখনও মুছে ফেলা যায় না।
এ কারণে জীবন চলার পথে যতো মানুষের সঙ্গেই বন্ধুত্ব হোক না কেন, ছেলেবেলার বন্ধুত্বের মতো তারা কখনও স্মৃতিযোগ্য নয়। জীবনে একজন হলেও প্রকৃত বন্ধুর প্রয়োজন। আর স্কুল লাইফের ফ্রেন্ডই হতে পারে সেই প্রকৃত বন্ধু। এ কারণেই আমরা সবাই মিলে চেয়েছিলাম গত বছরৈর ন্যায় এ বছরও এমন একটা আয়োজন করতে যেখানে সবাই একসঙ্গে বহুদিন পর একত্রিত হতে পারবো।
এমন সফল একটি আয়োজন আমার ছেলেবেলা, আমার স্কুলজীবনকে ফিরিয়ে দিয়েছে। আমরা আরো বড় পরিসরে বন্ধুদের নিয়ে স্বপ্ন দেখতে চাই। আজকে সেই স্বপ্নের পথে আমাদের চলা শুরু হলো।
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ঈদে স্ত্রীকে মাংস কিনে খাওয়াতে না পেরে চিরকুট লিখে আত্মহত্যা

মতলব উত্তরে এস এস সি আমরা ৯৩ বন্ধুদের মিলন মেলা

আপডেট সময় : ১১:২৮:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মার্চ ২০২৪
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার এখলাছপুর ইউনিয়নের পশ্চিম এখলাছপুর মেঘনা নদীর পাড়ে ’’আমরা ৯৩ মতলব উত্তর এসএসসি বন্ধুদের পারিবারিক মিলন মেলা শুক্রবার (৮ মার্চ) অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে এখলাছপুর ইউনিয়নের পশ্চিম এখলাছপুর মেঘনা নদীর মোহনায় সকাল ৮টা থেকে শুরু করে সকাল ১০টার মধ্যে ’’আমরা ৯৩ মতলব উত্তর এসএসসি বন্ধুরা স্ত্রী,সন্তান ও প্রিয়জনকে সাথে নিয়ে হাজির হন।
অনুষ্ঠানে উপজেলার সকল বিদ্যালয়ের এসএসসি-৯৩ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা আমন্ত্রিত ছিল। এতে ৩ শাতাধিকের অধিক প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অংশ গ্রহণে মতলবের এখলাছপুর মেঘনা মোহনা মুখরিত হয়ে উঠে আগত বন্ধুদের এ পারিবারিক বন্ধু মিলন মেলায়। এসময় অনেকেই স্কুল জীবনের স্মৃতিচারণায় মেতে উঠেন। বহুদিন পরে প্রিয় বন্ধুকে কাছে পেয়ে বুকে জড়িয়ে নেয় অনেকেই। অনেকেই চিৎকার দিয়ে বলে দেয় ‘আরে তুই’। এভাবেই পুরো মেঘনার পাড় যেন একটা মিলনমেলায় পরিণত হয়।
সারাদিন গল্প, আড্ডা, ছবি তোলা ও আবেগঘন স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে শেষ হয় ‘আমরা ৯৩’ মতলব উত্তর এসএসসি বন্ধুদের পারিবারিক মিলন মেলার স্মৃতিময় দিনটি।দিনব্যাপি নানান আয়োজনের মধ্যে ছিলো প্রথমে পবিত্র কোরআন থেকে তেলোয়াত, ও পবিত্র গীতা পাঠ,এরপর প্রয়াত বন্ধুদের জন্য দোয়া,পরিচিতি পর্ব, মধ্যাহ্ন ভোজ,প্রীতি ফুটবল ম্যাচসহ অন্যান খেলাধুলা,স্কুল জীবনের স্মৃতিচারণ,সন্ধ্যায় ফানুস উড়ানো-আতশবাজি, ৯৩ বন্ধুদের এবং তাদের সন্তানদেরপরিবেশনায় কবিতা আবৃত্তি, গান,নৃত্য ও তাদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, র‌্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়। এরপর র‌্যাফেল ড্রসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে এবং অংশগ্রহণকারী ৯৩ বন্ধুদের সকলের উপহার বিতরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
’’আমরা ৯৩ মতলব উত্তর এসএসসি বন্ধুদের মিলন মেলার আয়োজক কমিটির সভাপতি মোঃ মিলন খানের সভাপতিত্বে ও ’’আমরা ৯৩ মতলব উত্তর এসএসসি সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল মান্নান সাগর এবং আমরা ৯৩ এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাড.জসিম উদ্দিন এর যৌথ সঞ্চালনায় এ মিলন মেলায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন,বক্তব্য রাখেন,“আমরা ৯৩ মতলব উত্তর” এর সাধারণ সম্পাদক হাজ্বী মোঃ আঃ হালিম, দৈনিক বাংলাদেশের আলো জাতীয় পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক লায়ন মফিজুর রহমান খান বাবু, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী “আমরা ৯৩ মতলব উত্তর” সদস্য মোঃ উজ্জল ফরাজী, সাংগঠনিক সম্পাদক সালাউদ্দিন মুকুল। এতে শুভেচ্ছাবক্তব্য রাখেন, এখলাছপুর ইউপির চেয়ারম্যান মফিজুর রহমান মুন্না ঢালী,“আমরা ৯৩ মতলব উত্তর” এর সদস্য উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শ্যামল কুমার বাড়ৈ, মোঃ মানিক খান, মোঃ নাজমুল খান, সিরাজ সিকদার , মোঃ শাহীন ঢালী, প্রভাসক শাহিন আলম, মোঃ সোহরাব হোসেন, মোঃ বাদশা মিয়া, ছানাউল্লাহ, মোঃ শাহাদাত হোসেন, আফরোজা মাসুদ ঝুনু,আশেক মাহমুদ সংগ্রাম,শফিকুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার আলমগীর হোসেন,জাকির হোসেন,ডা.বোরহান উদ্দিন, নান্নু হাওলাদার, স্বাপন মিয়া, রাসেল রতন, সাদেকুর রহমান সাদেক,কামরুজ্জামান, বিমল চন্দ্র দাস প্রমূখ।
স্কুল-কলেজ জীবনের হারিয়ে যাওয়া বাঁধভাঙা বন্ধুত্বের এক একটা পরিচ্ছেদকে আরেকবার ঝালিয়ে নেয়ার সুযোগ মেলে এই আয়োজনে। বন্ধুত্বের সীমানা ছাড়িয়ে যায় উপজেলার সব শিক্ষার্থী। এই দীর্ঘ ৩১ বছরে এসএসসি-৯৩ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বিভিন্নজন নানা পেশায় চলে গেছেন। এদের মধ্যে অনেকে ডাক্তার, প্রকৌশলী, আইনজীবী, ব্যাংকার, সাংবাদিক, সরকারি কর্মকর্তা, বড় রাজনীতিবিদ, সামরিক ও বেসামরিক অফিসার, কেউবা আবার শিক্ষক কিংবা ব্যবসায়ী,কেউ বা আবার প্রবাসী। কিন্তু পরিচয় সবার যেন একটা সেটা হলো আমরা স্কুল বন্ধু।
আয়োজকরা জানান,২০২২ সালে ‘আমরা ৯৩ মতলব উত্তর-এসএসসি’ শিরোনামে কয়েকজন বন্ধুদের নিয়ে একটি ফেসবুক পেইজ খোলা হয়। গ্রুপে উপজেলার বিভিন্ন স্কুল থেকে ১৯৯৩ সালে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে এমন বন্ধুদেরকেই শুধু যুক্ত করে আমরা ৯৩ মতলব উত্তর এসএসসি নামে অরাজনৈতিক ননামে একটি বন্ধু সংগঠন করা হয়। এই ব্যানারে ওই বছরই ২০২২ সালেই বর্ণাঢ্য ও জমকালো আয়োজনে সরকারি নিবন্ধিত আমরা ৯৩ ব্যাচ নামে বন্ধুদের প্রথম মিলন মেলা অনুষ্ঠিত হয়।
এরই ধারবাহিকতায় আজ ৮ মার্চ শুক্রবার ২০২৪ ’’আমরা ৯৩ মতলব উত্তর এসএসসি বন্ধুদের মিলন মেলার অনুষ্ঠান হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রায় ৩০০ বন্ধু উপস্থিত ছিলেন বলে আয়োজক সূত্রে জানা গেছে।’’আমরা ৯৩ মতলব উত্তর এসএসসি বন্ধুদের সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল মান্নান সাগর বলেন, পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর সম্পর্কের নাম হলো বন্ধুত্ব। এই চিরসত্য বাক্যটির গভীরতা কতটা তার তখনই বোঝা যায় যখন যাপিত জীবনে খুঁজে পাওয়া যায় সত্যিকারের বন্ধুদেরকে। আবার দুঃখের দিনেও তুমুল সাহস যোগায় এই বন্ধু।তিনি বলেন,সারাদিন গল্প আড্ডায় মেতে সময় পার করেন বন্ধু ও স্বজনেরা। দীর্ঘদিন পরে পূর্ব পরিচিত মুখ গুলো নতুন করেপ্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়। পড়ন্ত বিকেলের গোধূলির আলোয় চারদিক যখন কিঞ্চিত অন্ধকার তখন অনেকেই মলিন মুখে হাসতে হাসতে গান ধরে দেখা হবে বন্ধু দেখা হবে।
এভাবেই গল্প আড্ডা আর চিরচেনা শিল্পী বন্ধুদের গান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।আঃ মান্নান সাগর আরও বলেন,যারা আজ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা এবং অশেষ ধন্যবাদ। এক সময় আমরা একসঙ্গে পড়াশোনা করলেও, জীবিকার তাগিদে অনেকেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছি। কেউ ঢাকা, কেউ চট্রগ্রাম-জীবনের এমনই নিয়ম। এখন হয়তো কালভেদে সেসব বন্ধুর সঙ্গে দেখা হয়। ফলে আমরা চেয়েছিলাম মতলব উত্তর উপজেলার সকল বিদ্যালয়ের এসএসসি ব্যাচ ৯৩ বন্ধুরা একত্রিত হয়ে পারিবারিক মিলন মেলায় সবাই একত্রিত হতে। সবাইকে পেয়ে অসাধারণ এক অভিজ্ঞতা হলো।
’আমরা ৯৩ মতলব উত্তর এর সভাপতি মোঃ মিলন খান বলেন, ‘বন্ধুত্বের টানে, বন্ধুর পানে’ ’’সুখে-দুঃখে পাশে,বন্ধুর জন্য বন্ধ’’ু আমরা ৯৩ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ ৩০ বছর পর একত্রিত হয়েছি। এই আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।’ খুব ভালো লাগছে,বলঅর ভাষা প্রকাশ করা যায়না। যাদের সাথে দীর্ঘ ৩১ বছর আগে দেখা তাদের সাথে অঅজকে দেখা খুবই ভালো লাগতেছে।মিলন খান আরও বলেন,আমরা এসএসসি ব্যাচ -৯৩ মতলব উত্তর উপজেলা ভবিষ্যতে সামাজিক কার্যক্রমেও অংশ নিচ্ছি।
আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া বন্ধুদের সহায়তা, অসচ্ছল বন্ধুদের মেধাবী সন্তানদের লেখাপড়ার দায়িত্ব নেওয়া, বন্ধুদের যে কোনো বিপদে পাশে থাকাসহ দেশের যে কোনো দুর্যোগে মানবিক কর্মকাণ্ডে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছি।মিলন মেলার অন্যতম উদ্যোক্তা অ্যাড.জসিম উদ্দিন, তাদের এই পারিবারিক মিলন মেলার অনুভুতি প্রকাশ করে বলেন, ‘কৈশোরের বন্ধুত্ব কখনও হারায় না। কর্মব্যস্ততায় আমরা হয়তো ছেলেবেলার কথা ভুলে থাকি, কিন্তু ছেলেবেলা কখনও মুছে ফেলা যায় না।
এ কারণে জীবন চলার পথে যতো মানুষের সঙ্গেই বন্ধুত্ব হোক না কেন, ছেলেবেলার বন্ধুত্বের মতো তারা কখনও স্মৃতিযোগ্য নয়। জীবনে একজন হলেও প্রকৃত বন্ধুর প্রয়োজন। আর স্কুল লাইফের ফ্রেন্ডই হতে পারে সেই প্রকৃত বন্ধু। এ কারণেই আমরা সবাই মিলে চেয়েছিলাম গত বছরৈর ন্যায় এ বছরও এমন একটা আয়োজন করতে যেখানে সবাই একসঙ্গে বহুদিন পর একত্রিত হতে পারবো।
এমন সফল একটি আয়োজন আমার ছেলেবেলা, আমার স্কুলজীবনকে ফিরিয়ে দিয়েছে। আমরা আরো বড় পরিসরে বন্ধুদের নিয়ে স্বপ্ন দেখতে চাই। আজকে সেই স্বপ্নের পথে আমাদের চলা শুরু হলো।