শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ফটো সেশনে সীমাবদ্ধ চাঁদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস!

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৪, ১০:২৮ পিএম
ফটো সেশনে সীমাবদ্ধ চাঁদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস!
চাঁদপুরে কোনো প্রকার র‍্যালী ও আলোচনা সভা না করেই ব্যানার নিয়ে দাঁড়িয়ে ফটোসেশনের মাধ্যমেই নামেমাত্র দায়সার মুক্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের কর্মসূচী পালন করেছে চাঁদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়।
এমন কি চাঁদপুর প্রেসক্লাব কিংবা কোনো প্রকার গনমাধ্যমকে অবগত এবং দাওয়াত না দিয়েই এমন নামমাত্র কর্মসূচী পালন করা হয়। যেখানে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের ব্যানারে লেখা রয়েছে বর্ণাঢ্য র‍্যালী ও আলোচনা সভা। সেখানে তেমন কোনো কর্মসূচীই পালন করা হয়নি।
জানাযায়, ৬ এপ্রিল শনিবার সারাদেশের ন্যায় চাঁদপুরেও বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের কর্মসূচী পালন করবে চাঁদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়। কিন্তু সেখানে তেমন কোনো গুরত্বপূর্ণ কর্সসূচীই পালন করতে দেখা যায়নি। এমনকি বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের এমন গুরত্বপূর্ণ বিষয়ের জন্য চাঁদপুর প্রেসক্লাব, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার কোনো গনমাধ্যমকেও সংবাদ সংগ্রহের জন্য খবর দেয়া হয়নি।
ক’জন সংবাদ কর্মী নিজে থেকেই এমন গুরত্বপূর্ণ দিবসের সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে র‍্যালীর ভিডিও ফুটেজ নেয়ার জন্য সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ সাহাদাৎ হোসেনকে র‍্যালী নিয়ে হাটতে বললে তিনি এক সংবাদকর্মীর সাথে “ভিডিও করে কি করবেন” বলে অসাদাচরণ করেন।
যেখানে একটি দিবসের মূল ব্যানারে লেখা ছিলো বর্ণাঢ্য র‍্যালী ও আলোচনা সভা। সেখানে কোনো প্রকার পায়ে না হেটে, কোনো র‍্যালী বের না করে এবং কোনো প্রকার আলোচনা সভা না করে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়েই কয়েকটি ছবি তুলে বুঝানো হয়েছে তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের কর্মসূচী পালন করেছেন। এভাবেই চাঁদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয় নাম কায়ান্তে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস পালন করতে দেখা যায়।
পরবর্তীতে সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ সাহাদাৎ হোসেন সেই বানানো ব্যানার নিয়ে চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালের আয়োজিত আলোচনা সভায় যোগদান করেন।
কয়েকটি সূত্র থেকে জানা যায়, এছাড়াও স্বাস্থ্য বিভাগের যেকোনো সংবাদ সংক্রান্ত কোনো বক্তব্যের জন্য সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ সাহাদাৎ হোসেনের কাছে গেলে, তিনি সব সময়ই সংবাদকর্মীদের সাথে এই ধরনের রুক্ষ আচরণ করেন। তাই চাঁদপুরের এই বির্তকিত সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ সাহাদাৎ হোসেনকে অতি দ্রুত চাঁদপুর থেকে অনত্র বদলী করার দাবি সচেতন মহলের।
উল্লেখ্য : স্বাস্থ্য অধিকার নিশ্চিতে, কাজ করি একসাথে। এই স্লোগানকে ধারন করে ৬ এপ্রিল শনিবার দুপুরে  চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালের আয়োজনের ব্যানারে চাঁদপুরে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে র‍্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আর সেই আলোচনা সভাটিই সিভিল সার্জন কার্যালয়ের নামে চালিয়ে নেন তিনি।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’