শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহমাহমুদপুরে ক্ষমতার জোরে সরকারি গাছ কর্তন!

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৪, ১:৩৬ এম
শাহমাহমুদপুরে ক্ষমতার জোরে সরকারি গাছ কর্তন!
চাঁদপুর সদরের বড় শাহতলীতে সরকারি রাস্তার পাশে থাকা কয়েকটি গাছ ক্ষমতার জোরে কর্তন করার অভিযোগ উঠেছে।
গত রোববার (১৪ এপ্রিল) সকালে ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের খন্দকার বাড়ির দক্ষিণে পুরাতন ইউনিয়ন পরিষদের সামনের রাস্তার পাশ থেকে এই গাছ কাটা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই সকল গাছ কাটার সাথে জড়িত হলেন ভড়ঙ্গাচর গ্রামের বেপারী বাড়ির মোঃ ছলেমান বেপারীর বড় ছেলে মোঃ মালেক হোসেন মুন্না (৪৫)।
গতকাল সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের হযরত শাহ মাহমুদ বাগদাদি (রাঃ) এর মাজার গেট থেকে দেড়শ গজ দক্ষিণে পুরাতন ইউনিয়ন পরিষদের একটি ভবনের পাশেই নতুন তৈরি হয় একটি পাকা রাস্তা। আর এই পাকা রাস্তার পাশে থাকা কয়েকটি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এমনকি গাছের চিহ্ন যেন না বুঝা যায় সেজন্য গাছের গোড়ায় লেপে দেয়া হয়েছে মাটি দিয়ে। এবং তার উপরে তৈরি করা হয়েছে ঝোপঝাড়। স্থানীয় সরকারের কোন ধরনের নিয়ম-নীতি না মেনেই কাটা হয়েছে এ সকল গাছ। এলাকাবাসী বলছেন পেশী শক্তি ব্যবহার করেই এমনটা করা হয়েছে। এর আগে গত ১৪ এপ্রিল রোববার সকালে বড় শাহতলী পুরাতন ইউনিয়ন পরিষদের সামনে সরকারি রাস্তার পাশে থাকা সরকারি ৮-১০ টি গাছ কর্তন করে নিয়ে যায় ভড়ঙ্গাচর গ্রামের বেপারী বাড়ির মোঃ ছলেমান বেপারীর বড় ছেলে মোঃ মালেক হোসেন মুন্না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, মোঃ মালেক হোসেন মুন্না রাজনীতির ক্ষমতা ও পেশি শক্তির বলে এই গাছগুলো কেটে ফেলেছে। যতটুকু শুনেছি তিনি নাকি এই জায়গা কিনবেন তাই গাছগুলো নিজের বলে দাবি করে কেটে ফেলেছেন। সরকারি রাস্তার পাশে গাছগুলো যদি এভাবে কেটে ফেলা হয় তাহলে জীববৈচিত্র্যের উপরে প্রভাবসহ পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হতে থাকবে। এই বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যান সহ প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর হওয়া উচিত।
গাছ কাটার সাথে জড়িত মোঃ মালেক হোসেন মুন্না বলেন, রাস্তার পাশে এই জমিটি মাহফুজ খন্দকারের পৈত্রিক সম্পত্তি। তিনি আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন জমিতে থাকা গাছগুলি কাটার জন্য। এ বিষয়ে তিনি ভালো বলতে পারবেন। রাস্তার পাশে থাকা গাছগুলোর কাঁটার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে ছোট ছোট কয়েকটি গাছ ছিল তাই কেটে ফেলেছি। পাশের পুকুরে মাছ চাষে সুবিধা হয় তাই। আমার আগেও কয়েকজন এখান থেকে কয়েকটি গাছ কেটে ফেলেছে।
এই বিষয়ে জমির মালিক দাবিদার মাহফুজ খন্দকার বলেন, আমি মালেককে আমার জমির গাছগুলো কাটার জন্য বলেছি। রাস্তার পাশের গাছগুলোর বিষয়ে চেয়ারম্যানকে কয়েকবার বলেছি কাটার জন্য। কিন্তু তিনি আমার কথা না শোনার কারণে আমি এ গাছগুলো কাটতে বলেছি।
গাছ কাটার বিষয়ে শাহমামুদপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মাসুদুর রহমান নান্টু জানান, সরকারি রাস্তার পাশের গাছ কাটার বিষয়ে আমি অনুমতি দেওয়ার কেউ না। গাছগুলো কাটার বিষয়টি যখনই শুনেছি তখনই গ্রাম পুলিশ পাঠিয়েছি। পরবর্তীতে আমার ইউপি সচিব গ্রাম পুলিশ পাঠিয়েছে। গ্রাম পুলিশ তাদেরকে বলে দিয়েছে গাছগুলি না কাটার জন্য। এরপর তারা যদি গাছ কেটে থাকে তাহলে অবশ্যই নিজেদের ইচ্ছেমতোই গাছগুলি কেটেছে। আমাদের ইচ্ছেমতো হলে তো একটি গাছও তারা কাটতো না।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’