শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন 

চেয়ারম্যান প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ কুদ্দুসের কাপ-পিরিচ প্রতীকে ব্যাপক প্রচারণা ও গণসংযোগ

মতলব উত্তর ব্যুরো প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৪, ১০:২৭ পিএম
চেয়ারম্যান প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ কুদ্দুসের কাপ-পিরিচ প্রতীকে ব্যাপক প্রচারণা ও গণসংযোগ
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ কুদ্দুস কাপ-পিরিচ প্রতীকে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক গণসংযোগ, পথসভা ও উঠান করেছেন।
২৭ এপ্রিল দুপুর ২ টায় ফতেপুর পশ্চিম ইউনিয়নের নাউরি বাজারে উঠান বৈঠক, পরে ফরাজীকান্দি ইউনিয়নের আনন্দ বাজার ও আমিরাবাদ বাজারে ব্যাপক গণসংযোগ করেন এমএ কুদ্দুস।
বিকাল ৫ ঘটিকার সময় সুজাতপুর বাজারে মিছিল ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এছাড়াও সন্ধ্যা ৭ টায় ইসলামাবাদ ইউনিয়নের পুর্ব ইসলামাবাদ চৌরাস্তা মোড়ে গণসংযোগ ও উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা দেন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কাপ-পিরিচ প্রতীকে চেয়ারম্যান প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ কুদ্দুস। পরে সুলতানাবাদ ইউনিয়নের মজলিসপুর গ্রামে পথসভায় উপস্থিত হন।
বক্তব্যে কাপ-পিরিচ প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ কুদ্দুস বলেন, আমি আপনাদের সেবায় আছি এবং আগামীতেও থাকার জন্য এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেছি। সবাই
আমাকে কাপ-পিরিচ মার্কায় একটি করে ভোট আমাকে জয়যুক্ত করবেন।
তিনি আরও বলেন, আমি নিজের জীবন বাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধ করেছি। ৩৫ বছর ধরে মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে আপনাদের সেবা করছি। বিগত ২০০৪ সালে বেরীবাঁধ রক্ষায় জীবন বাজি রেখে কাজ করেছি। আমার সব ইতিহাস মতলব উত্তর উপজেলাবাসী জানেন। নতুন করে কিছুই বলার নাই। আমি আপনাদের কুদ্দুস, আপনাদের ভাই, আপনাদের সেবক হয়ে থাকতে চাই। সবাই আমাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন।
তিনি বলেন, এবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় প্রতীক উঠিয়ে দিয়েছেন। তাই যার যার যোগ্যতা অনুযায়ী ভোট করবেন প্রার্থীরা। সুতরাং কারো যোগ্যতায় কেউ এগিয়ে যাবে না, যার যার জনপ্রিয়তায় এগোতে হবে। এবার ইভিএম ভোটিং পদ্ধতিতে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট হবে। যার যার ভোট সে সে। কারো হুমকি ধামকিতে আপনারা ভয় পাবেন না
প্রচারপ্রচারণা, মিছিল ও উঠান বৈঠকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজাহান প্রধান, ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক নুরুল আমিন বোরহান, উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি মোহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম সহ দলীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন এবং বক্তব্য রাখেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’