বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের শ্রমিক সমাবেশ ও বর্ণাঢ্য র‍্যালি 

ইসলামী শ্রমনীতি বাস্তবায়ন ছাড়া শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত হবে না : শেখ মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ১ মে, ২০২৪, ১০:০১ পিএম
ইসলামী শ্রমনীতি বাস্তবায়ন ছাড়া শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত হবে না : শেখ মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন
আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও শ্রমিক সমাবেশ করেছে ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা শাখা। ১ মে সোমবার বিকালে চাঁদপুর শহরের বাইতুল আমিন জামে মসজিদের সামনে শপথচত্বরে এ শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
শমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন,  ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা সভাপতি শেখ মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন। তিনি তার বলেন, ১মে শ্রমিকরা তাদের অধিকার আদায়ে রক্ত দিয়েছে। পৃথিবীর দেশে দেশে শ্রমিকরা এখনো ঘাম-শ্রম আর রক্ত দিয়ে যাচ্ছে। তবুও পৃথিবীর অনেক দেশেই শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
তিনি বলেন, আমাদের বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পেরিয়ে গেছে। অখচ এদেশের শ্রমিকরা আজো সবচেয়ে বেশি অবহেলিত। শ্রমিকরা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। তারা প্রতিটা মুহূর্ত শোষণের শিকার হচ্ছে। অথচ আমাদের দেশের সরকার সারাক্ষণ শুধু উন্নয়নের কথা বলে যাচ্ছে। সরকার মানুষকে পদ্মা সেতু, মেট্রো রেলের গল্প শোনায়। অথচ আমরা পত্রিকা খুলে দেখতে পাই ক্ষুধায় জ্বালায় মা তার শিশু সন্তানকে বিক্রি করে দিচ্ছে। কিস্তির টাকা শোধ করতে না পেরে অটোচালক আত্মহত্যা করে। যে দেশের খেটে খাওয়া শ্রমিকরা জীবন জীবিকার নিশ্চয়তা পায় না, সে দেশের সরকারের মুখে এমন উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের গল্প মানায় না।
তিনি আরো বলেন, এদেশে ইসলামী শ্রমনীতি বাস্তবায়ন ছাড়া শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত হবে না। তাই ইসলামী ইসলামী শ্রমনীতি বাস্তবায়নে পীর সাহেব চরমোনাই এর নেতৃত্বে ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনে যোগ দিয়ে শ্রমিকদের অধিকার ফিরিয়ে আনতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করাতে হবে।
ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি আবুল বাশার তালুকদারের সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামাল গাজীর পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন চাঁদপুর শাখার সহ-সভাপতি মাওলানা বোরহানউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক সাধারণ মো. মহিবুল্লাহ বেপারী, সাবেক জেলা ছাত্র নেতা মাওলানা হেলাল আহমাদ, জেলা শ্রমিক নেতা মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন, ফরিদগঞ্জ উপজেলা শ্রমিক আন্দোলনের সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম রাজু, মতলব উত্তর উপজেলা শ্রমিক আন্দোলনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম প্রধানিয়া, কচুয়া উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, হাইমচর উপজেলা শ্রমিক আন্দোলনের সদস্য মোহাম্মদ মুক্তার হোসাইন প্রমুখ।
শ্রমিক সমাবেশ শেষে শপথচত্বর থেকে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালী বের করা হয়। এতে ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়নসহ বিভিন্ন ইউনিট থেকে আগত শত শত নেতা-কর্মী অংশ নেন। তাদের অংশগ্রহণে  বর্ণাঢ্য র‍্যালীটি শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সড়ক হয়ে শহরের বাসস্টেশন ইলিশ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।

মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সিয়াম উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আবদুস সোবাহানের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে বাবা আবদুস সোবাহান তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ শনাক্ত হয়। এ সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে রওনা দেওয়ার আগেই রাত নয়টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

Model Hospital

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মামুন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা যায় তরুণের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার আগেই তার মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বাবা আবদুস সোবাহান বলেন, আমার পোলাডার এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর আছিল। ওরে কইছিলাম ডাক্তারের কাছে যাইতে, কিন্তু হুনল না। অবস্থা বেশি খারাপ হইলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনলাম। হাসপাতালে আনার পরই নাক-মুখ দিয়া রক্ত পড়া শুরু হয়। ঢাকা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ঠিক করছিলাম, কিন্তু তার আগেই আমার সব শ্যাষ অইয়া গেল।