বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

নদী ভাঙনে দিশেহারা হাইমচরের জালিয়ারচরবাসী

মোশাররফ হোসেন নয়ন, হাইমচর প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ জুন, ২০২৪, ৫:১৭ পিএম
নদী ভাঙনে দিশেহারা হাইমচরের জালিয়ারচরবাসী
মেঘনার ভাঙ্গনে দীশেহারা চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী ইউনিয়নের জালিয়ারচরবাসী। নদী ভাঙ্গনের এই ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে চায় তারা।
বর্ষার শুরুতে নদীতে পানি বাড়ার সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে জালিয়ারচরবাসীর দু:খ দুর্দশা। নদী ভাঙ্গন আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের। ৫/৬ বার ভাঙ্গনের কবলে পড়ে মাথা গোঁজার শেষ ভরসাটুকু হারিয়ে দিশেহারা তারা।
জানা যায়, ২০০৮ সালে চাঁদপুর-৩ নির্বাচনী এলাকা থেকে জয়লাভের পর স্থানীয় সাংসদ ডা দীপু মনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী হাইমচর উপজেলার বাংলা বাজার থেকে শহর আলী মোড় এলাকা পর্যন্ত স্থায়ী বাঁধ
নির্মাণ করলেও চরভৈরবী ইউনিয়ন ৯নং ওয়ার্ডের কাটাখাল এর দক্ষিণ পাশ মহসিন হাওলাদার এর বাড়ি থেকে মানিক সর্দার এর ঘাট পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মিটার জায়গায় বাঁধ নির্মাণ করা হয়নি। এতে করে চরম ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছে এই এলাকার মানুষ।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় নদীতে স্থায়ী বাঁধের দাবি নিয়ে মানববন্ধনে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় এলাকাবাসী।
মানববন্ধনে উপস্থিত ৯নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সভাপতি আবু ইউসুফ বেপারি বলেন, হাইমচরে আমরা জালিয়ারচরবাসী সবচেয়ে অবহেলিত। পুরো হাইমচর জুড়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ হলেও আমাদের এই ৫০০ মিটার জায়গাতে কোন বাঁধ নেই। যার কারনে প্রতিনিয়ত মেঘনার ভাঙ্গনের মুখোমুখি হতে হয় আমাদের। নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে আমাদের মাথাগোঁজার শেষ জায়গাটুকু। তাই মাননীয় সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা দীপু মনি এমপি, হাইমচর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুর হোসেন পাটওয়ারী এবং উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি হুমায়ুন কবির প্রধানিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। অনতিবিলম্বে স্থায়ী বাধ নির্মান করে আমাদেরকে রক্ষা করুন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী ৩সন্তানের জননী হালিমা বেগম বলেন, ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে নদী ভাঙ্গন আতঙ্কে দিন কাটে আমাদের। রাতে ঘুমাতেও ভয় লাগে। স্বপ্নের মধ্যে দেখি নদী ভেঙে বাড়িঘর নদীর মাঝখানে চলে গেছে। যেই বয়সে ছেলেমেয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা, খেলাধুলায় ব্যস্থ থাকার কথা, সেই বয়সে এই ছোট ছোট ছেলেমেয়ে  সারাদিন ভয়ে আতঙ্কে থাকে থাকে। বারবার জিজ্ঞাসা করে, মা!  আমগোরে কি নদী ভাইঙ্গা লইয়া যাইবো?
আমরা সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যত চাই, আমরা নদী ভাঙ্গন থেকে বাঁচতে চাই, আমরা স্থায়ী বাঁধ চাই।
এই বিষয়ে হাইমচর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুর হোসেন পাটওয়ারী বলেন, বিষয়টি আমরা অবগত আছি৷ এই অঞ্চলের মানুষের মানুষের দু:খ, দুর্দশা কাছ থেকে দেখেছি। বাঁধটি নির্মাণ হলে মানুষ নিজ ভূমিতে শান্তিতে বসবাস করতে পারবে। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে বাঁধ নির্মাণ করার ব্যবস্থা নিবো।

বেপর্দা নারীদের দিয়ে মিছিল-মিটিং করে—এরা কেমন ইসলামিক দল : চরমোনাই পীর

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২৮ এম
বেপর্দা নারীদের দিয়ে মিছিল-মিটিং করে—এরা কেমন ইসলামিক দল : চরমোনাই পীর

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, ‘সমাজ ও রাষ্ট্রে ন্যায়-নীতি, সততা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।’

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে এক মাহফিলে এ মন্তব্য করেন তিনি। সঙ্গে অন্যায়, অনিয়ম, দুর্নীতি ও মানুষের অধিকার হরণের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে ইসলামি মূল্যবোধ অনুসরণ করে ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে নৈতিকতার চর্চা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মাহফিলে দেশের চলমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি,নৈতিকতা,ধর্মীয় মূল্যবোধ ও মানুষের অধিকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য দেন চরমোনাই পীর। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘দেশ খেয়েছে খাজুরেরা, নাম পড়েছে হুজুরের।’

চরমোনাই পীর আরও বলেন, ‘ইসলামিক দল নাম দিয়ে,বেপর্দা নারীদের দিয়ে মিছিল-মিটিং করে—এরা কেমন ইসলামিক দল?’ তিনি দাবি করেন, যারা মুসলমান তারা মিথ্যা বলতে পারে না। তার বক্তব্যে ধর্মীয় আদর্শের সঙ্গে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সামঞ্জস্য রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

Model Hospital

সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক বক্তব্যে চরমোনাই পীর দেশের চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, লুটতরাজসহ বিভিন্ন সামাজিক অনাচার নিয়েও সমালোচনা করেছেন।