শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব উত্তরে দূর্গাপুর ইউনিয়নে বিএনপির আলোচনা সভা

১৭ বছরের জ্বালা ১৭ দিনে মিটাতে চাইলে হবে না : তানভীর হুদা

মনিরুল ইসলাম মনির প্রকাশিত: শনিবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ৯:৫১ পিএম
১৭ বছরের জ্বালা ১৭ দিনে মিটাতে চাইলে হবে না : তানভীর হুদা

মতলব উত্তর উপজেলার ৫নং দূর্গাপুর ইউনিয়ন এর ৭ ও ৮নং ওয়ার্ড বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের আয়োজনে বিএনপি’র ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন শহীদদের এবং সারা বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বন্যায় নিহতদের স্বরনে মিলাদ, দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নের আনন্দবাজারে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, সাবেক তথ্য ও সংস্থাপন প্রতিমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম নুরুল হুদার জ্যেষ্ঠ পুত্র ও চাঁদপুর জেলা বিএনপি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তানভীর হুদা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তানভীর হুদা বলেন, ১৭ বছরের জ্বালা ১৭ দিনে মিটাতে চাইলে হবে না, ধৈর্য ধরতে হবে। গত স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে অনেক হমলা মামলার শিকার হয়েছি। বিএনপির অনেক নেতা ১৪’শ থেকে ১৫’শ মালার হয়েছে। অনেক নেতা কর্মী ঈদে, জানাজায়, আত্মীয়-স্বজনের অসুস্থতায়ও আসতে পারেনি। তাই বলে ১৭ বছরের বিএনপি’র জনপ্রিয়তা এক পারসেন্ট কমাতে পারেনি, বরং জনপ্রিয়তা আরো বেড়েছে।

তিনি আরো বলেন, আপনারা দেখেছেন গত ৫ আগস্ট বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তোপের মুখে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা নেতাকর্মীকে ফেলে রেখে আত্মীয়-স্বজন নিয়ে দিল্লিতে পালিয়ে গেছেন। কিন্তু আমাদের নেত্রী মানবতার মা বেগম খালেদা জিয়া বহু হামলা, মামলার শিকার হয়েছেন, জেল খেটেছেন তারপরও তিনি দেশ ত্যাগ করেননি। এখন তিনি দিল্লিতে বসে নানা ষড়যন্ত্রের লিপ্ত হচ্ছে। এ ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সকলকে সজাগ থাকতে হবে। একসাথে সবাইকে এ ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে হবে।

Model Hospital

তানভীর হুদা বলেন, বিএনপির সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে রাজনীতি করে, বিএনপি’র দিক হচ্ছে সাধারণ মানুষ। আমার পিতা মরহুম নুরুল হুদা সাহেব সাধারণ মানুষের কাছে গিয়ে মতলবের বিএনপি প্রতিষ্ঠা করে গিয়েছেন। মানুষের মনের আস্তা করে নিয়েছে।

দূর্গাপুর ইউনিয়ন ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সুলতান মোল্লার সভাপতিত্বে ও উপজেলা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মজুমদারের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বিল্লাল হোসেন মৃধা, চাঁদপুর জেলা বিএনপি সদস্য আব্দুল মান্নান লস্কর, ফরাজীকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইয়াছিন মোল্লা, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুবায়েদা ইসলাম জেরিন, বিএনপি নেতা আহসান উল্ল্যা, উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন আমু, ছেংগারচর পৌর ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, সাবেক ছাত্রনেতা জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা তাঁতী দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন মুন্সি, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক মানিক ফরাজি, দূর্গাপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মহসিন মিয়া, ইউনিয়ন বিএনপি নেতা শরীফ উল্ল্যা ভান্ডারী, সাবেক ছাত্র নেতা কাদির প্রধান।

আলোচনা শেষে মিলাদ পরিচালনা করেন মাওলানা মো. তাইসির আহাম্মেদ, দোয়া পরিচলনা করেন মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলোয়াত করেন, উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ মাষ্টার।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’