শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

বাবার দাফন শেষে অবুঝ সাদিয়ার প্রার্থনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২২, ৭:৫০ পিএম
বাবার দাফন শেষে অবুঝ সাদিয়ার প্রার্থনা

সাফিউল বাসার রুজমন ♦ পিতাকে কবরে মাটি দেয়া শেষ। দাফনে উপস্থিত সকলে দু’হাত তুলে আল্লাহুপাকের দরবারে মোনাজাত করছে। খানিকটা দূরে মাদ্রাসার কোনায় ছোট্ট খুকি সাদিয়া দাঁড়িয়ে। সকলের সাথে নিজেরমত করে প্রার্থনা করছে। বাবা হারানো ব্যাথা অনুভব করার বয়স হয়নি। দীর্ঘ মেয়াদে বাবার শূন্যতা অনুভব করতে হবে সাদিয়াকে।

সাদিয়ার হৃদয় বিদারক ছবিটি দেখে আমার ছোট ফুফুর কথা মনে পড়ে গেলো। ছোট ফুফু মায়ের দুধ খাওয়া অবস্থায় তাঁর মা (আমার দাদু) মারা যায়। সেই সময়ে মায়ের মৃতদেহের উপরে ফুফুটি হামাগুড়ি দেয়ার দৃশ্য উপস্থিত সকলকে কাঁদিয়েছিলেন । মায়ের মৃত্যুর পর বড় ভাবি (আমার মায়ের) লালন-পালনে বড় হয়েছেন। ভাবিকেও ফুফু মায়ের মতই ভালোবাসেন। আমরা যতটানা ভালোবাসি আমার মাকে ফুফুও ততটাই ভালোবাসে। নিজের মাকে ছাড়াই আজ ফুফু অনেক বড় হয়েছেন। নানুও হয়েছেন।

পাঁচ বোনের মধ্যে সাদিয়া সবার ছোট। সাদিয়ার হাঁটাচলা শুরু, আবদার করতে শেখা। ঠিক তখন থেকেই তার বাবা ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়া। বাবার অসুস্থতা ও সাদিয়ার বেড়ে উঠা একই সাথে চলছিলো। এমন সময় আজ তার বাবাকে হারায় সাদিয়া। একদিন হয়তো সাদিয়াও বড় হবে। বাবার কথা মনে থাকবে না কিন্তু বাবার শূণ্যতা জীবনে প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাকে অনুভব করতে হবে।

সাদিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হয়েছে। ক্লাসে সহপাঠীদের নতুন নতুন জামা পরতে দেখা, চকলেট, চিপস খেতে দেখে একটা সময় নিজের ইচ্ছে জাগবে। চকলেট,চিপস, নতুন নতুন জামা, সুন্দর জুতো পেতে চাইবে। হয়তো কেউ কেউ প্রথম প্রথম কিছুটা অভাব দূর করতে চাইবে। কিন্তু কিছুদিন পার হলেই সাদিয়ার অনেক অভাবই পূরনের মানুষ থাকবে না। সাদিয়ার কোন ইচ্ছেরই যেন মৃত্যু না ঘটে। মহান সৃষ্টিকর্তাই সাদিয়ার সকল ইচ্ছে পূরনের সহায় হোক।

Model Hospital

আমাকে দেখলেই বাবা বলে ডাকতেন সাদিয়ার বাবা শ্রদ্ধেয় তাহের মিসবাহ কাকা। জীবনের শুরু থেকেই জীবন যুদ্ধে নামতে হয়েছিলো। একক প্রচেষ্টায় অভাব অনেটনের সংসারে টিউশনি করে নিজের পড়ার খরচ নিজেই জোগাড় করতে হতো। নিজ চেষ্টায় তিনি মাদ্রাসায় উচ্চ শিক্ষা সম্পন্ন করে। শিক্ষকতা পেশায় নিযুক্ত হয়। আমার পরামর্শে সাংবাদিকতা শুরু করে। আমার পত্রিকার (মানবসমাজ) নিজস্ব প্রতিনিধি হিসেবে লেখালেখি চালিয়ে যায়। সাংবাদিকতা জীবনে তাঁর লেখায় কাউকে কোন দিন কষ্ট পেতে হয়নি। তিনি কোন দিন অন্যায় ভাবে কারো কাছ থেকে অর্থ নেননি। সৎ ভাবে সীমিত পরিসরের জীবনের সমাপ্তি ঘটে তাঁর।

আমাকে দেখলেই বাবা বলে ডাকতেন। শেষ একটি বছর ব্যস্ততার কারনে প্রতিনিয়ত কথা হয়নি। শুক্রবার জুমার নামাজ বাড়ির মসজিদে আদায় করতাম। শুক্রবার কাকার সাথে কথা হতো। সর্বশেষ মাহবুবুল আলম চুননু ভাইয়ের মৃত্যুর খবর ওনাকে খুব কষ্ট দেয়। আমার কাছে খুবই মর্মাহত হয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন। সাপ্তাহ খানেকের মাথায় চলে গেলো তাহের মিসবাহ কাকা। নিকটতমদের হারানো তালিকা দিন দিন দীর্ঘ হচ্ছে। চুননু ভাইয়ের শোক সইতে না সইতেই হারুনুর রশিদ মুন্সী ভাই চলে গেলেন, জাকির হোসেন লিটন ভাই ও সর্বশেষ তাহের মিসবাহ কাকা। কাকার সাথে স্মৃতি গুলো সব সময় মনে থাকবে। আল্লাহুপাক প্রিয় তাহের মিসবাহ কাকাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করুক, আমীন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’