শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

অভিবাসন কর্মীদের

চাঁদপুরে নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ক আইনজীবীদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৪, ৫:০০ পিএম
চাঁদপুরে নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ক আইনজীবীদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

চাঁদপুরে অভিবাসন কর্মীদের নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ক আইনজীবীদেন প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বক্তব্য রাখছেন চাঁদপুরের সিনিয়র সহকারী জজ জিহান সানজিদা।

চাঁদপুরে অভিবাসন কর্মীদের নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ক আইনজীবীদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে ।

বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে চাঁদপুর শহরের প্রেসক্লাব সংলগ্ন একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অভিবাসন কর্মীদের নিরাপদ অভিবাসন ও ন্যায় বিচারে অভিগম্যতা বিষয়ক এ প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশ নেয় চাঁদপুরের আইনজীবীরা।

সুইজারল্যান্ড সরকারের অর্থায়নে হেলভেটাস বাংলাদেশের সহায়তায় বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি (বিএনডব্লিউএলএ) এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করে।

প্রশিক্ষণে জেলার ২০ জন আইনজীবী অংশগ্রহণ করেন।

Model Hospital

কর্মশালার উদ্বোধন করেন চাঁদপুর জেলা লিগ্যাল এইডের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সিনিয়র সহকারী জজ জিহান সানজিদা।

তিনি তার বক্তব্য বলেন নিরাপদ অভিবাসন এর তথ্য তুলে ধরা, অভিবাসন আইনের ব্যাপক প্রয়োগের উপর গুরুত্ত্ব দিতে হবে। আইনজীবিদের মাধ্যমে জনগণের কাছে এই তথ্যসমূহ পৌঁছে দেয়া সহ এবং আইনগত সহায়তা প্রত্যাশী অভিবাসনকর্মীদের প্রত্যাশিত সেবা প্রদান করার বিষয়ে ভূমিকা পালন করলেই অভিবাসীকর্মীরা ন্যায় বিচার পাবে।

কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি জনাব অ্যাড. এ এন এম মাইনুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. জনাব বদরুল আলম চেীধুরী, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবি সমিতির সদস্য ও সিম্স প্রকল্পের আইনজীবি অ্যাড: ফেরদৌস নিগার।

প্রশিক্ষণে আরোও বক্তব্য রাখেন প্রকল্পের প্যানেল আইনজীবি ও বিএনডব্লিউএলএর সদস্য জেলা জজ আদালতের পিপি অ্যাড. কহিনুর বেগম।

এ প্রশিক্ষণে ফ্যসিলিটেটর এর দায়িত্ব পালন করেন অ্যাড: তানভিয়া রোজলিন সুলতানা।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’