শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

জাকের পার্টি সততা ও নৈতিকতার রাজনীতিতে বিশ্বাসী : আনোয়ার হোসেন রুবেল

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৪, ৮:০০ পিএম
জাকের পার্টি সততা ও নৈতিকতার রাজনীতিতে বিশ্বাসী : আনোয়ার হোসেন রুবেল

জাকের পার্টি ছাত্রফ্রন্ট ১২নং ফরাজিকান্দি ইউনিয়নে সাংগঠনিক সভা ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা সাংগঠনিক বিভাগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন রুবেল।

জাকের পার্টি ছাত্রফ্রন্ট কুমিল্লা সাংগঠনিক বিভাগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন রুবেল বলেছেন কোন আদর্শবিহীন দলের সাথে জোট বেঁধে ক্ষমতার রাজনীতির অংশীদারিত্বে জাকের পাটি বিশ্বাসী নয়। জাকের পার্টি ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং সততা ও নৈতিকতার রাজনীতিতে বিশ্বাসী। আর এ লক্ষকে সামনে রেখেই জাকের পার্টি কাজ করছে।

এদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ একদিন জাকের পার্টিকেই ক্ষমতার মসনদে বসাবে। জাকের পার্টি শান্তির বার্তা আজ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিচ্ছে। সারা দেশে ইতিমধ্যে সাংগঠনিক তৎপরতায় জাকের পার্টি চমক সৃষ্টি করেছি।

শনিবার (৩০ নভেম্বর) বিকালে ১০৩নং বড় চরকালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে জাকের পার্টি ছাত্রফ্রন্ট, মতলব উত্তরে
১২নং ফরাজিকান্দি ইউনিয়ন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষনা ও মহা পবিত্র বিশ্ব ইসলামী সম্মেলন-২০২৫-এর প্রস্তুতি উপলক্ষে সাংগঠনিক সভা ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথিরের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সুযোগ নিয়ে কিছু উগ্রবাদী সংগঠন মাজারগুলোতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করছে করছে। যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান।

Model Hospital

নতুবা দেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হবার আশঙ্কা প্রকাশ করেন। একই সাথে দেশি-বিদেশি চক্রান্ত হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা লাগাতে তৎপর যার প্রতিরোধের আহ্বান করেন। কল্যাণ রাষ্ট্র গঠন ও টেকসই উন্নয়ন এর লক্ষ্যে জাতিকে জাকের পার্টির পতাকাতলে আসার আহ্বান জানান। সে লক্ষ্যে আগামী ৮-১১ ফ্রেরুয়ারি জাকের পার্টির বিশ্ব মহা সম্মেলনে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি ও দেশ নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে উপস্থিত থাকার আহবান জানানো হয়।

মতলব উত্তর উপজেলা ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি মোঃ ডালিম সরকারের সভাপ্রধানে সভায় বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর উত্তর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি মোঃ মোর্শেদ সরকার, সহকারী শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মোঃ সিয়াম হোসেন খান, মতলব উত্তর উপজেলা কৃষক ফ্রন্টের সভাপতি মোঃ হান্নান, জাকের পার্টি মূলদল ও অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সাংগঠনিক সভায় মোঃ শাকিলকে আহ্বায়ক, মোঃ সজিব সরকারকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ফরাজিকান্দি ইউনিয়ন ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। সভাশেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় মিলাদ মাহফিল ও দোয়া করা হয়।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’