শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

নৌ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা চাঁদপুর আধুনিক লঞ্চ টার্মিনাল পরিদর্শন

অনিয়ম পেলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ব্লাক লিস্টে রাখা হবে : ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেন

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২৪, ৫:১৮ পিএম
অনিয়ম পেলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ব্লাক লিস্টে রাখা হবে : ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেন

চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএ টার্মিনাল ভবন নির্মাণ প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন।

নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, আমরা প্রতিবেশীদের সাথে শান্তিতে থাকতে চাই। কিন্তু উনারা যদি পায়ে পড়ে ঝগড়া করেন, তাহলে বাংলাদেশের মানুষ আর কোনদিন ওই দেশমুখী হবে না। মনে রাখবেন এটা ১৮ কোটি মানুষের দেশ, আপনাদের আশেপাশে থাকা ছোটখাটো দেশ নয়।’

মঙ্গলবার (০৩ নভেম্বর) সকালে নির্মাণাধীন চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএ টার্মিনাল ভবন নির্মাণ প্রকল্পের (বাংলাদেশ আঞ্চলিক অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন প্রকল্প-১) কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

আধুনিক লঞ্চ টার্মিনাল কাজের অগ্রগতি প্রসঙ্গে নৌ উপদেষ্টা বলেন, ‘আগে যা অনিয়ম-চুরি হয়েছে, সেগুলো এখন আর জাল দিয়েও ধরে আনা যাবে না। এখন যাতে আর চুরি না হয় সেটাই আমাদের দেখার বিষয়। যার কারণে আমি নিজেই কাজের অগ্রগতি দেখার জন্য এসেছি। অনিয়ম পেলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ব্লাক লিস্টে রাখা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ভারত বন্ধুসুলভ আচরণ করছে না, পায়ে পড়ে ঝগড়া করলে বাংলাদেশের মানুষ ভারতমুখী হবে না।

Model Hospital

ভারত যা করছে কোনো কারণ নেই এসব করার। নাগরিক হিসাবে আমি মনে করি আমাদের সঙ্গে ভালো রিলেশন থাকার কথা। একটা দেশের সঙ্গে দেশের, মানুষের সঙ্গে মানুষের হয়, কে ক্ষমতায় থাকল না থাকল সেটা বড় কথা নয়। আমরা সব সময় ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব রক্ষা করার জন্য তৈরি। আমাদের দেশে অন্য ধর্মাবলম্বী যারা আছেন তারা আমাদের নাগরিক। আমরা তাদের ভালো-মন্দ দেখছি। ভারতের গণমাধ্যম যা করছে, দয়া করে এসব করবেন না। আমরা দুই-দেশ বন্ধুত্ব নিয়ে থাকতে চাই।’

আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহযোগিতা নিয়ে নদী বন্দরগুলো থেকে রাজস্ব আদায় কার্যক্রমের গতি বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগের গ্রহণের নির্দেশনা দেন নৌ পরিবহন উপদেষ্টা। এছাড়া সরকারি নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা প্রত্যেকটি ঘাটের দর্শনীয় স্থানে প্রদর্শন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

নদীবন্দরগুলোর সার্বিক কর্মকান্ড পরির্দশন করে সন্তোষ প্রকাশ করেন উপদেষ্টা। এ সময় সততা ও দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালনের জন্য সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি নৌ পথে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে বিআইডব্লিউটিএ’কে আইনের কঠোর প্রয়োগ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন, পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব পিপিএম, চাঁদপুর অঞ্চলের নৌ পুলিশ সুপার সৈয়দ মোশফিকুর রহমান, চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএ উপ পরিচালক বছির আলী খান, প্রেসক্লাব সভাপতি শাহাদাত হোসেন শান্ত প্রমুখ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’