শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

ঘুষ-তদবির ছাড়াই চাঁদপুরে পুলিশে চাকরি পেয়ে কাঁদলেন ৭১ জন

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৪, ৫:৪৫ পিএম
ঘুষ-তদবির ছাড়াই চাঁদপুরে পুলিশে চাকরি পেয়ে কাঁদলেন ৭১ জন

ঘুষ ও তদবির ছাড়াই চাঁদপুরে পুলিশ কনস্টেবল পদে ৭১ জন নির্বাচিত প্রার্থীরা জেলার পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব পিপিএম এর সাথে।

চাঁদপুরের সুযোগ্য পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব পিপিএম এর সু দৃষ্টি আর সচ্চতায় জেলার ৭১ জন প্রার্থী মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে এ বছর বাংলাদেশ পুলিশে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

বুধবার (৪ ডিসেম্বর) রাতে চাঁদপুর জেলা পুলিশ লাইন্স ড্রিল শেডে নির্বাচিতদের নাম ঘোষণা করেন নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি ও জেলার পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব পিপিএম।

এই নিয়োগকে কোনো রকম তদবির বা সুপারিশ না করায় চাঁদপুরবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে পুলিশ সুপার নির্বাচিতদের বলেন, সততা ও দক্ষতার সাথে ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে কাজ করার আহবান জানান। ‘যে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার মাধ্যমে তোমাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, আমি আশা করব তোমরাও সাধারণ জনগণকে সেরকম সততা, নিরপেক্ষতা এবং দুর্নীতিমুক্ত হয়ে পেশাদারিত্বের সাথে সেবা প্রদান করবে। যারা নির্বাচিত হয়েছেন তারা সম্পূর্ণ তদবিরবিহীন, প্রভাবমুক্ত, স্বচ্ছ, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্বাচিত হয়েছে।

তিনি উত্তীর্ণ সকলের উদ্দেশে আগামী দিনে ‘সেবার ব্রতে চাকরি’ এই মহান ব্রতে উজ্জীবিত হয়ে, সততা দেশপ্রেম এবং কর্মনিষ্ঠার মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল রাখার আহ্বান জানান।

Model Hospital

জানা যায়, এই নিয়োগে চাঁদপুর জেলা থেকে অনলাইনে মোট ২৪ শ ২৮ জন প্রার্থী আবেদন করেন। তিন ধাপে শারীরিক সক্ষমতা যাচাই-বাছাই শেষে ৫৮৮ জন প্রার্থী গত ২৭ নভেম্বর লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১২৪ জন প্রার্থী বুধবার মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। নির্বাচিত ৭১ জনের মধ্যে উপজাতি কোটায় একজন, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় একজন এবং সাধারণ কোটায় ৬৯ জন।

এ ছাড়া ৭ জনকে অপেক্ষমান হিসেবে রাখা হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের মধ্যে অনেকেই আনন্দে আপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলেন। তারা তখনো বিশ্বাস করতে পারেননি কোনো প্রকার তদবির ও টাকা ছাড়াই পুলিশে চাকুরি পেয়েছেন। অশ্রুসিক্ত নয়নে অনেকের কান্না উপস্থিত সকলের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।

ফলাফল ঘোষণার সময় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) (পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত) সুদীপ্ত রায়, লক্ষ্মীপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ), (পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত), ও টিআরসি নিয়োগ বোর্ডের সদস্য মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক, চাঁদপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) রাশেদুল হক চৌধুরী, কুমিল্লা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, (সদর সার্কেল) ও টিআরসি নিয়োগ বোর্ডের সদস্য মারুফা নাজনীনসহ নিয়োগ প্রত্যাশীদের অভিভাবকরা।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’