শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব উত্তরে নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে ছাত্রদলের মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৪, ৪:২৩ পিএম
মতলব উত্তরে নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে ছাত্রদলের মানববন্ধন

চাঁদপুরের মতলব উত্তরে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে পতিত সরকারের আমলে গুম-খুনের শিকার ছাত্রদলের সব নেতাকর্মী ও নাগরিকের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

চাঁদপুরের মতলব উত্তরে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে পতিত সরকারের আমলে গুম-খুনের শিকার ছাত্রদলের সব নেতাকর্মী ও নাগরিকের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলার ছেংগারচর সরকারী ডিগ্রি কলেজের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে আওয়ামীলীগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে নির্মম হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের শিকার ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের নিপীড়নের ঘটনার বিচারের দাবিও জানান তারা।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, মতলব উত্তর উপজেরা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নুরুল হুদা ফয়েজী, সদস্য সচিব জয়নাল আবেদীন পিনু, ছেংগারচর পৌর ছাত্রদলের সভাপতি শাকিল খান, সদস্য সচিব ফরহাদ, ছেংগারচর সরকারী ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক আ. রহমান মুন্নাসহ আরো অনেকে।
এসময় উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য রনি পাটোয়ারী, মো. শান্ত, কলাকান্দা ইউনিয়ন ছাত্রদলের আহ্বায়ক আ. খায়ের রানা, ষাটনল ইউনিয়ন ছাত্রদলের আহ্বায়ক নাদিম প্রধান, মোহনপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন কলাকান্দা ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শুভ, নাহিদ প্রমুখ।
এ সময় বক্তারা বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের ১৫ বছরের দুঃশাসন, গুম-খুনের রাজনীতি বাংলাদেশ থেকে বিদায় নিয়েছে। এই ধারা থেকে বের হয়ে নতুন বাংলাদেশ মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত এ কাজ করে যাবে বলে আমরা আশা করছি। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের দেড় হাজারের বেশি নেতাকর্মী ফ্যাসিস্ট সরকারের গুম ও খুনের শিকার হয়েছেন। অবিলম্বে এই সরকারকে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’
বক্তারা বলেন, ‘আমরা এই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে অঙ্গীকারবদ্ধ যে ছাত্রলীগ যে ধরনের অপরাজনীতি করে গিয়েছে, তাদের মতো ছাত্রদল কখনোই করবে না। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল শিক্ষার্থীবান্ধব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সবার অধিকার নিশ্চিত করবে।’
বক্তারা আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল প্রতিবছরের মতো বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালন করেছে। আমরা দীর্ঘদিনের গুম-খুনের রাজনীতি থেকে বের হতে পেরেছি। গত স্বৈরাচার সরকার আওয়ামী লীগ ও এর বসানো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে নির্মম হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের শিকার ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে আহ্বান জানাই।’

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’