বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

নারী কেলেংকারীতে জড়িত শিক্ষকের অপসারণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

মোঃ রাফিউ হাসান হামজা প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৪, ৭:৪৪ পিএম
নারী কেলেংকারীতে জড়িত শিক্ষকের অপসারণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন
চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তিতে চাঁদপুর হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের শিক্ষক ডাঃ মঞ্জুরুল ইসলাম মোহনের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারিসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত থাকার পরেও বহাল তবিয়তে ক্লাস নেয়ায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা সংবাদ সম্মেলন করেছে।
মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) কলেজ প্রাঙ্গনে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা, সাময়িক বরখাস্ত হওয়া সাবেক অধ্যক্ষ মোঃ তামজীদ হোসেন ও শিক্ষক ডাঃ মঞ্জুরুল ইসলাম মোহনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও কলেজ নিয়ে মিথ্যাচার ও সম সাময়িক বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের উদ্দ্যেশ্যে বক্তব্য রাখেন।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা নারী শিক্ষার্থীরা এই কলেজে অভিযুক্ত শিক্ষকের কাছে নিরাপদ নই। সেই প্রেক্ষিতে গত ১১ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর কলেজ শিক্ষার্থী উম্মে সুমাইয়া রশিদ, ডাঃ মঞ্জুরুল ইসলাম মোহনের কুকীর্তির বিচার চেয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। গত ২০ আগষ্ট একই কলেজের শিক্ষার্থী আম্মাতুল নূর নারী লিপ্সু শিক্ষক মোহনের বিরুদ্ধে অপকর্মের অভিযোগ দায়ের করেন। তবে অজানা কারণে অভিযুক্ত শিক্ষককে পুনর্বহালের জন্য একটি চক্র উঠে পড়ে লেগেছে।
তারা আরও বলেন, দূর্ণীতি ও নারী কেলেংকারীতে অভিযুক্ত সাবেক অধ্যক্ষ ডাঃ মোঃ তামজীদ হোসেনের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি ডাঃ মঞ্জুরুল ইসলাম মোহন নিজেও নারী কেলেংকারীতে অভিযুক্ত। তা তদন্ত রিপোর্টে স্পষ্ট উল্লেখও রয়েছে। এমনকি বর্তমানেও অনেক মেয়ে শিক্ষার্থীদের তিনি কু প্রস্তাবও দিচ্ছেন। অভিযুক্ত শিক্ষক দোষী সাব্যস্থ হওয়ার পরেও কিভাবে আবার ক্লাস নিতে আসে কলেজে। আমরা আদৌ কি তার কাছে নিরাপদ?
তাই সুষ্টু তদন্তের মাধ্যমে তাকে বহিষ্কারের পাশাপাশি কঠিন শাস্তির দাবি জানাচ্ছি আমরা৷ এজন্য চাঁদপুর হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ, শিক্ষা উপদেষ্টা, প্রধান উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সকলের নিকট আমরা সহযোগিতা চাচ্ছি।
একই সময়ে কলেজের শিক্ষকরা বহিষ্কৃত অধ্যক্ষ তামজীদ হোসেনের দাম্ভিকতা ও ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকান্ড নিয়ে নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করেন। স্থানীয় কিছু পত্রিকায় মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদের তীব্র সমালোচনা করে তারা দোষী ব্যক্তিদের কঠিন শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি শিক্ষা বান্ধব কর্ম পরিবেশ তৈরীতে স্থানীয় প্রশাসন, সচেতন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন।

মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সিয়াম উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আবদুস সোবাহানের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে বাবা আবদুস সোবাহান তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ শনাক্ত হয়। এ সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে রওনা দেওয়ার আগেই রাত নয়টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

Model Hospital

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মামুন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা যায় তরুণের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার আগেই তার মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বাবা আবদুস সোবাহান বলেন, আমার পোলাডার এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর আছিল। ওরে কইছিলাম ডাক্তারের কাছে যাইতে, কিন্তু হুনল না। অবস্থা বেশি খারাপ হইলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনলাম। হাসপাতালে আনার পরই নাক-মুখ দিয়া রক্ত পড়া শুরু হয়। ঢাকা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ঠিক করছিলাম, কিন্তু তার আগেই আমার সব শ্যাষ অইয়া গেল।