৪৮ ঘন্টায়
শাহরাস্তিতে সড়কের দু’পাশে ৫শ’ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ
মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৪, ৯:৫৪ পিএম
শাহরাস্তিতে প্রশাসনের অভিযানে মহাসড়কের দু’পাশের অন্তত পাঁচ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।
গত দুইদিন ধরে চাঁদপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং চাঁদপুর ও শাহরাস্তি উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় চাঁদপুর কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের এনায়েতপুর থেকে রসুলপুর পর্যন্ত শাহরাস্তি অংশে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও দাপ্তরিক সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই সড়কের দু’পাশে প্রভাবশালীদের তত্ত্বাবধানে সড়ক ও জনপদ বিভাগের সরকারি সম্পত্তিতে বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠে। ওই সম্পত্তির সুযোগ-সুবিধা ভোগদখল করে আসছিল একশ্রেণীর প্রভাবশালী মহল।
চাঁদপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগ, জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন বিভিন্ন সময় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য বিভিন্ন সময়ে পরিপত্র জারি করা সত্ত্বেও দখলদাররা তাদের দখলদারিত্ব বজায় রাখেন। অবশেষে প্রশাসনের উদ্যোগে গত বুধ ও বৃহস্পতিবার যৌথ অভিযানে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শাহরাস্তি উপজেলার শাহরাস্তি গেইট (দোয়াভাঙ্গা) এলাকায় জেলা প্রশাসন ও সওজ সড়ক বিভাগ, চাঁদপুরের যৌথ উদ্যোগে সড়কের জায়গায় গড়ে ওঠা এসব অবৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।

এর একদিন পূর্বে বুধবার উপজেলার ওয়ারুক বাজার, দোয়াভাঙ্গা ও কালিয়াপাড়া বাজার থেকে ব্যবসায়ীদের স্থাপনা নিজ দায়িত্বে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে ওই অবৈধ স্থাপনাসমূহ উচ্ছেদ করা হয়। ওই অভিযানে বুলডোজার দিয়ে অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেওয়া হয়।
গত মঙ্গলবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া ওই অভিযানে জেলা প্রশাসনের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন, শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইয়াসির আরাফাত ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রেজওয়ানা চৌধুরী।
অভিযান প্রসঙ্গে শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, জেলা প্রশাসনের দাপ্তরিক নির্দেশে সড়ক ও জনপথ বিভাগ ও সরকারি দখলকৃত সম্পত্তির অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে এ অভিযান।
আজ শাহরাস্তি উপজেলার দোয়াভাঙ্গা এলাকায় সড়ক ও জনপদ বিভাগের জায়গা হতে দিনব্যাপী অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
এ সময় প্রায় ৫০টি আধা-পাকা, পাকা দোকান ঘর উচ্ছেদ করা হয় এবং প্রায় ২ (দুই) একর সরকারী জায়গা উদ্ধার করা হয়।

দোয়াভাঙ্গা এলাকায় সড়ক বিভাগের রাস্তাসহ দুইপাশে প্রায় ১৮০ ফিট করে জায়গা রয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন প্রসঙ্গে নির্বাহী অফিসার বলেন, তারা আইনি কাঠামোর মধ্যে সুবিধা চাইলে তা পেতেও পারে।
গণমাধ্যম কর্মী মাহবুব হাছান বাবলু বলেন, এমন অভিযান অতীতেও হয়েছিল। প্রশাসনের আইনি কাঠামো ও টেকসই প্রতিরোধ ব্যবস্থা প্রয়োগ করে এ সম্পদ রক্ষা করতে হবে। অন্যথায় যেই লাউ সেই কদু অবস্থা হবে।
শাহরাস্তি গেইট এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, সরকারি অর্থ ব্যয় করে অভিযান অতীতেও হয়েছিল, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তন ও প্রশাসনের চৌকস সাহসী কর্মকর্তাদের পদায়নে বদলি হলে, ওই দখলদার গুষ্টি পুনরায় বিভিন্ন কৌশলে দখলদারিত্ব বুঝে নেয়।
এ প্রসঙ্গে শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, আমি যতদিন রয়েছি, এমন সম্ভাবনা ক্ষীণ।
এ ব্যাপারে সওজ সড়ক উপ-বিভাগ চাঁদপুরের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ওয়াছিউদ্দিন আহমেদ জানান, গত নভেম্বর মাস থেকে এ আঞ্চলিক মহাসড়কে হাজীগঞ্জ অংশের বাকিলা বাজার এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। চলমান এ প্রক্রিয়া পর্যায়ক্রমে সকল সম্পত্তি উদ্ধার করা হবে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আইন শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিয়োজিত বাহিনী ও পুলিশ প্রশাসনের একদল পুলিশ কর্মকর্তা সঙ্গীয় ফোর্স দিনব্যাপী অভিযানে সহযোগিতা করেন।








