বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

৪৮ ঘন্টায়

শাহরাস্তিতে সড়কের দু’পাশে ৫শ’ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৪, ৯:৫৪ পিএম
শাহরাস্তিতে সড়কের দু’পাশে ৫শ’ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ
শাহরাস্তিতে প্রশাসনের অভিযানে মহাসড়কের দু’পাশের অন্তত পাঁচ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।
গত দুইদিন ধরে চাঁদপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং চাঁদপুর ও শাহরাস্তি উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় চাঁদপুর কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের এনায়েতপুর থেকে রসুলপুর পর্যন্ত শাহরাস্তি অংশে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও দাপ্তরিক সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই সড়কের দু’পাশে প্রভাবশালীদের তত্ত্বাবধানে সড়ক ও জনপদ বিভাগের সরকারি সম্পত্তিতে বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠে। ওই সম্পত্তির সুযোগ-সুবিধা ভোগদখল করে আসছিল একশ্রেণীর প্রভাবশালী মহল।
চাঁদপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগ, জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন বিভিন্ন সময় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য বিভিন্ন সময়ে পরিপত্র জারি করা সত্ত্বেও দখলদাররা তাদের দখলদারিত্ব বজায় রাখেন। অবশেষে প্রশাসনের উদ্যোগে গত বুধ ও বৃহস্পতিবার যৌথ অভিযানে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শাহরাস্তি উপজেলার শাহরাস্তি গেইট (দোয়াভাঙ্গা) এলাকায় জেলা প্রশাসন ও সওজ সড়ক বিভাগ, চাঁদপুরের যৌথ উদ্যোগে সড়কের জায়গায় গড়ে ওঠা এসব অবৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।
এর একদিন পূর্বে বুধবার উপজেলার ওয়ারুক বাজার, দোয়াভাঙ্গা ও কালিয়াপাড়া বাজার থেকে ব্যবসায়ীদের স্থাপনা নিজ দায়িত্বে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে ওই অবৈধ স্থাপনাসমূহ উচ্ছেদ করা হয়। ওই অভিযানে বুলডোজার দিয়ে অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেওয়া হয়।
গত মঙ্গলবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া ওই অভিযানে জেলা প্রশাসনের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন, শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইয়াসির আরাফাত ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রেজওয়ানা চৌধুরী।
অভিযান প্রসঙ্গে শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, জেলা প্রশাসনের দাপ্তরিক নির্দেশে সড়ক ও জনপথ বিভাগ ও সরকারি দখলকৃত সম্পত্তির অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে এ অভিযান।
আজ শাহরাস্তি উপজেলার দোয়াভাঙ্গা এলাকায় সড়ক ও জনপদ বিভাগের জায়গা হতে দিনব্যাপী অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
এ সময় প্রায় ৫০টি আধা-পাকা, পাকা দোকান ঘর উচ্ছেদ করা হয় এবং প্রায় ২ (দুই) একর সরকারী জায়গা উদ্ধার করা হয়।
দোয়াভাঙ্গা এলাকায় সড়ক বিভাগের রাস্তাসহ দুইপাশে  প্রায় ১৮০ ফিট করে জায়গা রয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন প্রসঙ্গে নির্বাহী অফিসার বলেন, তারা আইনি কাঠামোর মধ্যে সুবিধা চাইলে তা পেতেও পারে।
গণমাধ্যম কর্মী মাহবুব হাছান বাবলু বলেন, এমন অভিযান অতীতেও হয়েছিল। প্রশাসনের আইনি কাঠামো ও টেকসই প্রতিরোধ ব্যবস্থা প্রয়োগ করে এ সম্পদ রক্ষা করতে হবে। অন্যথায় যেই লাউ সেই কদু অবস্থা হবে।
শাহরাস্তি গেইট এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, সরকারি অর্থ ব্যয় করে অভিযান অতীতেও হয়েছিল, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তন ও প্রশাসনের চৌকস সাহসী কর্মকর্তাদের পদায়নে বদলি হলে, ওই দখলদার গুষ্টি পুনরায় বিভিন্ন কৌশলে দখলদারিত্ব বুঝে নেয়।
এ প্রসঙ্গে শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, আমি যতদিন রয়েছি, এমন সম্ভাবনা ক্ষীণ।
এ ব্যাপারে সওজ সড়ক উপ-বিভাগ চাঁদপুরের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ওয়াছিউদ্দিন আহমেদ জানান, গত নভেম্বর মাস থেকে এ আঞ্চলিক মহাসড়কে হাজীগঞ্জ অংশের বাকিলা বাজার এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। চলমান এ প্রক্রিয়া পর্যায়ক্রমে সকল সম্পত্তি উদ্ধার করা হবে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আইন শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিয়োজিত বাহিনী ও পুলিশ প্রশাসনের একদল পুলিশ কর্মকর্তা সঙ্গীয় ফোর্স দিনব্যাপী অভিযানে সহযোগিতা করেন।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী
মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাছুয়াখাল জমাদার বাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদেরও সমন্বয় করা উচিত। যে কোনো দুর্যোগে খাদেরগাঁও ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।
পরিদর্শনকালে জেলা বিএনপির সদস্য ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ  পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।