বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

 সিভিল সার্জন চাঁদপুর ডাঃ মোহাম্মদ নুর আলম দীন বলেছেন

কর্মচারীর অভাব হয়তো পূরণ হবে, কিন্তু ডাঃ তানজিনার ঘাটতি রয়ে যাবে

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৪, ৭:৫৫ পিএম
কর্মচারীর অভাব হয়তো পূরণ হবে, কিন্তু ডাঃ তানজিনার ঘাটতি রয়ে যাবে

শাহরাস্তি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অবসর উত্তর ছুটিতে গমন করায় এক ডাক্তার সহ ৪ কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার বিকেলে শাহরাস্তি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়োজনে হাসপাতাল মিলনায়তনে এটি অনুষ্ঠিত হয়।

ওইদিন ডা: সারোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় এতে শাহরাস্তি স্বাস্থ্য পঃপঃ কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডাঃ আকলিমা জাহানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন,চাঁদপুর সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ নুর আলম দীন।

বক্তব্য বলেন, আজ যে সকল ডাক্তার ও কর্মচারী অবসর জনিত ছুটিতে গমন করেছেন, চাকরির বিধি মোতাবেক এটি একটি নিয়ম। কিন্তু মানবতার সেবায় আপনাদের অবদান এই জনপদের অধিবাসীরা কৃতজ্ঞচিত্রে অবশ্যই স্মরণে রাখবেন।

Model Hospital

এক পর্যায়ে তিনি বলেন, তানজিনা সুলতানা সিনিয়র কনসালটেন্ট (প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগ) শাহরাস্তির সন্তান ও গৃহবধূ ছিলেন।

তিনি দীর্ঘদিন এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ সেবা দিয়ে আপামর জনতার ডাঃ তানজিনা হয়েছেন।

সেটি অবশ্যই যোগ্যতার মাপকাঠি,ভালোবাসা,সেবা দিয়ে এ সম্মান অর্জন সম্ভব হয়েছে।

আপনাদের ভালোবাসা দেখে মনে হয়, কর্মচারীর অভাব হয়তো পূরণ হবে, কিন্তু ডাঃ তানজিনার ঘাটতি রয়ে যাবে।

অন্য চারজন কর্মচারীর বিদায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারাও নিজ কর্মক্ষেত্রে অতন্দ্র প্রহরীর মত দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের অবদানও কোন অংশে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। তাদের কে ধন্যবাদ জানাই।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন,ডা: আরএমও ডাঃ অচিন্ত্য কুমার চক্রবর্তী,ডা: আহসানুল কবির (কনসালটেন্ট, হৃদরোগ বিভাগ), ডাঃ অসিত কুমার দাস (ডেন্টাল সার্জন) ডাঃ খন্দকার আতিকুর রহমান (শিশু বিশেষজ্ঞ), ডাঃ সাইফুল ইসলাম,ডাঃ জিল্লুর রহমান ভূঁইয়া , ডাঃ ফারুক হোসেন, ডাঃ খালিদুর রহমান, ডাঃ ফরিদা ইয়াসমিন কনা( মেডিকেল অফিসার, হোমিওপ্যাথিক) ডাঃ মুশফেক বিন বাকের,ডা: আব্দুল্লাহ আল মামুন,ডাঃ আয়েশা সিদ্দিকা,ডাঃ মোঃ আফতাবুল আলম,ডাঃ নুরুন নবী, ডাঃ খালিদুর রহমান জিহাদসহ,উপ- সহকারী (স্যাকমো),সেবিকা, কর্মকর্তা কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য,ওইদিন একজন ডাক্তার সহ ৪ জন কর্মচারী অবসর উত্তর ছুটিতে গমন করেন।তারা হলেন, তানজিনা সুলতানা সিনিয়র কনসালটেন্ট,(গাইনী এন্ড অবস্), মোঃ ইব্রাহিম মজুমদার (সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক),মাহফুজা বেগম (স্বাস্থ্য সহকারী), মোঃ নূরুল আমিন (নৈশ প্রহরী),ফেরদৌসী বেগম (সহকারী বাবুর্চী)।

হাজীগঞ্জে অপরাধী আটকের নামে প্রবীণকে মারধরের ঘটনায় হামলাকারীদের শনাক্তের নির্দেশ আদালতের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২৪ পিএম
হাজীগঞ্জে অপরাধী আটকের নামে প্রবীণকে মারধরের ঘটনায় হামলাকারীদের শনাক্তের নির্দেশ আদালতের

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে অপরাধী আটকের নামে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এক প্রবীণ ব্যক্তিকে মারধর ও হেনস্তার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় হামলাকারীদের শনাক্ত করে তাঁদের বিস্তারিত ঠিকানা সংগ্রহ এবং সাক্ষীদের তালিকা প্রস্তুত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন চাঁদপুরের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও জাস্টিস অব দ্য পিস মুজাহিদুর রহমান।

হাজীগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বলাখাল বাজারে এক প্রবীণ ব্যক্তিকে ‘ইয়াবা কারবারি’ আখ্যা দিয়ে মারধরের একটি ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি আদালতের নজরে এলে ভিডিও ও ছবি পর্যালোচনা করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।

আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, একটি নিউজ পোর্টালের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, বলাখাল বাজারের একটি মুদিদোকানে থাকা এক প্রবীণ ব্যক্তিকে কয়েকজন তরুণ ইয়াবা কারবারের অভিযোগে চড়-থাপ্পড় ও মারধর করছেন। ভিডিওতে এক তরুণের হাতে ইয়াবাসদৃশ বস্তু দেখা যায়। পরে ওই বস্তু প্রদর্শন করে মুঠোফোনে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানোর দৃশ্যও রয়েছে।

ভিডিওতে থাকা কথোপকথনের ভিত্তিতে ওই প্রবীণ ব্যক্তিকে হাজীগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর বলাখাল ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর নিজাম কাজী বলে প্রতীয়মান হয়েছে বলে আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ঘটনাস্থলে পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বা কোনো প্রশাসনিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন না বলেও আদেশে বলা হয়েছে।

Model Hospital

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মাদক-সংক্রান্ত অপরাধে অভিযুক্ত বা সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে তল্লাশি বা আটক করার ক্ষমতা ব্যক্তিগত নাগরিকের নেই। ভিডিও পর্যালোচনায় কয়েকজন তরুণ ওই প্রবীণ ব্যক্তির দোকানে বেআইনিভাবে প্রবেশ করেছেন বলেও প্রতীয়মান হয়েছে। এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৮, ৩২৩ ও ৫০৬ ধারায় অপরাধের বিষয়টি বিবেচনায় এসেছে।

আদেশে আরও বলা হয়, কোনো ব্যক্তিকে অপরাধের সন্দেহে বেআইনি জনতার মাধ্যমে আটক করে মারধর করা ‘মব কালচারের’ গুরুতর উদাহরণ। এ ধরনের ঘটনায় নাগরিকের সংবিধানপ্রদত্ত মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ও জড়িত।

উচ্ছৃঙ্খল তরুণ ও কিশোরগ্যাংয়ের বেআইনি কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আইন প্রয়োগের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে আদালতের আদেশে। আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান আইন যথাযথভাবে প্রয়োগের কথা বলা হয়েছে।

আদেশ অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে অনুপ্রবেশকারী ও হামলাকারীদের শনাক্ত করে তাঁদের বিস্তারিত ঠিকানা সংগ্রহ এবং সাক্ষীদের তালিকা প্রস্তুত করে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, হাজীগঞ্জ সার্কেলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একই সময়সীমার মধ্যে ওই ঘটনায় কিশোরগ্যাংয়ের হাতে আটক প্রবীণ ব্যক্তির বিরুদ্ধে কথিত মাদক উদ্ধারের অভিযোগে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা আদালতকে জানাতে হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালতের এ নির্দেশের পর ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ ও পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে।