শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা শাখার শপথ অনুষ্ঠান

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ৯:১৯ পিএম
ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা শাখার শপথ অনুষ্ঠান

ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটির শপথ পাঠ করান প্রধান অতিথি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কুমিল্লা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কুমিল্লা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন বলেছেন ইসলামী শ্রম নীতি ছাড়া শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। বিশ্বের বিভিন্ন বিপ্লব ও পরিবর্তনে শ্রমিকদের অবদান অমূল্য এবং অনস্বীকার্য। শ্রমজীবী মানুষের অংশগ্রহণ ছাড়া একটি দেশ কখনো উন্নয়ন ও পরিবর্তনের সঠিক পথে এগোতে পারে না। শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ইসলামী শ্রমনীতির কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ শ্রমজীবী মেহনতি মানুষ। এদেশের সরকার পরিবর্তনে শ্রমজীবীদের অগ্রণী ভূমিকা রয়েছে। জাতীয়তাবাদ, পুঁজিবাদ, সমাজতন্ত্র কোথাও শান্তি নেই একমাত্র ইসলামী শ্রমনীতিতেই রয়েছে শান্তি।

বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারী) বাদ মাগরিব ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা শাখার উদ্যোগে পূর্ণাঙ্গ কমিটির শপথ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, গত ১৬ বছর ধরে কেউ ভোট দিতে পারেনি। আগামীতে যে নির্বাচন হবে সেখানে নির্ভয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবে ।দেশে যত আন্দোলন সংগ্রাম হয়েছে সেখানে শ্রমিকরা জীবন দিয়েছে কোনো শিল্পপতি জীবন দেয়নি। তারপরও শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পায়নি। ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দিতে কাজ করে যাচ্ছে।

Model Hospital

আজকের পর থেকে আর কোনো অন্যায় অত্যাচার হতে দেওয়া হবে না। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার সাংবিধানিক সকল প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছে বিশেষ করে নির্বাচন ব্যবস্থা কে সমূলে শেষ করে দিয়েছে তাই নির্বাচন পদ্ধতিতে সংস্কার সর্বপ্রথম প্রয়োজন কারণ নির্বাচন পদ্ধতিতে সংস্কার না আসলে গতানুগত নির্বাচন পদ্ধতি দ্বারা স্বাধীন ভোটাধিকার ব্যবস্থা প্রবর্তন সম্ভব হবে না। কালো টাকা পেশী শক্তির কাছে আবারও সেই নাগরিক অধিকার মাটিতে চাপা পড়ে যাবে। তাই আমাদের দাবি আগামী জাতীয় নির্বাচন সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হোক।

এতে কয়েকটি সুবিধা ভোটার বা নাগরিকগ ভোগ করতে পারবে। এক প্রত্যেক ভোটের সঠিক মূল্যায়ন হবে দ্বিতীয় এলাকায় রাজনৈতিক দানব তৈরি হবে না তৃতীয়ত কালো টাকা পেশী শক্তি প্রয়োগ বন্ধ হবে। কমবেশি সকল রাজনৈতিক দল সংসদে কথা বলার সুযোগ থাকবে বিধায় স্বৈরশাসক তৈরির পথ বন্ধ হবে। তাই (P R) বা সংখ্যাানুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতি এখন সময়ের দাবি, এই দাবি গণদাবীতে পরিণত করতে হবে।

ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা সভাপতি মুহা. আবুল বাশার তালুকদারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ নেছার উদ্দিন সুমন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, চাঁদপুর জেলা সভাপতি হাফেজ মাওঃ মাকসুদুর রহমান, মাও ইয়াসিন রাশেদ সানী প্রমূখ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’