শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

খালি জায়গার বায়না করে বিল্ডিংয়ের ভেতরে দেয়াল নির্মান করে দখল 

চাঁদপুরে যুবলীগ নেতা কর্তৃক অসহায় বিধবা নারীর বসত বাড়ি দখলের অভিযোগ 

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ৩ মার্চ, ২০২৫, ১০:৩৬ পিএম
চাঁদপুরে যুবলীগ নেতা কর্তৃক অসহায় বিধবা নারীর বসত বাড়ি দখলের অভিযোগ 
চাঁদপুর শহরের পুরানবাজারে স্বঘোষিত এক যুবলীগ নেতা কর্তৃক রহিমা বেগম (রুমা বেগম) নামে এক বিধবা নারীর বসত বাড়ি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে।‌ আওয়ামী সরকারের পতনের পর স্বঘোষিত সে যুবলীগ নেতা পালিয়ে গেলেও দখলমুক্ত হয়নি অসহায় বিধবা নারীর বসত বাড়ি। এ বিষয়ে এলাকার মুরুব্বীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে সালিশ বৈঠকেও প্রতিকার না পেয়ে থানা পুলিশের ধারস্থ হয়েছে অসহায় রুম বেগমের পরিবার।
গত ২৭ ফেব্রুয়ারি বিধবা রুমা বেগম বাদী হয়ে চাঁদপুর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনাটি ঘটে চাঁদপুর শহরের পুরান বাজার মধ্য শ্রীরামদী টি.জি রোড়স্থ ম্যানেজার বাড়ীতে। অভিযুক্তরা হলেন, একই এলাকার মৃত মোঃ ওয়াফ শেখের ছেলে ফারুক শেখ (৪০), গণি শেখ (৪৫) এবং ওয়াফ শেখের স্ত্রী রাজিয়া বেগম (৭০)।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, পুরানবাজার মধ্য শ্রীরামদী ম্যানেজার বাড়ীর মৃত আবুল হোসেন হাওলাদারের মেয়ে রহিমা বেগম (রুমা) (৫০) নিজের ৭ শতক জমিতে দীর্ঘ দিন বসবাস করছেন। সেখানে পরিবার নিয়ে থাকার জন্য একটি দোতলা বিল্ডিং রয়েছে। অর্থ সঙ্কটে পড়ে ২০২৩ সালের ১০ ডিসেম্বর প্রতিবেশী ফারুক শেখের কাছে বাড়ির পাশের ২.৭৬ শতক খালি জমি বিক্রি করেন। যার বিএস খতিয়ান নং-১৬৬১৭। উভয় পক্ষের সম্মতিতে জমির দাম ১১ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা নির্ধারন করে একটি বায়নাপত্র করা হয়।‌ বায়না বাবদ ফারুক শেখ প্রাথমিক ভাবে রুমা বেগমকে ৭ লক্ষ টাকা প্রদান করে এবং বাকি ৫ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা পরবর্তীতে এক মাসের মধ্যে পরিশোধ কবরে বলে বায়না পত্রে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে ফারুক শেখ বাকি টাকা না দিয়ে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ভাড়াটে সন্ত্রাসীসহ রুমা বেগমকে বাড়ি থেকে তুলে চাঁদপুর সাব-রেজিস্ট্রী অফিসে নিয়ে যায়। সেখানে জোর করে জমির পাওয়ার নিয়ে নিয়ে খালি জায়গা ১.৭৫‌ শতক এবং বিল্ডিংয়ের ভিতরে ১.০১ শতক জমি লিখে নেয়। শুধু তাই নয়, একই সাথে বাড়ির পানির সংযোগও তাদের নামে করে নেয়। পাওয়ার নেওয়া পর পরই তারা রুমা বেগমের বাড়ির দোতলা বিল্ডিংয়ের নিচ তলার কয়েকটি রুম ভেঙ্গে মাঝ বরাবর নতুর করে দেওয়াল তৈরি করে। এরপর থেকে তারা জোরপূর্বক দখল করা বিল্ডিংয়ের নিচ তলার একাংশ বসাবাস করা শুরু করে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী অসহায় রুমা বেগম জানান, আমার বাবা এবং স্বামী দুজনেই মারা গিয়ে। ‌একজন পুত্র সন্তানও নেই। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ফারুক শেখ এবং তার বড় ভাই গণি শেখ নিজেকে ঢাকা কাওরানবাজার যুবলীগের নেতা দাবি করে জোরপূর্বক আমার বসতবাড়ি দখল করে নিয়েছে। প্রতিবাদ করলে তারা নানাভাবে আমি এবং আমার পরিবারকে হত্যার হুমকি দেয়। সরকার পতনের পর একাধিক মামলা নিয়ে গনি শেখ পালাতক রয়েছে।
রুমা বেগম আরো বলেন, নিজের বসতবাড়ি দখলমুক্ত করতে বিষয়টি আমি এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিদের জানাই। এরপর তারা বিবাদীদের ডেকে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন। কিন্তু ফারুক শেখ এবং তার পরিবার এ বিষয়ে সমাধানের চেষ্ট না করে উল্টো বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। তারা আমার জায়গার বিক্রির বাকি টাকা দেওয়া দূরের কথা, বর্তমানে আমাকে আমার বসত বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার চেষ্টা করছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ফারুক শেখের মা রাজিয়া বেগম বলেন, আমার ছেলেদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে তা মিথ্যা। বিল্ডিং এবং খালি জায়গা সহ আমরা ২.৭৫ শতক জমি কিনেছি। জমির পুরো টাকা আমরা পরিশোধ করেছি।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’