শাহরাস্তিতে মরা গরুর মাংস বিক্রির দায়ে বিক্রেতাকে অর্থদন্ড
মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: রবিবার, ৯ মার্চ, ২০২৫, ৮:২৩ পিএম
শাহরাস্তিতে মরা গরুর মাংস বিক্রির দায়ে হেলাল উদ্দিন ২৮ নামের এক বিক্রেতা (কসাইকে) অর্থদন্ড করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। দণ্ডিত ওই মাংস বিক্রেতা কুমিল্লা জেলার মনোহরগঞ্জ উপজেলার মির্জাপুর এলাকার আব্দুল লতিফের পুত্র।
রবিবার (৯-মার্চ) সকালে শাহরাস্তি উপজেলার বেরনাইয়া বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার ভূমি ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিরুপম মজুমদার ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শাহরাস্তি উপজেলার কৃষ্ণপুর এলাকার জনৈক রফিকুল ইসলামের পুত্র মানিকের একটি বকরা গরু হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। ওই সময় পরিবারের সদস্যরা বকরা গরুটিকে চিকিৎসার জন্য উপজেলা উপ সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিনকে ফোন দেয়। তিনি চিকিৎসক রুহুল আমিন গরুটির অবস্থা মুঠোফোনে শুনেবুঝে পরিস্থিতি জটিল বলে জানান।
এতে গো-মালিক মানিক বকরা গরুটি ওই রাতেই জবাই দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
পরে স্থানীয় মসজিদের এক ইমাম সাহেবকে নিয়ে এলে তিনি অজ্ঞাত কারণে এই জবাই কাজ থেকে বিরত থাকেন। একপর্যায়ে মালিকপক্ষ পরিবারের সদস্যদেরকে নিয়ে বকরা গরুটি জবাই করে দেন।
রাত শেষে দিনের প্রথম প্রহরে গো মালিক বকরা গরুটি চামড়া ছিলে নিজের জন্য একটি পায়ের (রান) মাংস রেখে অবশিষ্ট মাংস বেরনাইয়া বাজারের মাংস বিক্রেতা (কসাই) হেলালের নিকট বিক্রি করে দেন। পরে কসাই হেলাল ওই মাংস বাজারজাত করলে ক্রেতা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দৃষ্টিতে মাংসের রং ও কোয়ালিটি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়।
পরে ভোক্তা পর্যায়ের কেউ একজন শাহরাস্তি উপজেলার নির্বাহী অফিসার ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিগার সুলতানাকে বিষয়টি অবিহিত করেন। ওই সংবাদের ভিত্তিতে শাহরাস্তি উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিরুপম মজুমদার বেরনাইয়া বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের বিভিন্ন ধারায় অভিযুক্ত কসাই হেলাল উদ্দিনকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
একই সঙ্গে মরা গরুর মাংস জব্দ করে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও এলাকাবাসীর সহযোগিতা কেরোসিন ঢেলে মাটি চাপা দেওয়া হয়।
এ সময় শাহরাস্তি উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা: মাকসুদুল আলম, উপসহকারী প্রাণিসম্পদ অফিসার মো: রুহুল আমিন, শাহরাস্তি থানা পুলিশের এসআই আনোয়ার হোসেন ও সঙ্গীও ফোর্সসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ কাজে সহযোগিতা করেন।
এদিকে মরা গরুর মাংস বিক্রি সংবাদটি স্থানীয়দের মাঝে চাউর হতেই শতশত লোক ওই বাজারে ভিড় জমায়।
একই সঙ্গে প্রশাসনের তড়িৎ ব্যবস্থাপনায় সন্তুষ্ট হয়ে ভোক্তা পর্যায়ের ক্রেতারা সাধুবাদ জানিয়েছেন।








