শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

৪শ’ সুবিধাবঞ্চিত শিশু পেলো নবজাগরণ গোল্ডেনের ঈদ উপহার বিতরণ

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ মার্চ, ২০২৫, ৯:৩৯ পিএম
৪শ’ সুবিধাবঞ্চিত শিশু পেলো নবজাগরণ গোল্ডেনের ঈদ উপহার বিতরণ

সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নবজাগরন গোল্ডেন চাঁদপুর -এর আয়োজনে সুবিধাবঞ্চিত শিশু, অসচ্ছল, নিম্নবিত্ত অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন ও পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব পিপিএম।

পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নবজাগরন গোল্ডেন চাঁদপুর -এর আয়োজনে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৮ মার্চ) বিকেলে চাঁদপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ৪ শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত শিশু, অসচ্ছল, নিম্নবিত্ত অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের মাঝে ঈদের অনাবিল আনন্দ ও হাসি ফুটাতে এই বস্ত্র বিতরণের আয়োজন করে।

আয়োজিত অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন।

তিনি বলেন, এমন একটা অনুষ্ঠানে না আসলে উপলব্ধিই করতে পারতাম না যে, সমাজের এই সুবিধা বঞ্চিত শিশুরা সামান্য একটু সহানুভুতিমাখা মিষ্টি সুরের আদরের কাঙাল। খুবই সহজে ও সামান্যতেই ওরা সবাইকে আপন করে নিতে পারে, যা সমাজের উচ্চস্তরের মানুষের মাঝে আজ বড্ড অভাব। এদের কাছ থেকে আমাদের অনেক কিছু শিখে তা সমাজের উন্নয়নে ব্যবহার করা যেতে পারে। তাই মাঝে-মাঝে এদের সাথে কিছুটা সময় কাটানো উচিত সবার। আর সামাজিক সংগঠন নবজাগরন গোল্ডেন চাঁদপুরের মেলবন্ধনের মাধমে এ কাজকে সহজতর করে দিয়েছে। অর্থ সম্পদই যে জীবনের সবকিছু নয় তা এখানে আসলেই বোঝা যায়।

Model Hospital

এ আয়োজনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি)’ মুহম্মদ আব্দুর রকিব পিপিএম।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও নবজাগরণ গোল্ডেন চাঁদপুরের উপদেষ্টা মোঃ আজমল হোসেন মিরন, মোহাম্মদ কালাম, ফখরুল ইসলাম কালু, মোঃ কাউছার হোসেন রায়হান, সভাপতি আল আমিন শেখ, সাধারণ সম্পাদক সৈকত হোসেন আমিন, কোষাধাক্ষ ইয়াসিন খান নয়ন।

সংগঠনের সভাপতি গোল্ডেন আল আমিন ও কোষাধ্যক্ষ ইয়াসিন খান নয়ন জানিয়েছেন আমরা নিজেরা ঈদে আনন্দ করি। কিন্তু অসহায় দরিদ্র মানুষ ঈদ উপলক্ষে নতুন পোশাক কিনতে পারেননা। পরিবারের সদস্যদের নতুন কাপড় কিনে দিতে পারেন না। তাই সংগঠনের পক্ষ থেকে মানুষকে নতুন কাপড় কিনে বিতরণ করার ব্যবস্থা করি।কাজটি করতে পেরে খুব ভাল লাগছে।’ আগামীতেও আমাদের এ ধরনের কার্যক্রম অব্যহত থাকবে।

উল্লেখ্য: ঈদ উপহার পেয়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা ক্ষণিকের জন্য যেন আনন্দ-উল্লাসে মেতে অন্য এক জগতে হারিয়ে গিয়েছিল। এছাড়াও সংগঠনটির উদ্যোগে দুই শতাধিক পথচারীদের জন্য ইফতারের ব্যবস্থাও করেছে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’