বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

গাজা ইস্যুতে

উত্তাল শাহরাস্তি: সর্বস্তরের মানুষের এক কণ্ঠে প্রতিবাদ

মোঃ রাফিউ হাসান হামজা প্রকাশিত: সোমবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৫, ৮:৪০ পিএম
উত্তাল শাহরাস্তি: সর্বস্তরের মানুষের এক কণ্ঠে প্রতিবাদ

চলমান গাজা সংকটকে কেন্দ্র করে আজ শাহরাস্তির রাজপথ যেন রূপ নেয় এক বিশাল প্রতিবাদমঞ্চে। হাজারো মানুষের মিছিল, গগনবিদারী স্লোগান, আর প্ল্যাকার্ড হাতে জনস্রোত জানিয়ে দেয়—গাজার প্রতি সহানুভূতি আর পশ্চিমা বিশ্বের নিরব ভূমিকার বিরুদ্ধে ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ।

সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে আয়োজিত এই বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করেন ছাত্র, শিক্ষক, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী, শ্রমজীবীসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ। শাহরাস্তির দোয়াভাঙ্গা, উপজেলা সদর, ও চিতোষী পশ্চিম ইউনিয়নে একযোগে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়, যা পরিণত হয় বিশাল গণজোয়ারে।

বিক্ষোভে বক্তারা বলেন, “গাজায় নির্বিচারে মানবতা হত্যা চললেও তথাকথিত সভ্য বিশ্বের নেতৃত্ব চুপ করে বসে আছে। এ নিরবতা মানে হচ্ছে নৃশংসতার প্রতি পরোক্ষ সমর্থন।” তারা আরও বলেন, “আমরা আর বসে থাকবো না, আমরা সচেতন ও প্রতিরোধী সমাজ গড়ে তুলবো।” বক্তারা ইসরায়েলি পণ্য বয়কটের আহ্বান জানান এবং সচেতন ভোক্তা হিসেবে নৈতিক দায়িত্ব পালনের ওপর জোর দেন।

এই বিক্ষোভে উল্লেখযোগ্যভাবে ছাত্র সংগঠন ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনও নেতৃত্ব দেয়, যা প্রমাণ করে—গাজার ইস্যু শুধু একটি ভূরাজনৈতিক ইস্যু নয়, বরং তা হয়ে উঠেছে মানবতা রক্ষার এক বৈশ্বিক আন্দোলন।

Model Hospital

শাহরাস্তির এই গণপ্রতিক্রিয়া এ অঞ্চলের রাজনৈতিক সচেতনতার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। বিশ্ব যখন দ্বিধাগ্রস্ত, তখন তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের অবস্থান স্পষ্ট করে দেয়, মানবিকতা কোনো কূটনীতির হিসেব কষে না—তা জন্ম নেয় অন্তরের গভীর থেকে। গাজা ইস্যুতে বিশ্বব্যাপী যে জনমত গড়ে উঠছে, শাহরাস্তির এই মিছিল তাতে একটি দৃঢ়, জোরালো সংযোজন।

মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সিয়াম উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আবদুস সোবাহানের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে বাবা আবদুস সোবাহান তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ শনাক্ত হয়। এ সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে রওনা দেওয়ার আগেই রাত নয়টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

Model Hospital

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মামুন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা যায় তরুণের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার আগেই তার মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বাবা আবদুস সোবাহান বলেন, আমার পোলাডার এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর আছিল। ওরে কইছিলাম ডাক্তারের কাছে যাইতে, কিন্তু হুনল না। অবস্থা বেশি খারাপ হইলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনলাম। হাসপাতালে আনার পরই নাক-মুখ দিয়া রক্ত পড়া শুরু হয়। ঢাকা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ঠিক করছিলাম, কিন্তু তার আগেই আমার সব শ্যাষ অইয়া গেল।