শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

ভারতে ভেঙে ফেলা হলো ৫০ বছরের পুরোনো মসজিদ

প্রিয় চাঁদপুর ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৫, ৬:৪৩ পিএম
ভারতে ভেঙে ফেলা হলো ৫০ বছরের পুরোনো মসজিদ

ছবি : সংগ্রহীত

ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের ফরিদাবাদে অর্ধশতাব্দী পুরোনো মসজিদ ভেঙে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। রাজ্যটিতে বর্তমানে উগ্র হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। জানা গেছে, ফরিদাবাদের বড়খাল গ্রামে নির্মিত প্রায় ৫০ বছর আগের ‘আকসা মসজিদ’ গত মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) ভেঙে দেওয়া হয়। স্থানীয় মুসলিমরা বলছেন, এটি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন থাকা অবস্থায়ই উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানো হয়েছে।

বুধবার (১৬ এপ্রিল) পৃথক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম মুসলিম মিরর এবং সিয়াসত ডেইলি।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, মসজিদটি একটি অবৈধ স্থাপনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল। এটি আদালতের নির্দেশ মেনেই ভেঙে ফেলা হয়েছে। ফরিদাবাদ পৌর কর্পোরেশন জানিয়েছে, এধরনের উচ্ছেদ আগেই নির্ধারিত ছিল। এছাড়া, এটি কোনো তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নয়।

তবে, স্থানীয়রা ঘটনাটিকে একতরফা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছেন। মুশতাক নামে গ্রামের এক বাসিন্দা জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের আগাম নোটিশ না দিয়েই হঠাৎ করে মসজিদটি ভেঙে ফেলা হয়, যা অত্যন্ত কষ্টদায়ক। তার দাবি, মসজিদটি অনেক বছর আগে গ্রাম প্রধানের দেওয়া জমিতে নির্মিত হয়েছিল। মসজিদে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মুসলিমরা নামাজ পড়ে আসছিলেন।

Model Hospital

ঘটনার সময় এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। মসজিদটি ভাঙার সময় ৩ জন সহকারী পুলিশ কমিশনার ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। প্রথমে আশপাশের দোকানপাট সরিয়ে নেওয়া হয়, এরপর মসজিদটি ভেঙে ফেলা হয়, যা অনেকের মতে ছিল একটি পূর্বপরিকল্পিত উদ্যোগ।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। এছাড়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই প্রশাসনের এই তড়িঘড়ি সিদ্ধান্তকে উস্কানিমূলক বলে সমালোচনা করেছেন। নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকারকর্মীরা প্রশ্ন তুলেছেন, যখন বিষয়টি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের বিবেচনায় রয়েছে, তখন প্রশাসনের এমন পদক্ষেপ কতটা যুক্তিসংগত ও আইনসঙ্গত?

উৎপাদনই বদলাবে বাংলাদেশ: দক্ষতা বৃদ্ধিতে চাঁদপুরে ব্যবসায়ী সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
উৎপাদনই বদলাবে বাংলাদেশ: দক্ষতা বৃদ্ধিতে চাঁদপুরে ব্যবসায়ী সম্মেলন

চাঁদপুরে ‘টাকা মাত্র ১০ হাজার, খুলবে ব্যবসার দ্বার’ এই স্লোগানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যবসায়ী সম্মেলন। সম্মেলনে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি তরান্বিত করতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, সৎ-আদর্শ ব্যবসায়ী গড়ে তোলা এবং উৎপাদনমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছেন বক্তারা।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে চাঁদপুর শহরের চেয়ারম্যানঘাট এলাকার ইউরেশিয়া কনভেনশন হলে ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টস অ্যান্ড বিজনেসমেন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন (আইবিডাব্লিউএফ) চাঁদপুর জেলা শাখা এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘২০৫০ সালের বিশ্ব শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে তাল মেলাতে হলে আমাদের উৎপাদনে যেতে হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ বাণিজ্যিকভাবে সম্ভাবনাময় দেশ। ১৮ কোটি মানুষের বিশাল বাজার থাকায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের গুরুত্ব রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ব্যবসায়ীদের উৎপাদনমুখী হতে হবে।’

Model Hospital

চীনসহ বিভিন্ন উৎপাদনকারী দেশ সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘উৎপাদনই এসব দেশের অর্থনৈতিক পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান শক্তি।

তিনি আরও বলেন, সম্পদ অর্জন করতে হবে, তবে তা অবশ্যই সৎ পথে। সংগঠনের সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা ধর্মীয় পরিচয়ে কোনো বাধা নেই, তবে সততা থাকতে হবে। সঠিক পরিকল্পনা, সততা, সাহস, দক্ষতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে চাঁদপুরেও বড় শিল্পোদ্যোক্তা তৈরি করা সম্ভব।’

সম্মেলনে অংশ নেওয়া পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ীর মধ্যে মাত্র ১৬ জন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই উদ্যোক্তারা চাঁদপুরে শিল্পায়নের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছেন। মাত্র তিনটি মেশিন দিয়ে উৎপাদন শুরু করে তিন বছরের মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানকে অর্ধশতাধিক মেশিনে বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করতে দেখেছেন বলেও নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, এ ধরনের সাফল্য নতুন উদ্যোক্তাদের অনুপ্রাণিত করতে পারে।

আইবিডাব্লিউএফের চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক শাহ্ আলমের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক হুমায়ুন কবির পাটওয়ারী, কুমিল্লা আঞ্চলিক সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম খাদেম এবং জেলা শাখার উপদেষ্টা অধ্যক্ষ মো. হারুন অর রশিদ উসমানী।

জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সহসভাপতি মোজাম্মেল হক পরান ও বাদশা ফয়সাল।

ব্যবসায়ীদের মধ্যে বক্তব্য দেন মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিক, শাখাওয়াত হোসেন, আবুবকর সিদ্দিক, হাফেজ তাজবীর ও সাইফুল ইসলাম সবুজ প্রমুখ।

বক্তারা নিজেদের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের গল্প তুলে ধরে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ব্যবসায়ীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা বলেন। পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ করা এবং সততা ও আদর্শের ভিত্তিতে ব্যবসা পরিচালনার আহ্বান জানান।