শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

দুই হাত হারানো গাজার বালকের ছবি পেল বর্ষসেরা খেতাব

প্রিয় চাঁদপুর ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৫, ১০:১২ পিএম
দুই হাত হারানো গাজার বালকের ছবি পেল বর্ষসেরা খেতাব

ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটোর বর্ষসেরার খেতাব জিতেছে বর্বর ইসরায়েলের হামলায় দুই হাত হারানো গাজার এক বালকের ছবি। ফিলিস্তিনি আলোকচিত্রী সামার আবু এলুফ ছবিটি তুলেছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসে ছবিটি প্রকাশিত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, এবার ৫৯ হাজার ৩২০টি ছবি থেকে ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটোর ৬৮তম সংস্করণের বিজয়ী নির্ধারণ করা হয়েছে। ছবিগুলো তুলেছেন ১৪১টি দেশের ৩ হাজার ৭৭৮ আলোকচিত্রী। দুর্দান্ত সব ছবির মধ্যে বর্ষসেরা হয়েছে গাজার সেই বালকের ছবি। এতে দেখা যাচ্ছে, দুই হাত হারানো এক ফিলিস্তিনি বালক বিষণ্ন অবস্থায় দাঁড়িয়ে।

সিএনএনের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনি ওই বালকের নাম মাহমুদ আজ্জোর। তার বয়স ৯। তিন মাস আগে গাজা সিটিতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় হামলার শিকার হয় মাহমুদ। সেদিন এক বিস্ফোরণে তার একটি হাত উড়ে যায়, অন্যটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মাহমুদকে চিকিৎসা দিতে কাতারের দোহায় আনা হয়। সেখানে চিকিৎসা করালেও ক্ষতিগ্রস্ত হাতটি কেটেই ফেলতে হয়। সেখানে মাহমুদের ছবিটি তোলেন আলোকচিত্রী আবু এলুফ।

Model Hospital

ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটো অর্গানাইজেশনের প্রকাশিত বিবৃতিতে আলোকচিত্রী সামার আবু এলুফ বলেছেন, ‘মাহমুদের মা আমাকে সবচেয়ে কঠিন যে বিষয়টি বর্ণনা করেছেন, সেটি হলো— মাহমুদ যখন বুঝতে পারে তার দুই হাত কেটে ফেলা হয়েছে। তখন সে তার মাকে জিজ্ঞেস করেছিল এখন থেকে কীভাবে তাকে জড়িয়ে ধরবে। ’

ছবিটির সঙ্গে সংযুক্ত নোটে এ কথাগুলো লিখেছেন আবু এলুফ, যা নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত হয়েছে।

ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটো এক্সিকিউটিভ পরিচালক জওমানা এল জেইন খৌরি বলেছেন, ‘এটি স্থিরচিত্র হলেও এটা উচ্চস্বরে কথা বলছে। এটি একটি বালকের গল্প বলে, সঙ্গে বলে একটি যুদ্ধের কথা। যেটির প্রভাব প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে পড়বে। ’

জওমানা এল জেইন খৌরেই নন, সবার বক্তব্য একই। ছবিটি গাজা যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষয়ক্ষতির স্পষ্ট স্মারক, যেখানে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল এবং গাজার বাসিন্দাদের বাস্তুচ্যুত করেছে দখলদাররা।

জাতিসংঘের মানবিকবিষয়ক সমন্বয় অফিসের হিসাব অনুযায়ী, গাজায় নিহতদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই নারী ও শিশু।

উৎপাদনই বদলাবে বাংলাদেশ: দক্ষতা বৃদ্ধিতে চাঁদপুরে ব্যবসায়ী সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
উৎপাদনই বদলাবে বাংলাদেশ: দক্ষতা বৃদ্ধিতে চাঁদপুরে ব্যবসায়ী সম্মেলন

চাঁদপুরে ‘টাকা মাত্র ১০ হাজার, খুলবে ব্যবসার দ্বার’ এই স্লোগানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যবসায়ী সম্মেলন। সম্মেলনে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি তরান্বিত করতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, সৎ-আদর্শ ব্যবসায়ী গড়ে তোলা এবং উৎপাদনমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছেন বক্তারা।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে চাঁদপুর শহরের চেয়ারম্যানঘাট এলাকার ইউরেশিয়া কনভেনশন হলে ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টস অ্যান্ড বিজনেসমেন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন (আইবিডাব্লিউএফ) চাঁদপুর জেলা শাখা এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘২০৫০ সালের বিশ্ব শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে তাল মেলাতে হলে আমাদের উৎপাদনে যেতে হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ বাণিজ্যিকভাবে সম্ভাবনাময় দেশ। ১৮ কোটি মানুষের বিশাল বাজার থাকায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের গুরুত্ব রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ব্যবসায়ীদের উৎপাদনমুখী হতে হবে।’

Model Hospital

চীনসহ বিভিন্ন উৎপাদনকারী দেশ সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘উৎপাদনই এসব দেশের অর্থনৈতিক পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান শক্তি।

তিনি আরও বলেন, সম্পদ অর্জন করতে হবে, তবে তা অবশ্যই সৎ পথে। সংগঠনের সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা ধর্মীয় পরিচয়ে কোনো বাধা নেই, তবে সততা থাকতে হবে। সঠিক পরিকল্পনা, সততা, সাহস, দক্ষতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে চাঁদপুরেও বড় শিল্পোদ্যোক্তা তৈরি করা সম্ভব।’

সম্মেলনে অংশ নেওয়া পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ীর মধ্যে মাত্র ১৬ জন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই উদ্যোক্তারা চাঁদপুরে শিল্পায়নের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছেন। মাত্র তিনটি মেশিন দিয়ে উৎপাদন শুরু করে তিন বছরের মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানকে অর্ধশতাধিক মেশিনে বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করতে দেখেছেন বলেও নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, এ ধরনের সাফল্য নতুন উদ্যোক্তাদের অনুপ্রাণিত করতে পারে।

আইবিডাব্লিউএফের চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক শাহ্ আলমের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক হুমায়ুন কবির পাটওয়ারী, কুমিল্লা আঞ্চলিক সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম খাদেম এবং জেলা শাখার উপদেষ্টা অধ্যক্ষ মো. হারুন অর রশিদ উসমানী।

জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সহসভাপতি মোজাম্মেল হক পরান ও বাদশা ফয়সাল।

ব্যবসায়ীদের মধ্যে বক্তব্য দেন মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিক, শাখাওয়াত হোসেন, আবুবকর সিদ্দিক, হাফেজ তাজবীর ও সাইফুল ইসলাম সবুজ প্রমুখ।

বক্তারা নিজেদের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের গল্প তুলে ধরে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ব্যবসায়ীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা বলেন। পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ করা এবং সততা ও আদর্শের ভিত্তিতে ব্যবসা পরিচালনার আহ্বান জানান।