শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

একদিন পর ভেসে উঠল চাঁদপুরের কলেজ শিক্ষার্থীর লা শ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৫, ৮:০৮ পিএম
একদিন পর ভেসে উঠল চাঁদপুরের কলেজ শিক্ষার্থীর লা শ

গোসল করতে গিয়ে ১দিন নিখোঁজের পর লাশ ভেসে উঠেছে সৌম্যদীপ সরকার আপন নামের এক কলেজ শিক্ষার্থীর।

সোমবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে চাঁদপুর গাছতলা ব্রিজ সংলগ্ন ডাকাতিয়া নদীতে আপনের মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা খবর দেয় থানায়।
পরে চাঁদপুর কোস্ট গার্ড ও নৌ ফায়ার সার্ভিসের ডুবরি দল এসে তার মরদেহ উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসে।

চাঁদপুর শহরের গুনরাজি এলাকায় ডাকাতিয়া নদীতে রোববার বন্ধুদের সাথে গোসল করতে নেমে আপন পানিতে তলিয়ে যায়।

চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে আপনের মরদেহ সুরতহাল করেন।

Model Hospital

আপন জেলা শহরের মিশন রোড এলাকার বাসিন্দা ও পুরানবাজার ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাবা মানিক রঞ্জন সরকার হাজীগঞ্জ উপজেলার মেনাপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার (২৭ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে আপন তার কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে ডাকাতিয়া নদীতে গোসল করতে নামে। পরে তারা সাঁতরে নদীর এক পাড় থেকে অন্য পাড়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় একটি নৌযানের সৃষ্ট প্রচণ্ড ঢেউয়ের কবলে পড়ে নদীতে তলিয়ে নিখোঁজ হয় আপন। তবে তার সঙ্গে থাকা অন্য বন্ধুরা নিরাপদে তীরে উঠে আসতে সক্ষম হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও কোস্টগার্ডের ডুবুরি দল নদীর ঘটনাস্থলে নেমে উদ্ধার অভিযান চালায়।

আপনের মা শান্তা সরকার জানান, ছেলে অল্প সাঁতার জানতো এবং কাউকে না জানিয়েই নদীতে গোসল করতে গিয়েছিল।

ফায়ার সার্ভিসের নৌ-ইউনিটের টিম লিডার আলী আহম্মদ জানান, দুপুর আড়াইটার দিকে নিখোঁজ হওয়ার সংবাদ পেয়ে তারা ২টা ৫৫ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত অভিযান চালানো হলেও নিখোঁজ হওয়া ছাত্রের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

আপনের মারা যাওয়ার ঘটনাটি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠ তদন্তের দাবি জানান পরিবারের স্বজনরা।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’