শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড ১৩২ মিলিমিটার

প্রিয় চাঁদপুর ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ মে, ২০২৫, ১২:৩৯ এম
চাঁদপুরে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড ১৩২ মিলিমিটার

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া লঘুচাপটি নিম্নচাপে পরিণত হওয়ায় কারণে চাঁদপুরে মুষলধারে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। ১৩ ঘণ্টায় জেলায় এ বছর সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে ১৩২ মিলিমিটার।

বৃহস্পতিবার (২৯ মে) রাত ৮টা পর্যন্ত জেলায় থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। জনজীবন অনেকটা অচল হয়ে পড়েছে। গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবারহ বন্ধ রয়েছে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা। নদীর পানি বেড়েছে স্বাভাবিকের চাইতে বেশি। মেঘনার পশ্চিমের চর সমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেতের আওতায় আনা হয়েছে।

শহরের পুরান বাজারের বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকেই বাণিজ্যিক এলাকা পুরান বাজারের ব্যবসা বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে। সড়কেও লোকজনের সংখ্যা খুবই কম। অনেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে রাখলেও ক্রেতা নেই।

এদিকে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে চাঁদপুর শহরের নীচু এলাকা পালপাড়া, নাজির পাড়া, মাদরাসা রোডে অস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই পানির কারণে ঘর থেকে বের হতে পারছেন না।

Model Hospital

অতিরিক্ত বৃষ্টি ও মেঘনা নদীতে পানি বৃদ্ধি পেলে সবচেয়ে বেশি সমস্যা দেখা দেয় চরাঞ্চলে। মেঘনা নদীর পশ্চিমে প্রায় ৩০টির অধিক ছোট-বড় চর রয়েছে।

মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, এখন পর্যন্ত চরাঞ্চলের লোকজনের কোনো সমস্যা হচ্ছে না। আমি জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেছি। তবে নদীতে প্রচন্ড ঢেউ ও বাতাসের তীব্রতা রয়েছে। উপজেলা প্রশাসন সতর্ক রয়েছে।

চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাখাওয়াত জামিল সৈকত বলেন, চরাঞ্চলের লোকদের সর্তক থাকার জন্য গ্রাম পুলিশ দিয়ে বার্তা দেয়া হয়েছে। চরাঞ্চলের জনপ্রতিনিধি ও দায়িত্বশীল লোকদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা হচ্ছে। অবস্থার অবনতি হলে তাৎক্ষণিক খাবার সরবরাহ ও সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা রয়েছে।

এদিকে হাইমচরেও মেঘনার পশ্চিমে রয়েছে বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন। সেখানকার সার্বিক অবস্থা জানার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) স্বরুপ মুহুরীকে ফোন করা হয়। তিনি রিসিভ না করায় সর্বশেষ অবস্থা জানা যায়নি।

চাঁদপুর আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক শাহ মো. শোয়েব বলেন, বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১৩ ঘণ্টায় জেলায় এ বছরের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে ১৩২ মিলিমিটার। জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৫.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’