শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর-৫ : নির্বাচনী এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন জামায়াত প্রার্থী অধ্যাপক আবুল হোসাইন

প্রিয় চাঁদপুর ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ মে, ২০২৫, ৮:৫০ পিএম
চাঁদপুর-৫ : নির্বাচনী এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন জামায়াত প্রার্থী অধ্যাপক আবুল হোসাইন

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হিসেবে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছেন বিশিষ্ট আলেম, শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবক চাঁদপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মাওলানা আবুল হোসাইন।

দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসা এ ব্যক্তিত্ব স্থানীয় জনগণের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন।

জানা গেছে, তাঁর নেতৃত্বে স্থানীয় মাদরাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং নৈতিক সমাজ গঠনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে তরুণ ভোটাররাও তাঁর পক্ষে সমর্থন প্রকাশ করছেন।

স্থানীয় একাধিক জরিপে দেখা গেছে যে, চাঁদপুর-৫ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে অধ্যাপক আবুল হোসাইন এগিয়ে রয়েছেন উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে। তিনি একজন সদালাপী, নীতিবান ও জনগণের দুঃখ-কষ্টে পাশে দাঁড়ানো নেতা হিসেবে পরিচিত।

Model Hospital

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “অধ্যাপক সাহেব শুধু একজন নেতা নন, তিনি আমাদের পরিবারের একজন অভিভাবকের মতো। তাঁর মতো মানুষই এই এলাকার জন্য প্রয়োজন।”

এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও মনে করছেন, ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দিয়ে একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন অধ্যাপক মাওঃ আবুল হোসাইন, যা তাঁকে অন্যান্য প্রার্থীদের তুলনায় এগিয়ে রেখেছে।

এখন অপেক্ষা শুধু আনুষ্ঠানিক নির্বাচনের ঘোষণার। দেখা যাক, আগামী নির্বাচনে এই জনপ্রিয়তা কতটা রূপ নেয় ভোটের বাক্সে।

রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমীর, উপজেলা শূরা ও কর্ম পরিষদ সদস্য মাওঃ মাছুম বিল্লাহ বলেন, গতানুগতিক সাংগঠনিক কাজের সাথে আমরা জাতীয় নির্বাচনেরও প্রস্তুতি নিচ্ছি।

স্হানীয় বা জাতীয় নির্বাচন যে নির্বাচনই আগে হবে, আমরা তার প্রস্তুতি নিয়েই আগাচ্ছি।

জামায়াতে ইসলামীর চাঁদপুর-৫ আসনের নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে শাহরাস্তি উপজেলা শাখার নির্বাচনী কমিটির আহবায়ক বিশিষ্ট ব্যাংকার বাদশা ফয়সাল বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শাহরাস্তি উপজেলার সকল কেন্দ্র কমিটি গঠন ও নিয়মিত নির্বাচনী বৈঠক শুরু করেছি। নির্বাচন নিয়ে আমাদের তৃনমুল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা রয়েছে। এ আসন থেকে জামায়াতে ইসলামী নির্বাচন করবে এবং বিপুল ভোটে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মাওঃ আবুল হোসাইন জয় যুক্ত হবেন, ইনশাআল্লাহ।

অন্যদিকে হাজীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি, সাবেক ছাত্রনেতা জয়নাল আবেদীন বলেন, ভৌগোলিক কারনে শাহরাস্তি ও হাজীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর মজবুত অবস্থান রয়েছে।

২০১৪ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ২ উপজেলায়ই জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীদ্বয়রা বিপুল ভোটে জয় লাভ করেন। এবং এই দুই ভাইস চেয়ারম্যান ৫ বছর সাধারণ জনগণের পাশে থেকে সরকারি সকল সুযোগ সুবিধা জনগণের মাঝে বন্টন করে সাধারণ জনগনের আস্তা অর্জন করে নিতে পেরেছেন। সে হিসেবে জাতীয় নির্বাচনেও জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর প্রতি জনগণের আগ্রহ রয়েছে।

নির্বাচনের বিষয় (চাঁদপুর-৫) সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যাপক মাওঃ আবুল হোসাইন বলেন, জামায়াতে ইসলামীতে কেহ নিজ থেকে প্রার্থী হতে পারে না, দল মনোনীত করলেও এ সিদ্ধান্তের বাহিরে যাওয়া যায় না। ব্যতিগত ভাবে আমি নির্বাচনের বিষয় প্রস্তুত ছিলাম না। দল যেহেতু আমাকে চাঁদপুর-৫ আসেন মনোনীত করেছে সে হিসেবে আমি দলের সিদ্ধান্ত মেনে কাজ করে যাচ্ছি।

এছাড়াও এ প্রার্থী বলেন, শাহরাস্তি ও হাজীগঞ্জ উপজেলার সকল গ্রামে গ্রামে, পাড়ায় পাড়ায় গণসংযোগে যাচ্ছি, তৃণমূল সাধারণ জনগণের কথা শুনছি এবং সে আলোকে কাজ করবো, যদি আমি সংসদ সদস্য হিসেবে আমি নির্বাচিত হতে পারি।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’