শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

দূনীর্তিবাজ কর্মচারীর ক্ষমতা ও আয়ের উৎস কোথায়

কচুয়ার দুর্নীতির আরেক নাম মোহাম্মদ কাউসার

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২ জুন, ২০২৫, ৮:৪৪ পিএম
কচুয়ার দুর্নীতির আরেক নাম মোহাম্মদ কাউসার

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারি কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মোহাম্মদ কাউছারকে ঘুষ গ্রহন সহ নানা অনিয়মের অভিযোগে বদলী করা হয়েছে। চাঁদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফাতেমা মেহের ইয়াসমিনের ১২ মে স্বাক্ষরিত বদলী আদেশে তাকে কচুয়া থেকে চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে একই পদে বদলী করা হয়। যার স্বারক নং-৩৮.০১.১৩০০.০০০.১৯.০২৯.২২।

জানা গেছে, কচুয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসে লোকবল কম থাকায় মো. কাউছার একাই শিক্ষকদের ছুটি, বদলী, পদোন্নতিসহ সকল দাপ্তরিক কাজ করতেন।

বিভিন্ন বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষকগন জানান, কাউছার টাকা ছাড়া কোন কাজ করতেন না। টাকাই যেন তার কাছে ছিল সকল উৎস, সব শিক্ষক তার কাছে ছিলেন জিম্মি।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার পারভীন সুলতানার দাপটে কাউছার বিভিন্ন শিক্ষকদের নিকট থেকে ছুটি, বদলী ও পদোন্নতিসহ সকল ক্ষেত্রে টাকার বিনিময়ে কাজ করতেন। তাকে টাকা না দিলে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে শিক্ষকদের হয়রানী করতেন। তার বিরুদ্ধে অফিসে বসে শিক্ষকের নিকট থেকে প্রকাশ্যে ঘুষ নেয়া ও নিজ চেয়ারে বসে ধুমপানের ১মিনিট ১ সেকেন্ড এর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

Model Hospital

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সেবাগ্রহীতা বলেন, বিভিন্ন কাজে প্রায়ই তার কক্ষে যেতে হয়। অফিসে বসেই একের পর এক সিগারেট ধরান তিনি। তার একহাতে থাকে সিগারেট, অন্যহাতে সেবাগ্রহীতাদের ফাইলে স্বাক্ষর করেন। দুর্গন্ধে তার কক্ষে যাওয়া কষ্টকর। অফিসে যত লোকই থাকুক না কেন তিনি সবার সামনেই ধূমপান করেন। এটা তার নিত্যদিনের অভ্যাস। ধূমপানের বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে সচেতন মহলের মধ্যে।

তার পূর্বের কর্মস্থল হাজীগঞ্জ থেকেও দুনীর্তির দায়ে বিভাগীয় মামলা এবং শাস্তিমূলক বদলী হয়েছিলেন কচুয়ায়। বর্তমানে কচুয়া শিক্ষা অফিস থেকে একই জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে তাকে বদলী করায় সকল শিক্ষক ও কর্মচারীদের মাঝে স্বস্তির নি:স্বাস দেখা দিয়েছে এবং অনেকে আনন্দিত হয়েছেন। একই সাথে দুনীর্তিবাজ কাউছারের বিভিন্ন অনিয়মের তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক ও কর্মচারীগন।

এই বিষয়ে চাঁদপুরের জেলা শিক্ষা অফিসার বলেছিলেন তদন্ত কমিটি করে তার বিরুদ্দ্বে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তুু আদৌ পযর্ন্ত তার বিরুদ্দে কোন বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা  হয়নি।

এদিকে ফরিদগন্জ উপজেলা অফিস জেনে-শুনে একজন দূনীর্তিবাজ কর্মচারীকে যোগদান করতে দেননি। ফলে চাঁদপুর জেলা শিক্ষা অফিসার তাকে চাদঁপুর জেলা শিক্ষা অফিসে রাখতে চান বলে বিশ্বস্ত সূএের মাধ্যমে জানা গেছে। একজন তৃতীয় শ্রেনীর কর্মচারী কি করে হাজীগঞ্জে দুইটা পাচঁ তলা বাড়ী এবং তার নিজ গ্রামের আধুনিক ডিজাইন করে বিল্ডিং করেছেন ও অনেক অনৈতিক টাকার মালিক। তার এতো কোটি টাকার সম্পদের আয়ের উৎস কি। এই ব্যাপারে দুদকের প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহনপূবর্ক আইনগত ব্যবস্থা ও অনুসন্ধন করা উচিত। তাহলে কি আমরা ধরে নেবো তার এই ক্ষমতা ও দূনীর্তির প্রকৃত উৎস জেলা শিক্ষা অফিস চাঁদপুর।

এছাড়াও তদন্ত কমিটির বিষয়ে চাঁদপুর জেলা শিক্ষা অফিসার ফাতেমা মেহের ইয়াসমিনে সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমরা সহকারি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নাজমা বেগমকে বিষয়টি তদন্তের জন্য দায়িত্ব দিয়েছি। ঈদের পরপর তিনি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করবেন।

এদিকে বিভিন্ন অনিয়ম, প্রকাশ্যে ঘুষ গ্রহন ও ধূমপানের বিষয়ে জানতে তার ব্যবহৃত ০১৮২৫০০৬০৮৭ নাম্বারে একাধিকবার ফোন করে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’