শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

রিলস বানাতে গিয়ে যমুনা নদীতে ডুবে গেল ৬ কিশোরী

প্রিয় চাঁদপুর ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ জুন, ২০২৫, ৭:২৫ পিএম
রিলস বানাতে গিয়ে যমুনা নদীতে ডুবে গেল ৬ কিশোরী

ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের আগ্রায় যমুনা নদীতে গোসল করতে নেমে ছয় কিশোরী পানিতে ডুবে মারা গেছে। মঙ্গলবার উত্তরপ্রদেশের আগ্রার সিকান্দরা থানা এলাকায় মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য মোবাইল ফোনে রিলস বানানোর সময় পানিতে ডুবে মারা গেছে তারা।

আগ্রার সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, ওই ছয় কিশোরী আশপাশের কৃষি জমিতে কাজ শেষে নদীর পাড়ে যায় এবং শরীর ঠাণ্ডা করার জন্য পানিতে নামে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, প্রথম দিকে তারা নদীর ধারে খেলছিল ও মোবাইল ফোনে রিলস ভিডিও করছিল। এরপর ধীরে ধীরে গভীর পানিতে চলে গেলে স্রোতের টানে ভেসে যায় তারা।
দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ঘটনায় চারজন ডুবে যায় এবং বাকি দু’জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দুই কিশোরীও মারা যায়।

এর ফলে সেখানে পানিতে ডুবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ছয়জনে দাঁড়িয়েছে।

Model Hospital

মৃত ৬জনই সেখানকার একটি গ্রামের বাসিন্দা। হঠাৎ এই মৃত্যুর খবরে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ওই কিশোরীদের এক স্বজন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘‘নদীর ধারে খেতে কাজ করছিল তারা।

প্রচণ্ড গরমের কারণে তারা পানিতে নামে। তাদের সঙ্গে এমন দুর্ঘটনা ঘটবে কল্পনাও করিনি।’’
এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে। আতঙ্কিত লোকজন নদীর পাড়ে ছুটে যান। পরে স্থানীয়রা এই ঘটনার বিষয়ে পুলিশকে খবর দেন।

স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
৬ কিশোরীর মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। ময়নাতদন্তে ছয়জনই পানিতে ডুবে মারা গেছে বলে নিশ্চিত করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শোকসন্তপ্ত সব পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।

উৎপাদনই বদলাবে বাংলাদেশ: দক্ষতা বৃদ্ধিতে চাঁদপুরে ব্যবসায়ী সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
উৎপাদনই বদলাবে বাংলাদেশ: দক্ষতা বৃদ্ধিতে চাঁদপুরে ব্যবসায়ী সম্মেলন

চাঁদপুরে ‘টাকা মাত্র ১০ হাজার, খুলবে ব্যবসার দ্বার’ এই স্লোগানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যবসায়ী সম্মেলন। সম্মেলনে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি তরান্বিত করতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, সৎ-আদর্শ ব্যবসায়ী গড়ে তোলা এবং উৎপাদনমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছেন বক্তারা।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে চাঁদপুর শহরের চেয়ারম্যানঘাট এলাকার ইউরেশিয়া কনভেনশন হলে ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টস অ্যান্ড বিজনেসমেন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন (আইবিডাব্লিউএফ) চাঁদপুর জেলা শাখা এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘২০৫০ সালের বিশ্ব শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে তাল মেলাতে হলে আমাদের উৎপাদনে যেতে হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ বাণিজ্যিকভাবে সম্ভাবনাময় দেশ। ১৮ কোটি মানুষের বিশাল বাজার থাকায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের গুরুত্ব রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ব্যবসায়ীদের উৎপাদনমুখী হতে হবে।’

Model Hospital

চীনসহ বিভিন্ন উৎপাদনকারী দেশ সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘উৎপাদনই এসব দেশের অর্থনৈতিক পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান শক্তি।

তিনি আরও বলেন, সম্পদ অর্জন করতে হবে, তবে তা অবশ্যই সৎ পথে। সংগঠনের সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা ধর্মীয় পরিচয়ে কোনো বাধা নেই, তবে সততা থাকতে হবে। সঠিক পরিকল্পনা, সততা, সাহস, দক্ষতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে চাঁদপুরেও বড় শিল্পোদ্যোক্তা তৈরি করা সম্ভব।’

সম্মেলনে অংশ নেওয়া পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ীর মধ্যে মাত্র ১৬ জন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই উদ্যোক্তারা চাঁদপুরে শিল্পায়নের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছেন। মাত্র তিনটি মেশিন দিয়ে উৎপাদন শুরু করে তিন বছরের মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানকে অর্ধশতাধিক মেশিনে বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করতে দেখেছেন বলেও নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, এ ধরনের সাফল্য নতুন উদ্যোক্তাদের অনুপ্রাণিত করতে পারে।

আইবিডাব্লিউএফের চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক শাহ্ আলমের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক হুমায়ুন কবির পাটওয়ারী, কুমিল্লা আঞ্চলিক সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম খাদেম এবং জেলা শাখার উপদেষ্টা অধ্যক্ষ মো. হারুন অর রশিদ উসমানী।

জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সহসভাপতি মোজাম্মেল হক পরান ও বাদশা ফয়সাল।

ব্যবসায়ীদের মধ্যে বক্তব্য দেন মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিক, শাখাওয়াত হোসেন, আবুবকর সিদ্দিক, হাফেজ তাজবীর ও সাইফুল ইসলাম সবুজ প্রমুখ।

বক্তারা নিজেদের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের গল্প তুলে ধরে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ব্যবসায়ীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা বলেন। পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ করা এবং সততা ও আদর্শের ভিত্তিতে ব্যবসা পরিচালনার আহ্বান জানান।