শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর জেলা কারাগারে বাহারি আয়োজনে ঈদ উৎসব

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: রবিবার, ৮ জুন, ২০২৫, ৪:৪৪ পিএম
চাঁদপুর জেলা কারাগারে বাহারি আয়োজনে ঈদ উৎসব
পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে চাঁদপুর জেলা কারাগারে বন্দীদের জন্য এক ব্যতিক্রমী আয়োজন করা হয়েছে। ঈদের আনন্দ বন্দীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে এবং তাদের মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কর্তৃপক্ষ বন্দিদের জন্য আয়োজন করেছে ক্রীড়া আয়োজন। স্বজনদের জন্যও ছিল অভ্যর্থনা ও আপ্যায়নের ব্যবস্থা।
চাঁদপুর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন চাঁদপুর জেলা কারাগারের খাবার পরিবেশন তত্ত্বাবধান করেন। এসময় তিনি কারাগারের খাবারের মান সম্পর্কে প্রশংসাও করেন। এসময় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুপ্রভাত চাকমা উপস্থিত ছিলেন।
শনিবার (৭ জুন) সকালে ঈদের নামাজের মধ্য দিয়ে শুরু হয় উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। ঈদের নামাজের জামাতে শরিক হন কারাবন্দিরা। এরপর ৬’শতাধিক বন্দিকে পরিবেশন করা হয় উন্নতমানের খাবার।
ঈদের দিন সাধারণ বন্দীদের মতোই কারাগারে থাকা ভিআইপিসহ (বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি) বন্দীদের একই ধরনের খাবার পরিবেশন করা হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন দেখে খুশি বন্দিরা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা।
বন্দিরা যাতে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটাতে পারেন, সে জন্য প্রত্যেক বন্দিকে ২০ মিনিট করে স্বজনদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান। এছাড়াও প্রত্যেক বন্দী স্বজনদের জন্য ফোনে ফ্রী ৫ মিনিট টেলিফোনে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
চাঁদপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন ভূঞা বলেন, কারা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুয়ায়ী বন্দীদের জন্য আলাদা বন্দোবস্তের আয়োজন করা হয়।
ঈদের দিন সকালে নাস্তায় বন্দিদের দেওয়া হয়েছে পায়েস ও মুড়ি। দুপুরে দেওয়া হচ্ছে মুরগির রোস্ট, পোলাও, গরু, খাসির মাংস, সালাদ, পান-সুপারি এবং মিষ্টি। রাতের খাবারে ছিলো ভাত, মাছ এবং আলুর দম।
তিনি আরও জানান, ঈদের দিন কারাগারে অনুষ্ঠিত হয়েছে দুইটি জামাত। এর মধ্যে একটি শুধুমাত্র বন্দিদের জন্য এবং বাকি একটি কারা স্টাফদের জন্য আয়োজন করা হয়। ঈদের পরদিন কারাগারের ভেতরে বন্দীদের জন্য ক্রীড়া অনুষ্ঠান ও ঈদের পরদিন থেকে তিন দিন বন্দীদের সঙ্গে তাদের স্বজনদের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলতে দেয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘বন্দিদের সংশোধনের মাধ্যমে প্রকৃত মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে কারা মহাপরিদর্শকের নির্দেশ অনুযায়ী ঈদের দিনে এই বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে। নিয়মিত রেওয়াজ অনুযায়ী এবারও ঈদে বন্দিরা পেয়েছেন বিশেষ খাবার, স্বজনদের সঙ্গে অতিরিক্ত সময় কাটানোর সুযোগ, বাড়ির রান্না করা খাবার গ্রহণের অনুমতি। বন্দিদের জন্য এমন মানবিক ও আনন্দঘন আয়োজন তাদের মানসিক সুস্থতা ও সামাজিক পুনর্বাসনের পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন তিনি।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’