শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

“আমরা কি ট্যাক্স দিই বিষ খাওয়ার জন্য?”

চাঁদপুরে পৌরসভার ‘পানির নাম করে বিষ’, নোংরা সাপ্লাই পানিতে চরম ভোগান্তি

সাইফুল ইসলাম সিফাত প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ জুন, ২০২৫, ৯:০৯ পিএম
চাঁদপুরে পৌরসভার ‘পানির নাম করে বিষ’, নোংরা সাপ্লাই পানিতে চরম ভোগান্তি

ছোট পাত্রে রাখা পানিতে ফিটকারি মিশানোর ১২ ঘণ্টা পরের দৃশ্য এটি। পাশে থাকা বড় পাত্রে সরাসরি সাপ্লাই লাইন থেকে নেওয়া পানি রয়েছে। চাঁদপুর শহরের অনেক এলাকাতেই একই অবস্থা দেখা যাচ্ছে পানি পরিশোধন না করে সরাসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাচ্ছে।

চাঁদপুর পৌরসভার নলকূপ থেকে সরবরাহ করা পানিতে ময়লা, কাদা এমনকি ধাতব কণার উপস্থিতি পাওয়া যাচ্ছে। খান সড়ক ও আশপাশের এলাকাগুলোর বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন—এই পানি পান তো দূরের কথা, হাত ধোয়ারও উপযুক্ত নয়। অথচ এই ‘নোংরা পানি’ই প্রতিদিন পৌরবাসীদের ঘরে পৌঁছে দিচ্ছে পৌরসভা।

বাসিন্দারা বলছেন, দিনের পর দিন এ অবস্থার মধ্যেই থাকতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা। শিশু থেকে বৃদ্ধরা সবাই পানিবাহিত নানা অসুখে আক্রান্ত হচ্ছেন। অনেকেই ডাক্তারের কাছে যেতে বাধ্য হচ্ছেন চর্মরোগ, পেটের অসুখ কিংবা ডায়রিয়ার কারণে। একজন ক্ষুব্ধ বাসিন্দা বলেন, “আমরা কি ট্যাক্স দিই বিষ খাওয়ার জন্য?”

স্থানীয় বাসিন্দা নূরে শেফা জানান, প্রতিদিনই ট্যাপের পানি ঘোলা ও দুর্গন্ধযুক্ত অবস্থায় আসে। অনেক সময় পানিতে ধাতব পদার্থের মতো কিছু দেখতে পাওয়া যায়। তিনি বলেন, “ফিটকারি দিয়ে পরিষ্কার করেও স্বচ্ছ করা যায় না। এই পানি ব্যবহার করলে চর্মরোগ, ডায়রিয়া এমনকি জন্ডিস হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।”

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরেই এ সমস্যা চলছে। বিষয়টি বারবার পৌরসভাকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতে দেখা যায়, এক পাত্রে রাখা সাপ্লাইয়ের পানির নিচে স্পষ্টভাবে ময়লা ও কঠিন পদার্থ জমে আছে। এতে শহরবাসীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

Model Hospital

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার এক কর্মচারী জানান, “জলাশয় ও পাইপলাইনের পুরোনো অবস্থা এবং ফিল্টারিংয়ের অভাবের কারণে এই সমস্যা হতে পারে।” তবে এ বিষয়ে কোনো প্রকাশ্য ব্যাখ্যা দিতে রাজি হননি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয়রা বলছেন, পৌরসভা যেন নীরব দর্শকের ভূমিকায়। কেউ প্রতিবাদ করলে আশ্বাস ছাড়া আর কিছু মেলে না। এই পরিস্থিতিকে ‘চরম অবহেলা’ আখ্যা দিয়ে তারা অবিলম্বে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পানি ব্যবহারে জন্ডিস, টাইফয়েড, ডায়রিয়া, এমনকি হেপাটাইটিসের আশঙ্কা থেকে যায়। দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব হতে পারে মারাত্মক।

অবহেলার জবাব নেই, চাঁদপুরে অপরিশোধিত পানি সরবরাহ, বারবার ফোন করেও পৌর প্রশাসক মো. গোলাম জাকারিয়ার বক্তব্য মেলেনি।

চাঁদপুরবাসীর প্রশ্ন তাহলে আমরা কী খাব? পৌরসভার কি দায়িত্ব নেই?

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’