শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

ন্যায় বিচারের অপেক্ষায় পরিবার

শাহরাস্তিতে শাওন হ ত্যা মামলার তদন্ত শুরু করল পিবিআই

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ জুন, ২০২৫, ৮:৫০ পিএম
শাহরাস্তিতে শাওন হ ত্যা মামলার তদন্ত শুরু করল পিবিআই

শাহারাস্তি উপজেলা আয়নাতলী গ্রামের ১৪ বছরের মাদ্রাসা ছাত্র সাইদুল ইসলাম শাওনের হত্যা মামলার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

বৃহস্পতিবার (২৯ মে) সকালে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মোঃ রাজু আহমেদ এর নেতৃত্বে পিবিআই চাঁদপুরের একটি টিম শাহরাস্তি উপজেলার আয়নাতলী এলাকায় শাওনের নিহত হওয়ার ঘটনাস্থলটি পরিদর্শন করেছে।

এসময় শাওনের পরিবারের সদস্যরা ও একাধিক সাক্ষীরা উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তদন্তকাজ দ্রুত শেষ করার আশ্বাস প্রদান করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।

এর আগে আদালত ২০২৫ সালের ১৭ মে শনিবার অধিকতর তদন্তের জন্য এর নথি চাঁদপুর পিবিআইতে হস্তান্তর করেছে। মামলা নং- সিআর- ৪১৫/২০২৪।

Model Hospital

পরিদর্শনকালে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রাজু আহমেদ বলেন, আমি এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে গত এক মাস আগে দায়িত্ব পেয়েছি। দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই কাজ শুরু করেছি, দ্রুত তদন্তকাজ শেষ করার জোর প্রচেষ্টা চালাবো। ঘটনাস্থল পরিদর্শন, মানচিত্র তৈরি, সেদিনের ঘটনার সাক্ষীদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদায়সহ মোবাইল ফোনে ধারণকৃত ভিডিও যাচাই বাছাই প্রক্রিয়া শেষ করেছি। দোষী যে বা যারাই হোক- প্রত্যেককে আইনের আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা করা হবে। আশা করছি শীঘ্রই তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করবো। পিবিআই গুরুত্ব দিয়ে মামলাটি তদন্ত করছে বলে জানান তিনি।

মামলার বাদী পক্ষের শুনানি করেন বিজ্ঞ আইনজীবী অ্যাডভোকেট সেলিম আকবর।

মামলার বাদী রবিউল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার ভাতিজার হত্যার বিচার চাইতে গিয়ে আমরা ক্লান্ত। হত্যার ঘটনাটি বর্তমানে পিবিআই তদন্ত করছে। কিন্ত এখনও শাওনের হত্যার দায় কার এবং জড়িতরা কেন তাকে হত্যা করেছে প্রকৃত ঘটনার রহস্য উদঘটনা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, আমার ভাতিজা শাওনের হত্যার কী হবে জানি না। কতবার কত জায়গায় গিয়ে সাক্ষ্য দিয়ে এলাম, কোনো ফল পেলাম না। মরার আগে ভাতিজার হত্যার বিচার দেখে যেতে পারব কিনা তাও জানি না। এখন শেষ ভরসা পিবিআই। জানি না তারা কী করবে?

আমার ভাতিজার হত্যার দ্রুত রহস্য উদঘাটন করে জড়িতদের শাস্তি দেওয়া হোক।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২ নং আসামী নাইমুল ইসলাম এবং ৩ নং আসামি জামাল হোসেন মাদকাসক্ত। তারা প্রধান আসামি শাওনের মা সালমা বেগমের সাথে দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া ও অবৈধ সম্পর্কে গড়ে তুলে এবং ওই সম্পর্কের সুবাদে বিভিন্ন সময়ে তাদের বাড়িতে যাতায়াত ছিল। শাওন বিষয়টি অবগত হওয়ায় ও কয়েকবার স্ব চক্ষে দেখে ফেলায় মা ও ছেলের মধ্যে মানসিক দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। আসামিরা সেই সূত্র ধরে পরস্পরের যোগসাজসে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে মাথায়, কপাল, মুখমণ্ডল ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুরুতর আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়।

শাওনের পরিবারের দাবি হত্যার ঘটনাকে আত্মহত্যার ঘটনায় রূপ দিতে নাটক সাজাচ্ছে আসামীরা। আমরা চাই, দ্রুত যেন আসামি শনাক্ত করা হয়। না হলে আইনের প্রতি মানুষের আস্থা থাকবে না।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে ১৮ নভেম্বর শাওনের বসত ঘরে হত্যা করে। এই ঘটনায় প্রথমে গত ১৯ নভেম্বর নিহত শাওনের মা সালমা বেগম বাদী হয়ে শাহরাস্তি থানায় একটি অপমৃত্যু অভিযোগ দায়ের করেন। এ নিয়ে শাওনের পরিবারসহ এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করে।

পরে শাওনের চাচা গত ২৬ ডিসেম্বর চাঁদপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, শাহারাস্তি আমলী আদালতে ৩ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করে তদন্তের জন্য শাহরাস্তি থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন। সেখান থেকে আসা শুরু তদন্ত প্রতিবেদন না আসায় মামলার বাদী রবিউল ইসলাম উল্লেখিত আদালতে নারাজি প্রদান করে পিবিআইকে তদন্তের জন্য অনুরোধ জানান।

বিজ্ঞ আদালত সকল বিষয় বিবেচনা করে পুনরায় তদন্তের জন্য পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন পিবিআই’কে তদন্তের জন্য নির্দেশ প্রদান করেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’