শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

ফুটপাত দখলে আর ছাড় নয়: হাজীগঞ্জে ডিসির কঠোর হুঁশিয়ারি

মো.মোশারফ হোসেন প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ জুন, ২০২৫, ৮:২৯ পিএম
ফুটপাত দখলে আর ছাড় নয়: হাজীগঞ্জে ডিসির কঠোর হুঁশিয়ারি

হাজীগঞ্জ বাজারের যানজট নিরসনে রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, ব্যবসায়ী, হকার ও সুধীজনের সাথে এক মত বিনিময় সভায় বক্তব্য রাখছেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন।

চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ বাজারে দীর্ঘদিন ধরে চলমান যানজট, পথচারী ভোগান্তি এবং ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানপাটের বিরুদ্ধে এবার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে প্রশাসন।

সোমবার হাজীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ই-সেন্টারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইবনে আল জায়েদ হোসেনের সভাপতিত্বে হাজীগঞ্জ বাজারের যানজট নিরসনে রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, ব্যবসায়ী, হকার ও সুধীজনের সাথে এক মত বিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

জেলা প্রশাসক বলেন “আমরা অনেক মহানুভবতা দেখিয়েছি, আর নয়। হকারদের ফুটপাত ছেড়েই দিতে হবে। তারা কোথায় ব্যবসা করবে সেটা তাদের বিষয়, কিন্তু রাস্তা ছাড়তেই হবে।”

হাজীগঞ্জ বাজারে প্রতিদিন শত শত মানুষ কেনাকাটা ও যাতায়াত করেন। অথচ বাজারের প্রধান সড়ক ও ফুটপাতজুড়ে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনার কারণে চলাচল চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ব্যবসায়ী, পথচারী ও সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এই ভোগান্তি সহ্য করে আসছেন।

Model Hospital

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পথচারীদের চলাচলের জন্য নির্ধারিত ফুটপাত কোনোভাবেই ব্যক্তিগত ব্যবসার জায়গা হতে পারে না। এসব দখলদারিত্বের ফলে শুধু যানজটই নয়, জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স বা ফায়ার সার্ভিসের যান চলাচলও ব্যাহত হয়, যা জননিরাপত্তার জন্যও হুমকি।

জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, অচিরেই অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তে এলাকাবাসী ও সচেতন মহল স্বস্তি প্রকাশ করলেও, অনেকেই বলছেন এ ধরনের উদ্যোগ অতীতেও দেখা গেছে, কিন্তু তা স্থায়ী হয়নি।

হকার পুনর্বাসন নিয়ে প্রশ্ন?

অন্যদিকে, হকারদের পুনর্বাসন না করে সরাসরি উচ্ছেদ মানবিক দিক থেকে প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে এমন মতামতও রয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, প্রশাসনের উচিত একটি সংগঠিত পুনর্বাসন পরিকল্পনার মাধ্যমে তাদের বিকল্প ব্যবস্থা করে দেওয়া।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা এবার যেন বাস্তবায়ন হয়:

বহুদিন ধরেই হাজীগঞ্জ বাজারের অব্যবস্থাপনা নিয়ে নাগরিকদের ক্ষোভ জমে উঠছিল। প্রশাসনের এ ঘোষণায় অনেকেই আশান্বিত, তবে তারা চান এটি যেন কেবল কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে।

জনগণের স্বার্থে, সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনার স্বার্থে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ এবং নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত থাকবে, এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিফাত জাহান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহমেদ তানভীর হাসান, শিক্ষা কর্মকর্তা আবু ছাঈদ চৌধুরী, সমাজসেবা কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন, যুব-উন্নয়ন কর্মকর্তা ফেরদৌস, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিব কুমার, উপজেলা বিএনপির (সাবেক) সভাপতি আলহাজ্ব ইমাম হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম পাটওয়ারী, হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান মাহমুদ, হাজীগঞ্জ পৌর বাজার পরিদর্শক সাফিউল বাসার রুজমন প্রমূখ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’