শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর সদর ৯নং বালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ জুলাই, ২০২৫, ৯:১০ পিএম
চাঁদপুর সদর ৯নং বালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন

চাঁদপুর সদর উপজেলা ৯নং বালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচি উপলক্ষে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব মো. মোশারফ হোসাইন।

চাঁদপুর সদর উপজেলার ৯নং বালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচি উপলক্ষে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বিকালে (১৬ জুলাই ২০২৫) বালিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কারা নির্যাতিত নেতা  আলহাজ্ব মো. মোশারফ হোসাইন। তিনি বলেন, বিএনপি এদেশের গণমানুষের দল। যার প্রতিষ্ঠাতা মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। আমরা শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শের রাজনীতি করি। আমাদের নেতা জনাব তারেক রহমান বাংলাদেশের আগামী দিনের রাষ্ট্রনায়ক। তিনি বিএনপিকে এদের মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার দল হিসেবে পরিনত করতে কাজ করে যাচ্ছেন।

হাজী মোশারফ হোসাইন আরো বলেন, দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান মাধ্যম হচ্ছে নতুন সদস্য সংগ্রহ এবং পুরনোদের সদস্য নবায়ন। বিএনপির প্রতিটি ইউনিটকে শক্তিশালী করতে হলে প্রতিটি এলাকা থেকে ভালো মানুষদের দলের সদস্য করতে হবে। আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে সকল ভেদাভেদ ভুলে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করতে হবে। আপনারা সবাই একসাথে হয়ে দলের জন্য কাজ করবেন। কোন অন্যায়কারীদের বিএনপিতে সুযোগ দিবেন না।

তিনি বলেন ,রাজনীতি নিয়ে কেউ খেলা করবেন না। জিয়া পরিবার সব থেকে বেশী নির্যাতিত, তাই সবাইকে সজাগ থাকতে হবে বিএনপির বিরুদ্ধে কেউ যেন প্রপাগান্ডা ছড়াতে না পারে, কোন অপশক্তি ফায়দা লুটতে না পারে। বিএনপি জনগণের দল।

Model Hospital

তিনি আরো বলেন, বিএনপি জন্য সামনে আরো কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। বিএনপি’র অর্জনকে ম্লান করার জন্য পতীত আওয়ামী লীগ সহ অনেক রাজনৈতিক দল নানাভাবে চক্রান্ত করছে। এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। এদেশের সাধারণ মানুষ এখনো বিএনপিকে ভালোবাসে। মানুষের ভালোবাসা ধরে রাখতে এবং ভালোবাসা অর্জন করতে আমাদের দলের নির্দেশ পালন করতে হবে।

৯ নং বালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন  মিয়াজীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন কাজীর পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সহ দপ্তর সম্পাদক আলহাজ্ব মো. শরীফ আহমেদ খান, সদস্য জিএম মাসুদ রায়হান, সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আলাউদ্দিন তালুকদার, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মো. ওয়ালিউল্লাহ খান।

এসময় আরো বক্তব্য রাখেন, ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি হাজী রফিকুল উল্লাহ মিয়াজী, কাজী হাবিবুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক ফারুকুল ইসলাম বেপারী, কোষাধ্যক্ষ কাজী মাইনুদ্দিন, ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি এজাজ তালুকদার, সিনিয়র সহ-সভাপতি নিয়াজ মোর্শেদ, সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ তালুকদার, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি হাবিব খান, ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি খালেক বেপারী, মহিলা দলের  নেত্রী রুমা আক্তার প্রমুখ।

এছাড়াও ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। এসময় ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল, মহিলা দলসহ সকল অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’