শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শতাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে গাছের চারা বিতরণ করল আইডিয়াল সমাজসেবা ফাউন্ডেশন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১০:৪৭ এম
শতাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে গাছের চারা বিতরণ করল আইডিয়াল সমাজসেবা ফাউন্ডেশন

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার সুনামধন্য অরাজনৈতিক, স্বেচ্ছাসেবী ও সমাজসেবামূলক সামাজিক সংগঠন আইডিয়াল সমাজসেবা ফাউন্ডেশন এর উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মাঝে শতাধিক গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার ৬নং গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের খাজুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির মোট ১০৭ জন শিক্ষার্থীর হাতে ওষধিগুণসম্পন্ন নীম এবং পুষ্টিগুণসম্পন্ন আমলকী গাছের চারা তুলে দেন সংগঠনের সদস্যরা।

আইডিয়াল সমাজসেবা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক পারভেজ মোশারফের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বৃক্ষরোপণ ও গাছের পরিচর্যার গুরুত্ব নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতামূলক বক্তব্য রাখেন খাজুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রাজিয়া আক্তার, বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিনিধি ইকবাল হোসেন, ৬নং গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক মেহেদী হাসান গাজী।

Model Hospital

আইডিয়াল সমাজসেবা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক পারভেজ মোশারফ বলেন, আমরা গত ৬ বছর ধরে করোনা, বন্যা, জলাবদ্ধতাসহ নানান পরিস্থিতিতে ধারাবাহিকভাবে স্বেচ্ছাসেবী, সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। এ মৌসুম বৃক্ষরোপণের উপযুক্ত সময় হলেও আমরা এবার শিক্ষার্থীদের হাতে গুরুত্বপূর্ণ দুই প্রজাতির গাছের চারা তুলে দিয়েছি। কারণ, স্কুল-মাদ্রাসা বা রাস্তার পাশে গাছ লাগানো হলেও সেগুলোর সঠিক পরিচর্যা হয় না। কিন্তু শিক্ষার্থীরা নিজের হাতে গাছ লাগালে এবং যত্ন নিলে গাছ টিকে থাকবে।

পারভেজ মোশারফ আরো বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের গাছের গুরুত্ব, পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা এবং পরিচর্যার উপায় সম্পর্কে সচেতন করেছি। আশা করি, তারা আমাদের এই উপহার যথাযথভাবে লালন করবে এবং ভবিষ্যতে এই গাছ থেকে নিজেরা ও সমাজ দু’জনেই উপকৃত হবে।

এই সময় অনুষ্ঠানে খাজুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীগণ, আইডিয়াল সমাজসেবা ফাউন্ডেশনের  সদস্য হাচান আটিয়া, নাঈম চৌধুরী, তাজুল ইসলাম, শান্ত ভূইয়া, হিরা পাটোয়ারীসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’