শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

হাজীগঞ্জে ১৬০০ পিস ইয়াবাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৭:৩৫ পিএম
হাজীগঞ্জে ১৬০০ পিস ইয়াবাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নেতৃত্বে পরিচালিত যৌথ টাস্কফোর্স অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদক ব্যবসায়ীকে মো.মোয়াজ্জেম হোসেনকে আটক করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর ) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন  মকিমাবাদ (৪নং ওয়ার্ড) কলিমুদ্দিন বেপারি বাড়িতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী মোয়াজ্জেমের বাড়ির একটি শয়নকক্ষে কাঠের খাটের নিচ থেকে মোট ১ হাজার ৬৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ৮টি পলিজিপার প্যাকেট জব্দ করা হয়। এছাড়াও মাদক বিক্রির নগদ ৪২ হাজার টাকা এবং দুটি স্মার্ট মোবাইল ফোন (একটি ভিভো ও একটি আইফোন ১৫) উদ্ধার করা হয়।

আটককৃত মো. মোয়াজ্জম হোসেন (৩৮)। তিনি হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মকিমাবাদ গ্রামের কলিম উদ্দিন বেপারী বাড়ির শাহজাহানের ছেলে। স্থানীয়ভাবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

Model Hospital

অভিযানে নেতৃত্ব দেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ‘খ’ সার্কেলের ইন্সপেক্টর মো: তাজুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন হাজীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাবেদ হোসেন চৌধুরী, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী হাজীগঞ্জ ক্যাম্পের সি: ওয়ারেন্ট অফিসার ইমদাদুল হক এবং আরও ২০ জন সেনা সদস্য।

আটককৃত মোয়াজ্জম হোসেনের বিরুদ্ধে হাজীগঞ্জ থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে।

অভিযান পরিচালনাকারী ইন্সপেক্টর মো: তাজুল ইসলাম বলেন-চাঁদপুর জেলায় মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। মাদকের সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে।”

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহিউদ্দিন ফারুক জানান-আসামিকে আটক করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। আমরা তদন্ত করে আরো যারা মাদক ব্যবসায়ের সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেব।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল মাদক দমন অভিযানে প্রশাসনের এমন কঠোর পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এলাকাবাসী মনে করছেন, এই ধরনের অভিযান নিয়মিত হলে মাদক ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য অনেকাংশে কমে আসবে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’