শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে স্বাস্থ্য সহকারীদের ছয় দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকাল কর্মবিরতি

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: রবিবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৫, ১০:০৪ পিএম
শাহরাস্তিতে স্বাস্থ্য সহকারীদের ছয় দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকাল কর্মবিরতি
শাহরাস্তিতে  স্বাস্থ্য সহকারীদের ছয় দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকাল কর্মবিরতি শুরু করেছেন।
শনিবার (৫ অক্টোবর) সকাল থেকে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ হেলথ এসিস্ট্যান্ট এসোসিয়েশন, শাহরাস্তি উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা এ কর্মসূচি পালন শুরু  করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ই.পি.আই) সহ তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনাকারী স্বাস্থ্য সহকারী, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য পরিদর্শকরা ছয় দফা দাবির বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন। তারা তাদের  যে দাবিগুলো নিয়ে আন্দোলনের নেমেছেন তা হল, স্বাস্থ্য সহকারীদের দাবীকৃত নিয়োগ বিধি সংশোধন, ইন সার্ভিস ট্রেনিং প্রদান, ১৪তম গ্রেডে আপগ্রেডেশনসহ মোট ছয় দফা দাবি বাস্তবায়ন।একই সঙ্গে তারা বলেন, এই দাবিগুলোর বাস্তবায়ন না হওয়ায় তারা ই.পি.আই কার্যক্রম, আসন্ন টিসিভি টিকাদান ক্যাম্পেইনসহ  সকল কার্যক্রম বর্জনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সংগঠনের শাহরাস্তি উপজেলা
সভাপতি রুহুল আমিন বলেন, ১৯৭৭ সালের নিয়োগ বিধিতে আমাদের ১৬তম গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও তা আজও বাস্তবায়ন হয়নি। ১৯৯৮ সালে তৎকালীন সরকার টেকনিক্যাল স্কেল ঘোষণা করলেও সেটিও কার্যকর হয়নি।
২০১৮ সালে আমরা ১৮ দিন কর্মবিরতিতে ছিলাম। তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম আশ্বাস দিলে কর্মস্থলে ফিরেছিলাম, কিন্তু প্রতিশ্রুতি আজও বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি আরও বলেন, “২০২৫ সালের মে মাসে জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে আন্দোলন করেও কোনো সুরাহা পাইনি। এবার আমাদের দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক, স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও শাহরাস্তি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের স্বাস্থ্য সহকারীরা।
উল্লেখ্য, সারাদেশের মতো শাহরাস্তিতেও এই কর্মবিরতির ফলে তৃণমূল পর্যায়ের টিকাদান ও জনস্বাস্থ্য কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনেক ঠিকা সেবা গ্রহণকারী বিভিন্ন বয়সী মানুষ এসে বিড়ম্বনার শিকার হতে দেখা গেছে। এতে জনদুর্ভোগ পৌঁছেছে চরমে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’