শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

কিংবদন্তি কথাশিল্পী বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় স্মরণে প্যাপিরাস পাঠাগারে সাহিত্য আড্ডা

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২৫, ৭:৫৫ পিএম
কিংবদন্তি কথাশিল্পী বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় স্মরণে প্যাপিরাস পাঠাগারে সাহিত্য আড্ডা

‘প্রাণের শক্তি বাড়ায় বই, বই পড়ে মানুষ হই’স্লোগানে গত ১০ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে প্যাপিরাস পাঠাগার। যুবসমাজকে বইমুখী করতে ইতোমধ্যে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতি সপ্তায় দেশবরেণ্য কবি-সাহিত্যিকদের স্মরণে সাহিত্য আড্ডা ও আলোচনাসভার আয়োজন করে আসছে। কিংবদন্তি কথাশিল্পী বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় স্মরণে আবর্তিত ছিলো এবারের সাহিত্য আড্ডা।

শুক্রবার ১৪ নভেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টায় চাঁদপুর শহরের জেএম সেনগুপ্ত রোডস্থ চাঁদ টাওয়ারে অবস্থিত প্যাপিরাস পাঠাগার কার্যালয়ে কিংবদন্তি কথাশিল্পী বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় স্মরণে সাহিত্য আড্ডা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

পাঠাগারের উপদেষ্টা মোহাম্মদ শাহ আলমের সভাপতিত্বে ও প্রধান পরিচালক মিজানুর রহমান স্বপনের সঞ্চালনায় বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘জীবন ও সাহিত্য’ সম্পর্কে আলোচনা করেন পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা অ্যাডভোকেট রফিকুজ্জামান রণি, উপদেষ্টা দিলীপ ঘোষ, উপ-সভাপতি ফেরারী প্রিন্স, নির্বাহী সদস্য নাজমুল ইসলাম, আবৃত্তিশিল্পী আমির হোসেন বাপ্পি, কলেজ শিক্ষিকা মানসুরা বেগম, চিত্রশিল্পী তাফাজ্জল হোসেন তাপু, দৈনিক মুক্তির লড়াইয়ের জেলা প্রতিনিধি মাইনুদ্দিন জীবন, আবদুর রব ফাউন্ডেশনের সদস্য সচিব জায়েদুর রব জাহেদ, ভাসানী পরিষদের কর্ণধার সাইফুল ইসলাম রাজিব ও সাহিত্যানুরাগী আকবর হোসেন লিটন।

পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা অ্যাডভোকেট রফিকুজ্জামান রণি বলেন, পথের পাঁচালী উপন্যাস বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে অমর করে রাখবে। অপু এবং দুর্গা চরিত্রের ভেতর দিয়ে তিনি দরিদ্রপীড়িত সমাজের বসবাসকারী মানুষের শৈশব ও কৈশোরের জীবনচিত্র অত্যন্ত নান্দনিকভাবে তুলে ধরেছেন। বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ উপন্যাসগুলোর কথা তুললে পথের পাঁচালীর নাম অনায়াশে চলে আসে। সত্যজিৎ রায় পথেরে পাঁচালী উপন্যাসকে চলচ্চিত্রে রূপদান করে আর্ন্তজাতিকভাবে খ্যাতি অর্জন করেন।

Model Hospital

সভাপ্রধান মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় তার আরণ্যক গ্রন্থে মানুষের জীবনের সঙ্গে অরণ্যের নিবিড় সম্পর্কের কথা তুলে ধরেছেন। জঙ্গলে বসবাসরত নানা শ্রেণিপেশার মানুষের সহজ-সরল জীবনচিত্র তুলে ধরেছেন তিনি। তার লেখায় প্রকৃতির বিচিত্ররূপ এবং মানুষের দুঃখদুর্দশার ছাপচিত্র দেখতে পাই আমরা।

অনুষ্ঠানে কিংবদন্তি কথাশিল্পী বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবন ও সাহিত্য সম্পর্কে প্রাণবন্ত আলোচনায় অংশ নেন বক্তারা।

সব শেষে চা-চক্রের আয়োজন করা হয়।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’