শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

দৈনিক চাঁদপুর সময় পত্রিকার একযুগ পূর্তি উৎসব

সাংবাদিকতা শুধু পেশা নয়, এটি একটি নৈতিক দায়বদ্ধতা : কাজী ইব্রাহীম জুয়েল

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২৫, ৯:১০ পিএম
সাংবাদিকতা শুধু পেশা নয়, এটি একটি নৈতিক দায়বদ্ধতা : কাজী ইব্রাহীম জুয়েল

নদী বিধৌত চাঁদপুর জেলার গণমাধ্যম অঙ্গনে এক উজ্জ্বল মাইলফলক স্পর্শ করল জনপ্রিয় দৈনিক চাঁদপুর সময়। পত্রিকাটির একযুগ পূর্তি উপলক্ষে ১৭ নভেম্বর সোমবার পত্রিকা কার্যালয় মিলনায়তনে দিনব্যাপী উৎসবমুখর নানা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

সকাল থেকেই পত্রিকা কার্যালয়ে সমবেত হন জেলার বিভিন্ন উপজেলার সাংবাদিক, প্রতিনিধি, পাঠক ও শুভাকাঙ্খীরা। কর্মসূচির মধ্যে ছিল আলোচনা সভা, প্রতিনিধি সম্মেলন, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল ও একটি কাব্য গন্থের মোড়ক উন্মোচন। যা পুরো আয়োজনকে সাংস্কৃতিক সৌরভে এবং আধ্যাত্মিক আবহে একত্রিত করে।

উৎসবের উদ্বোধন করেন তিনটি সংবাদ মাধ্যম দৈনিক চাঁদপুর সময়, চাঁদপুর টাইমস এবং দৈনিক মতলবের আলো এর সম্পাদক ও প্রকাশক, বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম জুয়েল। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “চাঁদপুরের সাংবাদিকতার ভুবনে সময় পত্রিকা এক যুগ ধরে যে আলোর শিখা বহন করে আসছে, তা সত্যিই অনন্য। জনগণের আস্থা ও সত্যের পক্ষে অটল থাকাই আমাদের শক্তি। এটাই আমাদের দায়িত্ব।”

তিনি আরো বলেন, সাংবাদিকতা শুধু পেশা নয়, এটি একটি নৈতিক দায়বদ্ধতা। আপনাদের মেধা, শ্রম এবং ঘামের জন্যই আজকে চাঁদপুর সময় জেলাবাসির কাছে সত্য-নিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম হয়ে উঠেছে। এজন্য আপনাদের আরো বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে। তথ্যের সত্যতা যাচাই, নিরপেক্ষতা ও পেশাগত সততা বজায় রেখে কাজ করতে হবে। সমাজের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরার পাশাপাশি অন্যায়ের বিরুদ্ধেও নির্ভীকভাবে লিখতে হবে।”

Model Hospital

দৈনিক চাঁদপুর সময়-এর প্রধান সম্পাদক এম ফরিদুল ইসলাম উকিলের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন পত্রিকার প্রকাশক মো. এরশাদ খান, দৈনিক মতলবের আলো পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কে এম মাসুদ, চাঁদপুর টাইমস- এর সহ-সম্পাদক আব্দুল গণি, সহ বার্তা সম্পাদক আব্দুস সালাম দেওয়ান।

একযুগ পূর্তি উৎসব উপলক্ষ্যে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিভিন্ন পরামর্শ এবং প্রস্তাবনা তুলে ধরে সাংবাদিক প্রতিনিধিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, দৈনিক চাঁদপুর সময় ও চাঁদপুর টাইমস এর কচুয়া প্রতিনিধি জিসান আহমেদ নান্নু, চাঁদপুর টাইমস এর হাজীগঞ্জ প্রতিনিধি জহিরুল ইসলাম জয়, দৈনিক চাঁদপুর সময় এর ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি মো. জাকির হোসেন, মতলবের আলো পত্রিকার প্রতিনিধি মোঃ মঞ্জুর আলম, চাঁদপুর টাইমস এর স্টাফ রিপোর্টার সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী, দৈনিক চাঁদপুর সময় এর স্টাফ রিপোর্টার মুহাম্মদ বাদশা ভুঁইয়া, দৈনিক চাঁদপুর সময় এর চাঁদপুর সদর উপজেলা প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম।

এছাড়া অনুষ্ঠানে দৈনিক চাঁদপুর সময়ের এক যুগ পূর্তি উপলক্ষ্যে প্রধান সম্পাদক রচিত একটি শিশুতোষ কাব্যগন্থ “ইচ্ছের বাঁধন” এর মোড়ক উন্মোচন করেন পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম জুয়েল।
অনুষ্ঠানে সাংবাদিক প্রতিনিধিরা পত্রিকার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, “নির্ভরযোগ্য তথ্য, পাঠকবান্ধব উপস্থাপন এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার কারণে সময় পত্রিকার অবস্থান আজ চাঁদপুর বাসীর কাছে বিশ্বাসযোগ্য একটি গণমাধ্যমের নাম। আগামী দিনগুলোতেও এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

বক্তারা সময় পত্রিকার একযুগের পথচলাকে চাঁদপুরের গণমাধ্যমের ইতিহাসে মর্যাদাবহুল অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন। তারা একযুগ পেরিয়ে দৈনিক চাঁদপুর সময় নতুন উদ্দীপনা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য : ২০১৩ সালের ১৭ নভেম্বর পত্রিকাটির অনুমোদন লাভ করে প্রকাশনায় আসে। এর পর থেকে পত্রিকাটি অনেক চড়াই উৎরাই পেড়িয়ে আজ প্রকাশনার একযুগ পূর্ণ করলো।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’